ফোবিয়া (Phoebia)

চন্দনা সেনগুপ্ত

ফোবিয়া এক ধরণের Irrational Nature এটা একধরণের Anxiety disorder ও বলা যায়। ছোটবেলায় অর্থাৎ শিশু বয়সে কোন কিছু থেকে ভয় পেয়ে মস্তিষ্কে একটা চিন্তার বীজ বপন হয়ে যায়, সে নিজেও তার খবর জানতে পারে না। পরবর্তীকালে হটাৎ সেই বস্তুকে দেখে বা, সেই পরিস্থিতিতে এলেই একটা আতঙ্ক ভূত যেন তাকে আক্রমণ করে, অর্থাৎ একে panic attack ও বলা যেতে পারে। তখন তাকে খুব অস্বস্তিকর অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়। বিদেশে এইরকম বিভিন্ন ধরণের অদ্ভুত অদ্ভুত ফোবিয়ার কারনে দাম্পত্য জীবনেও ঘটে যায় বিচ্ছেদ।
এই লেখনীতে মনোবিজ্ঞানীর কথা বিশ্লেষণের অবকাশ নেই। শুধু কয়েকটি ফোবিয়ার কথা স্মরণে আসায় এবং তা নিয়ে হাস্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় - লেখিকা সেগুলি শেয়ার করে নিতে এই ভুমিকা রচনা করেছেন।
ফোবিয়ার বাংলা যদি ভয় বা 'আতঙ্ক' হয়, তাহলে বলবো সেটা যে কি ধরনের তা নিয়ে আমার অনেক সংশয় আছে।
কারো ভয় অন্ধকারকে। ছোট থেকেই সে একলা ঘরে আলো নিভে গেলেই ভয়ে একেবারে ভীষণ কেঁদে ওঠে। কাজেই তাকে ঘুমের মধ্যে ওর ঘরে আলো জ্বেলে রাখতে হয়।
কেউ বা ভয় পান ঘর বা লিফটে বন্ধ হয়ে যাওয়াকে। হঠাৎ হাওয়ায় দরজা বন্ধ হয়ে গেলে কিম্বা ১৬ তলায় যাওয়ার আগে ৭ তলাতেই লিফট আটকে গেলে সে ঘেমে, কেঁদে একেবারে হার্ট অ্যাটাকের জোগাড় হয়ে যায়।
খুব উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে নিচে তাকাতে ভয় পান কেউ কেউ সেও এক ফোবিয়া। ২০ তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিচে তাকালেই মনে হয়, এই বুঝি আমি আমার দেহকে কন্ট্রোল করে রাখতে পারব না, নিচে পড়ে যাব।
এরকম নানা ভয়ের মধ্যে পোকা মাকড়ের ভয়টা বিশেষ করে নজরে আসে। যেমন দেওয়ালে নিরীহ টিকটিকি পোকা খেয়ে বেড়াচ্ছে হঠাৎ ফুল শয্যার খাট থেকে নতুন বৌ এক লাফে নেমে দরজা খুলে বাইরে পালিয়ে গেল। নতুন বর কিছু বোঝার আগেই সে পাশের ঘরে অপেক্ষারত দিদি, দাদা বৌদিদের মাঝে ধপাস করে পড়েই কাঁপতে থাকে।
কি হয়েছে? কি হয়েছে? নতুন বৌয়ের মৃগী রোগ আছে নাকি? - এসব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেল। তখন তার সঙ্গে আসা কনে বৌয়ের ছোট ভাইটি বলে উঠল, দেখুন তো ঐ ঘরে কোন টিকটিকি আছে কিনা? টিকটিকিকে দিদির ভীষণ ভয়। হাসির ফোয়ারা উঠে সারা বিয়ে বাড়িকে মাতিয়ে দিল। তারপর প্লাস্টিকের টিকটিকি দেখিয়ে দেওর সারা বাড়ি ছুটিয়ে বেড়াতে লাগল মজা করে।
এরপরে আমার হোস্টেল জীবনের একটি ঘটনার কথা মনে পরে গেল। একবার হোস্টেলে স্নানের ঘন্টা পড়লে - একসঙ্গে ৬টা বাথরুমে ৬ জন মেয়ে স্নান করতে আরম্ভ করেছে। কেউ গান ধরেছে "আগুন জ্বালো আগুন জ্বালো, ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে" - ১৫ই আগস্টের জন্য হয়তো তিনি প্রাকটিস করছেন, সাবান মাখতে মাখতে। কেউ আবার ধপা ধপ করে কাপড়ে আছাড় দিতে শুরু করেছেন, কেউ আবার মাথায় জল ঢালছেন, এমন সময় গান শোনা গেল, সংকোচের বিহ্বলতা নিজের অপমান, সঙ্কটের কল্পনাতে হইওনা ম্রিয়মান - আ - আ - আ, সকলের জলের আওয়াজ ছাপিয়ে শোনা গেল এক অদ্ভুত আর্তনাদ - সেই আ - আ থেকে অ্যা, অ্যা, অ্যা. . . . . বাইরে যারা তোয়ালে ও সাবান হাতে ওয়েট করেছিলো এদের স্নান হলে বাথরুমে ঢুকবে বলে, তারা তো অবাক। ওরে কার কি হল রে? বেরো বেরো তাড়াতাড়ি দরজা খোল। দু নম্বর বাথরুমের মেয়েটি দরজা খুলেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরল। তার ঐ অবস্থা দেখে সবাই ঘাবড়ে গেল। ছুটে এলেন সুপার দিদি, অন্যান্য কাজের মাসীরা। চোখে মুখে জল দেবার দরকার ছিল না, তার তো সারা মাথায় গায়ে জল ঝরছে। তোয়ালে জড়িয়ে ড্রেসিং রুমে শোয়ানো হল, অনেক কষ্টে একটু স্বাবাভিক হয়ে সে বললে - মা - মা মাকড় - সা। একটি ফচকে ফাজিল মেয়ে তখন গান ধরেছে - বসন পরো মা - - - মাকড় - - - সার মহিমা - - ।
চোর ডাকাতদের মতো সাহসী লোকদেরও যে ফোবিয়ার স্বীকার হতে হয়, এই ঘটনাটি তারই প্রমান দেয়। একজন চোর খুব ধীরে ধীরে একজনের বাড়ির পাইপ ধরে ধরে ওপরে উঠছে, নিচে দাঁড়িয়ে আছে ওর দুজন বন্ধু। এই ছেলেটি খুব হালকা, রোগা পাতলা। ও ওই ওপরের বারান্দায় গিয়ে সিঁড়ির দরজাটা খুলে দেবে, তারপর এরা সেখানে। প্ল্যানটা এরকমই ঠিক করা ছিল। হঠাৎ ভীষণ গোঁ গোঁ আওয়াজ বেরুতে লাগল তার মুখ থেকে। না পারছে পাইপটা ছাড়তে না পারছে ওপরে চড়তে। - "ক্যেয়া হুয়া, ক্যেয়া হুয়া" - বলছে নিচের বন্ধুরা। বাড়ির লোক সব উঠে পড়ল, নিচের বন্ধু দুটো পাইপ ধরে চিৎকার করতে থাকা ছেলেটাকে ছেড়ে চম্পট দিল। গেটের চৌকিদাররা সব ছুটে এল ঐ এপার্টমেন্টের নিচে। একেবারে হৈ হৈ রৈ রৈ কান্ড। এদিকে চোর নিজেই ভয়ে আতঙ্কে শুধু চিৎকার করে চলেছে - চ - চ - চ । এবার ব্যালকনিতে বেরিয়ে এসে বাড়ির কর্ত্তা হাঁক দিলেন, তাকে - "এ্যাই হতভাগা চোর, চোপ একদম  চোপ। শালা ড্রামা করতা হ্যায়? উপর আ জা। পাইপে চড়না নেহী আতা তো চোরি করনে কিঁউ করনে আয়া"?
- এবার একটু ধাতস্থ হল সে। কোনো রকমে বাড়ির রেলিং ধরে ব্যালকনির দোতালায় উঠে এল। সেই পরিবারের চাকর নিজেকে একটু হিরো মনে করে - খুব উৎসাহ নিয়ে চোরের পিঠে দু ঘা দিতে এগিয়ে এল। কর্ত্তা বাবু তাকে থামালেন। নিজের স্ত্রীকে বললেন, আগে এক গ্লাস জল খাওয়াও বেটাকে, এতো ভয়ে এখনও কাঁপছে।
কর্ত্তাবাবুর দয়া দেখে চোর যেন ধরে প্রাণ ফিরে পেল। -
চাকরদাদা প্রশ্ন করল - "চিল্লাকর পাড়া মাৎ কিউ কিয়া, শান্তি সে আ নেহী সাকতা"?
চোর উত্তর দিল - চুহা - চুহা - থা।
কর্ত্তাবাবু হাসতে হাসতে বললেন - যো এক চুহা দেখে এতো ভয় পাতা হ্যায়, সে কি কোনোদিন "সাকসেসফুল চোর" বান সাকতা।
ব্যাপারটা বুঝতেই চাকরটি ফক্কোড়ি করে একটি নেংটি ইঁদুর এর ল্যাজ ধরে এনে ধরলো সেই চোর বেচারার সামনে, চোর সঙ্গে সঙ্গে ভিরমি খেয়ে - বাবুজি বাঁচাও বলে একেবারে কুপোকাৎ।
এরপরে আমার এক বন্ধুর বাড়িতে আর একটি মজার ঘটনার স্বাক্ষী ছিলাম সেটিও আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। মুখার্জীবাবুর বাড়ি অনেক লোকজন এসেছেন, মেয়ের পাকা দেখা। বড় বড় রসগোল্লা, পান্তোয়া, সন্দেশ - কতরকমের মিষ্টির সমারোহ হয়েছে। খুব সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে মেয়ে কে আনা হল, বর পক্ষের সামনে। সে একটি ট্রে তে শরবতের গেলাসগুলি নিয়ে আসতে আসতে মডেলের মতো পা ফেলে ফেলে মুচকি হেঁসে ঠিক যখন ছেলের বাবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, তখনি তার চোখ পড়ল মিষ্টিগুলির দিকে, থমকে দাঁড়ালো সে। কথা ছিল ট্রে টি টেবিলে নামিয়ে সবাইকার দিকে গেলাসগুলি এগিয়ে দেবার পর, ছেলের বাবার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করবে, কিন্তু একি সে যে আর এগুতে চাইছে না, পিছতেও পারছে না, একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে ঐ মিষ্টিগুলির দিকে। মেয়ের দিদি পিছনে এসে দাঁড়িয়ে একটু ঠেলা দিল তাকে। মেয়ের ট্রে উল্টালো ছেলের বাবার ওপরে, জলে শরবতে ভিজে তিনি ঘাবড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ালেন, মেয়েও ততক্ষনে সেখান থেকে এক ছুটে ক্ষমা টমা না চেয়ে ঘরের মধ্যে পালিয়ে গেল। লজ্জায় লাল হয়ে মা শুধু বললেন, কয়েকটি ডেউ পিঁপড়ে রয়েছে ঐ থালায়। একবার এক কালো বড় ডেউ পিঁপড়ে ওকে কামড়েছিল সেই থেকে - - তাঁর কথা শেষ হল না, সেই রসিক শ্বশুর মশাই হো হো করে হেসে উঠলেন, আমি ভাবলাম গোখরো সাপ দেখেছে বুঝি। ভদ্রলোকরা পিঁপড়ে সরিয়ে মিষ্টিও খেয়ে গেলেন গপাগপ করে। পরবর্তীকালে মেয়েটির বর মেয়েটিকে বশে আনবার একটি ভালো উপায় খুঁজে পেল। সে কাছে আসতে না চাইলেই ভয় দেখায় - আমার কথা শুনবে না তো ঐ তোমার ডেউ পিঁপড়ে ধরে আনছি।
এইরকম একই ধরণের ফোবিয়ার জন্য এক হাস্যকর অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিলেন একটি সুন্দরী তরুণী চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে। অফিসে এয়ারহোস্টেসের ইন্টারভিউ নেওয়া হচ্ছে। খুব সুন্দর একটি মেয়ে চটপট সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। হঠাৎ তার মুখ চোখ পাল্টে গেল। সামনে না তাকিয়ে সে যেখানে বসে আছে সেই টেবিলের নিচে কি যেন দেখে ঘাবড়ে গেছে। মুখে চোখে আতঙ্ক। একজন বয়স্ক অফিসার কিছু আঁচ করলেন। বুঝতে পারলেন মেয়েটির মন তাদের দিকে নেই। এখন সে কোনো প্রশ্নই শুনতে পারছে না। ক্রমশ চেয়ারের এক কোনায় কাত হয়ে যাচ্ছে। 'কি হল তোমার' অসুস্থ বোধ করছো না কি'? ‘Are you not comfortable’? কোনো রকমে সে উচ্চারণ করল - স্যার, স্যার টেবিলের নিচে "আরশোলা I mean cockroach"। বেল বাজিয়ে পিওন কে ডাকলেন বড় বাবু। টেবিলের ওপরে নিচে ডাস্টিং করতে পারো না ঠিক করে - ভীষণ বকুনি খেল সে। এয়ারহোস্টেস পদে যোগ্য পাত্রী তখন সম্বিৎ ফিরে পেয়েছেন। স্মার্ট মেয়ে এবার উল্টে ঐ অফিসারদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিল - "প্লেনে আরশোলারা থাকবে না তো"? উত্তরটা না শুনে নিশ্চিন্ত হল সে।
তবে দুটো সুন্দর জিনিষেরও ফোবিয়ার কথা জানতে পারলাম সেদিনে। "পালক ফোবিয়া" যাকে 'Petro phobia' বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। একটি পায়রার পালক হার্মলেস, হালকা সুন্দর কিন্তু সেটি গায়ে এসে পড়তেই একেবারে মনোবিকারের শিকার ছেলেটি লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে অস্থির। স্কুলে, কলেজে এই অতি তুচ্ছ জিনিষের ভয় নিয়ে তাকে অনেকবার অপদস্ত হতে হয়েছে, তার জীবন সাথী বিপদটা অনুধাবন করে। ধীরে ধীরে তার পাশে বসে নানা নরম জিনিষ, পাউডারের পাফ, তুলো ও ছোট ছোট পালক এনে তার কাছে রেখে গায়ে পিঠে হাত বুলিয়ে তাকে ঐ ভয় মুক্ত হতে সাহায্য করে।
এবার আর একটি অতি সুন্দর জিনিষ দেখেও আতঙ্কিত হবার মতন ঘটনাও লক্ষ্য করা যায়। দুটি ভিন্ন দেশের ছেলে মেয়ের বন্ধুত্ব হল, আমেরিকার এক বিশ্ববিদ্যালয়ে। একদিন পূর্ণিমার রাতে সমুদ্রের ধারে তারা বসে আছে। হঠাৎ মেয়েটি ভয়ে মুখ ঢাকলো দু হাতে। ছেলেটি অবাক। এত সুন্দর মূহুর্ত্ত। কোন খারাপ ব্যবহারও সে করেনি। মেয়েটি তখন জল খেতে চাইছে, বাড়ি যাবার জন্য কাঁদছে। তাড়াতাড়ি গাড়িতে করে বাড়ি এনে ধাতস্ত করে জানতে চাইল সে, - কি দেখেছিলে ওখানে তুমি? ভূতের ভয়, কোন কিছু কাল্পনিক দৈত্য দানব - ছায়া অশরীরী অবয়ব কি তোমাকে ভয় দেখালো? সে আলতো করে উত্তর দিল চাঁদ, তাকে নিয়ে ছেলেটি ছুটলো মনোবিজ্ঞানীর কাছে। জানা গেল ছোটবেলায় কেউ তাকে পূর্ণিমার চাঁদকে রাক্ষসের চোখ বলে ভয় পাইয়েছিল। ধীরে ধীরে প্রিয় বন্ধুর চেষ্টায় সেই selenophobia থেকে বেরিয়ে এল মেয়েটি। বিয়ের পরে চাঁদনী রাতে তাজমহল দেখে মুগ্ধও হল এবং স্বামীকে ধন্যবাদ দিল।
পৃথিবীতে সাপকে ভয় পায় না এমন লোক খুব কমই আছেন। কিন্তু সেই ভয় যখন আতঙ্কে দাঁড়ায়, তখন অনেক সময় তাকে ফোবিয়া বলা যেতে পারে। এরকম একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে পাঠকের চোখের সামনে এক লঘু পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই।
উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ যাত্রায় একটি বিদুষী বাঙালী কন্যার একজন আমেরিকান ছেলের সঙ্গে প্রথম প্রণয় ও পরে পরিণয় হয়ে যায়। বিয়ের পর প্রথম সাহেব জামাই বাঙালি ললনার পিতৃগৃহে অর্থাৎ শ্বশুরবাড়ি ভ্রমণ করতে আসেন। জগতে আর কোন জাতি বা দেশের লোক জামাইকে এমন আদর করতে পারেন বলে লেখিকার জানা নেই।
জামাই বরণ অষ্টমঙ্গলায় জামাইয়ের সমাদর এবং শেষে একটি বিশেষ দিনে জামাইষষ্ঠীর উৎসব। আম কাঁঠালের সঙ্গে দই, মিষ্টি, মাছ, মাংস বা পোলাও কালিয়ার সমারোহ - আতিশয্য এই অনুষ্ঠানে দেখবার মতন।
এ ক্ষেত্রেও ঐ গোরা জামাইকে নিয়ে - সবাই যেন সার্কাসের জোকার দেখেছেন। ধুতি পাঞ্জাবী পরিহিত সেই জামাইকে নিয়ে মেয়েটির গ্রামের বাড়িতে ভীষণ রকমের মাতামাতি শুরু হয়েছে। জামাইও খুব উপভোগ করছেন, সারাদিন বেশ আনন্দেই কাটল, সন্ধ্যের সময় তিনি "I will take bath now" বলে উঠোনের অপরপ্রান্তে কুয়োতলার পাশের বাথরুমে প্রবেশ করলেন। একটু পরেই তার ধুতি বগলে নিয়ে আন্ডারওয়ার পড়া জামাই স্নেক স্নেক বলে চিৎকার করতে করতে বেরিয়ে এলেন। শ্যালক, শ্বশুর, চাকর বাকর যে যেখানে ছিল ছুটলো লাঠি সোটা নিয়ে। কাঁপতে কাঁপতে সাহেব বারান্দায় উঠে এলেন। আলো, টর্চ ফেলে ডান্ডার আওয়াজ করেও কিন্তু সাপ পাওয়া গেল না। ছোট্ট একটি বাচ্চা কুয়োর দড়িটাকে দেখিয়ে বললো, সাহেব পিশো এটাকে সাপ ভাবেনি তো। শাশুড়ি বললেন ঠিক আছে যা দেখেছে দেখুক, সাপ যখন পাওয়া যায়নি তখন ও নিয়ে আর কথা বলতে হবে না। আতংকিত জামাই এক কাপ কফি খেয়ে শুতে চলে গেলেন স্ত্রীর সঙ্গে।
মশারী টাঙানো দেখে আবার বিভ্রাট, স্ত্রী ইংরেজিতে মশা, বিছে ও পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচবার জন্যে যে এই নেট টাঙানো হয় তা বোঝালেন।
মাঝরাতে হটাৎ শোরগোল শোনা গেল তাদের ঘর থেকে। খাট থেকে লাফ দিয়ে নিচে নামলো মেয়েটি। আলো জ্বালতেই দেখতে পেল মশারী ছিঁড়ে জালে আটকে পড়া বড় কাতলা মাছের মতন ছটফট করছেন সে সাহেব বর। দরজা খুলে দিলে বাড়ির বাকি লোকেরাও ঢুকে পড়লেন সেই ঘরে। কি হয়েছে? what happend? - ও মা, কি হবে গো, ওকে টেনে বের করো - ইত্যাদি আওয়াজে চিৎকারে সাহেব আরও ঘাবড়ে গেল। একটু জল খেয়ে ধাতস্থ হয়ে কোনরকমে স্ত্রীকে ফিস ফিস করে বললেন - snake on my hand। এবার মেয়েটি তার মাথার লম্বা বিনুনিটি দেখিয়ে বললেন, "এইটা"? সাহেব জামাই একদম সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন। এবার কিরকম অপ্রস্তুত অবস্থা তার তা আপনারা সকলেই বুঝতেই পারছেন। মাঝখান থেকে সকালবেলায় স্ত্রীর মাথার বেণীটি কাটা গেল।
নিজের দেশে ফিরে মাকে জিজ্ঞেস করলেন তিনি এই ভয়ের কারণ। জানা গেল খুব ছোট বয়সে ওনার এক দুষ্টু বন্ধু ওকে রাবারের সাপ দিয়ে এমন ভয় দেখিয়েছিল যে সে অজ্ঞান হয়ে যায়।
এরপরে সেই সাহেব জামাই আর কোনোদিন ঐ গ্রামে জামাইষষ্ঠীর নেমন্তন্ন খেতে গিয়েছিলেন কিনা তা আমাদের জানা নেই।
পরে জানা গেছে নানা রকম সাইকোথেরাপী করে তিনি ঐ ফোবিয়া কাটিয়ে উঠেছিলেন। অতএব আতঙ্ক যেমন আছে তার থেকে মুক্তিও আছে।