"গী - তা গীতা গীতা গীতা গী ---ত্যা ----গী ---ত্যা --- গী ত্যা-গী- ত্যাগী -ত্যাগী ত্যাগী।” ত্যাগী- “ত্যাগ” মানেই বিচ্ছেদ - যে কোন সুখ ভোগের - বাসনা হতে বিরত হওয়া। লোভ লালসার স্রোতে, ভেসে যেতে যেতে - কোন বড় গাছের শেকড় ধরে কিনারায় উঠে, - বেঁচে যাওয়ার কামনা - মুক্তি পাওয়া। যতই চলে, বিয়োগের খেলা, ততই শরীর ও মন বলে, - এসো ভাই, এবার চলুক - ভগবানের সঙ্গে লীলা। “আত্মা' বলে - আঃ হাঃ - কী সুন্দর হাল্কা হলাম। এবার আমার উড়ে যাওয়ার ছিঁড়ে ফেলার পালা। আর নেই ঝামেলা।। মায়া, মোহ শেকলের মতন বাঁধন - বেড়ি পরিয়ে এতদিন একভাবে - একই গাছের গুঁড়িতে বেঁধে রেখেছে, - এখন চলুক না, - তার থেকে নিজেকে মুক্ত করার কঠিন সাধনা। এই “বিযুক্ত” হওয়ার প্রয়াসে, - নিষ্কাম, নির্লোভী, নিঃসংশয়ী হবার অভ্যাসে, - স্মরণ, মনন, নিদিধ্যাসন, - 'স্বাধ্যায়', শরণাগত হবার ঐকান্তিক আশে, - শুধু 'জপ' যজ্ঞে লীন হয়ে “ঈষ্ট” কে ভালবেসে - নিজেকে পবিত্র করে তোলার উদ্দেশ্যে - মোক্ষলাভের উপাসনা।। ত্যাগের মহিমা, অপার জানিয়া সফল করিব - আরাধনা ।।
শরণাগত (Shoronagoto)
“ঠাকুর” ! - তোমাকে পাওয়ার উদ্দেশে পূজো আমি করিনি তো, - পুষ্প - প্রদীপ, ধূপ ধুনো জ্বেলে , - করিনি কখনও ব্রত। শুধু মনে মনে, নাম জপি, তব বার বার - শত শত। রান্নার ঘরে আঙিনার পরে, যত বার হই নত, - ততবার ভাবি সামনে যে তুমি, কাঁদি তাই অবিরত। মন্ত্র - তন্ত্র কিছুই জানি না, - আমি যে শরণাগত।। মোর অন্তরে সদা ঝংকারে, - বিবেক জাগানো গান, জীবন আমার তাই আজ করে - “কথামৃত” - রস পান। বিশ্বাস আর ভক্তি সাগরে ডুব দিতে চাহে প্রাণ, বড় - লোকের - ঝি হয়ে যাই, মনে নেই, অভিমান। আনন্দেরই স্রোতে চলি ভেসে,- মুখে হাসি অম্লান, শিব - জ্ঞানে জীবে সেবা করে পাই - অহেতুকী - কৃপা দান। আমি তো তোমার আশ্রয়ে থাকি, ভক্তকে দিলে মান, ‘ঠাকুর’ তোমায় জানাই প্রনাম শ্রদ্ধা ও সম্মান। চাহি মার্জনা, করি প্রার্থনা, করো হে, পরিত্রান। পবিত্র রাখো হাদয় আমার, তোমার পুন্য স্থান। করো অহেতুকী কৃপা দান।।