“নাম” তরঙ্গে (Naam Toronge)

চন্দনা সেনগুপ্ত

তোমার "নামের" তরঙ্গ" ওঠে,
হৃদ - সরোবরে 'কমল" যে ফোটে
"ভক্ত - অলিরা" এসে সেথা জোটে,
এ জীবন তটে অনু-রণণ,-
কিনারায় আছে, শ্যামল সবুজ -
সুন্দন এক চন্দন বন;-
সেখানে বহিছে, - সুগন্ধ ময়
"শ্রী রামকৃষ্ণ" মলয় পবন।
তারই অতলে, সোনা-রুপা খনি,
"মা" ও "নরেন" তোলেন, আলোড়ন।
'জপাৎ সিদ্ধ' হবে এবার "নামের" মধ্যে দর্শন।
তোমার স্পর্শে বাতাস যে কাঁদে,
হাওয়ায় লাগে সে কম্পন
"ঠাকুর" আমার শ্বাস-প্রশ্বাসে,
তোমার নামের - অলিম্পন।

জবাফুল (Jobaful)

চন্দনা সেনগুপ্ত

 
"মায়ের" পায়ের "জবা" হতে, পারল না রে মন
'চন্দন' আর "তুলসী", গোলাপ হওয়ার লোভে কাটায় জীবন।
ঠাঁই পেতে চায়, "শ্রীগুরুর পায়" জপ করি তাই যখন তখন,
শাস্ত্র পাঠ সে সব ভুলে যায়, "নামের" ধুনে ভরায়, গগন।
"শ্রী শ্রী মায়ের" পানে তাকায়, - স্নিগ্ধ ভাবে মাতায় ভুবন,
সুবাস ছড়ায়, আনন্দ বায়, বইতে থাকে সারাটি ক্ষণ
ভাবছি সদা, হইবে কখন, স্থির ও শান্ত 'অবাধ্য মন',
"জবা ফুলের" মতন তখন - থাকবে না "ভুয়ো" আবরণ।

ইচ্ছা (Iccha)

চন্দনা সেনগুপ্ত

'মন্দির', 'মসজিদ', 'গির্জাতে' - যাব না গো আজ প্রাতে।
শুধু "তোমায়", থাকব ধরে। অরণ্যে বা প্রান্তরেতে -
কোথাও যাইতে মন নাহি সরে, - হৃদয় যে আজ আনন্দ পায়,
তোমার পানে সদা যে ধায়, আসি যখন তোমার দ্বারে।
"বিবেকানন্দ" শোনান বাণী, "মা" যে আছেন, মোদের জানি।
বিপদ মাঝে সাহস বাজে "গুরুর" আশীষ মাথার পরে।
কাম, ক্রোধ, লোভ ছেড়েছি গো, সব সন্দেহ পালায় দূরে।
"কথামৃতে"র "মহেন্দ্র গুপ্ত",
 নাগ মহাশয় থাকেন সুপ্ত
'গিরিশ ঘোষ'ও কান্ডারী মোর, আলো দেখান, অন্ধকারে।
"ঠাকুর" তোমায় - থাকব ধরে, 'শরণাগত' যে তোমার পরে।

ভক্তি পুষ্প (Bhokti Pushpo)

চন্দনা সেনগুপ্ত

ভক্তি সিক্ত কবিতা - পুষ্প - চন্দনে হোক, চর্চিত।
"শ্রী গুরুর" পায়ে, যেন স্থান পায় কাম, ক্রোধ, লোভ - বর্জিত।
অনেক কষ্টে বহু সাধনায়, বহু যুগ ধরে অর্জিত
তাঁহার "নামেতে" মুক্তি হবে রে, - শুদ্ধ হৃদয় মার্জিত।
জীবনের মাঝে, আছে নানা কাজে - থরে থরে জানি সজ্জিত -
"ঠাকুরের" কথা, অহেতুকী, - গাঁথা ভক্তি সায়রে নিমজ্জিত।।
দুর্ভাবনায় - কাঁদি, আমি হায়, বিনা কারণেই, শঙ্কিত;
তোমার "পরশ" হৃদয় মধ্যে - নানা রঙে তারা রঞ্জিত।
তোমা হতে যেন, না ফিরাই মুখ, - না থাকি লইয়া মিথ্যা সে সুখ
ক্ষুদ্র - স্বার্থ চিন্তায় বুক - ভরিলে হইগো লজ্জিত,
ঠাকুর তোমার করুণা বৃষ্টি, - অহেতুকী তব কৃপা দৃষ্টি,
রাখো মোর প্রাণে সঞ্চিত।।
"পিতার দয়া ও "মাতার" স্নেহ যে আমার বক্ষে সঞ্চিত,
করো না কখনো তোমা হতে দূর তব কৃপা হতে বঞ্চিত।
"উত্তিষ্ঠীত জাগ্রত হও", - বজ্র কন্ঠে নিনাদিত -
"বিবেকানন্দ" বাণী, আমি জানি সাহস করে যে সঞ্চারিত।

ধ্যান (Dhyaan)

চন্দনা সেনগুপ্ত

ঠাকুর তোমার মূর্ত্তিতে আমার শরীর মন
আত্মাকে এক মুখী করে যখন বসে যাই চোখ বুজে,
তোমার ওই চুল, কপাল
সুন্দর স্মিত হাসি -
দুই খোলা ঠোঁটের মাঝে দাঁত
আর তার মধ্যে একটুখানি ফাঁক,
আমাকে তখন কে যেন দেয় ডাক।
শুধু তোমার কথা একাগ্র মনে
ভাবতে আমি ভালোবাসি।
তবে চঞ্চল হৃদয় কখনও কখনও
উন্মনা হয়।
লোহার মত শক্ত সে তাকে কিছুতেই
নোওয়ানো যায় না।
তখন একদৃষ্টে তোমার চোখের
দিকে তাকাই সাহস করে।
দেখি তোমার খোলা চোখ যেন
চুম্বক হয়ে যায়।
আমি তার মধ্যে আটকে থাকি।
তোমার আকর্ষণ আমাকে
নমনীয় রমনীয় করে দেয়।
অন্য চোখের পাতা দুটি
তখন তোমার অর্ধনির্মিলিত।
কারন তুমি ভাবে বিভোর
সমাধিস্থ, পরমাত্মার সঙ্গে লীন।
ধ্যানের মধ্যে তোমার ঐ রূপ
আমাকে স্তব্ধ স্নিগ্ধ ও
মোহিত করে দেয় -
আমি ভুলে যাই, কে আমি,
কথা হতে এসেছি যে।
ধীরে ধীরে সম্বিৎ ফিরে আসে আমার।
এবার দৃষ্টি নামিয়ে আনি -
তোমার 'গলায়'।
নয়ন মুদে দেখতে পাই সেই
পরম "তীর্থ ক্ষেত্র" কে।
আমাদের মত শত শত
পাপী তাপীর রোগ নিয়ে
বিষ পান করেছিলে তুমি,
জমিয়ে রেখেছিলে নিজের জন্য -
পুঁজ রক্ত ক্যান্সারের কোষে।
তাই তোমায় আমি বলি -
"নীলকণ্ঠ অবতার"।
তোমার অহেতুকী কৃপায়
কত দুঃখী জনকে করলে
পঙ্ক থেকে উদ্ধার।
কত যন্ত্রনা তুমি সহ্য করেছিলে
অক্লেশে -
তারমধ্যেও বলেছিলে কত কথা
হেসে হেসে।
উপদেশ দিতে নয়, ভক্তকে পান
করতে অমৃতের সুধা,
আন্তরিকভাবে আপন পিতার মতন
ভালোবেসে।
চোখ আর একটু নামলে দেখতে পাই
তোমার গলার নিচে উঁচু হয়ে থাকা
হাড়টির ওপরে এসে।
তোমার নরলীলা উপভোগ করতে করতে
নয়নের তারা নেমে আসে -
সুঠাম দুই বহু, কাঁধ ও বক্ষদেশে,
তারপর পেয়ে যায় সেই চরণ কমল দুটি।
সেখানে মাথা ঠেকিয়ে, আমার জন্ম স্বার্থক হয় শেষে।

কথামৃত (Kothamrito)

“কথামৃতের" রচয়িতা “মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত-”
তোমার জীবন মাঝে আছে, - ভক্তি মন্ত্র - সুপ্ত।
“দক্ষিণেশ্বর” “বেলুড়” - তীর্থে - জীবন হইল, দীপ্ত -
গঙ্গা কিনারে ঠাকুরের ঘরে - সব দুঃখ যে লুপ্ত।
খণ্ডিত হল, ভব বন্ধন, - জ্ঞানের আলোকে তপ্ত -
ভজনানন্দে সঙ্গীত বোল, - করল হৃদয় শান্ত।
“কথামতের” গান ও গল্পে মন আজ পরিতৃপ্ত
“গীতা”, “রামায়ণ”, “বেদ বেদান্ত” সব - সার এতেও আছে অনন্ত,-
এই গ্রন্থের অনুরক্ত - আমি এক অতি ক্ষুদ্র ভক্ত।।

পুজোর ছড়া (Pujor Chora)

পূজো বাড়ী, পূজো বাড়ী, কী মজা আহারে;
ছোটো বড়ো সবাই সাজে, কম বেশী বাহারে।।
ঠাকুমা-দিদিমারা, ষষ্ঠীর সকালে, 
স্নান সেরে সাজি হাতে, শিউলী যে কুড়ালে,
সপ্তমী প্রভাতে কলা বৌ স্নান সারে
তালে তালে নেচে নেচে, ঢাকে কাঠি, ঢাকি মারে।
খিচুড়ী চচ্চড়ি/ল্যাবড়ার সু-স্বাদে,
গ্রাম বাড়ী চোখে ভাসে, মন ভরে আহ্লাদে।
মা-মাসী, পিসিমুনি, আলপনা দেয় দোরে,
বৌমনি, দিদিরাণী, বাজালেন, শাখ জোরে।।
জ্যাঠাবাবু, কাকু, মামু, নাটকের মহড়ায়
জমিদার বাবু সেজে, কৌচা ধরে গান গায়।
ছেলে ছোঁড়া ব্যস্ত যে, প্যাণ্ডেল সাজাতে,
নাড়ু খান, বুড়ো খুড়ো, মাঠের মেলাতে।
কিশোরী খুকু বেবী, চুড়িদার কামিজে,
ফিন্মের হিরোইন, মডেলের মত সাজে।।
অষ্টমী পূজো রাতে সকলেই ঊজ্জ্বল ,
মাও বুঝি হাসছেন; আলোতে ঝলোমল।
নবমীর দিনটিতে, পোলায়ের ভোগপাতে
বিদায়ের গন্ধ যে, ধুনুচির ধোওয়াতে,
দসমীতে বিজয়া যে, সিঁদুরের রঙে লাল,
বৌমাও শাশুড়ীর রাঙিয়ে দিলো ভাল,
জয় মা জয় মা বলে, বিসর্জনে চলে |
পূজো শেষ হয়ে গেলে বিষাদে মন ভরে।

সমন্বয় (Shomonnoy)

চন্দনা সেনগুপ্ত

দুই আর দুয়ে চার হয়,
তিন আর তিনে ছয়, -
ঠাকুর বলেন এটাই সত্য -
"সর্ব ধর্ম সমন্বয়।"
হিন্দু করে জাতের বড়াই
শৈব শক্তি বৈষ্ণবের,
ব্রাহ্মণ আর ক্ষত্রিয় যে -
রাখছে দূরে শূদ্রদের।
মুসলমানের সিয়া সুন্নি,
বৌদ্ধ ধর্মে হীন মহা,
নিজের স্বার্থে ঘা লাগলেই
ধর্ম যুদ্ধ, রক্ত বহা।
খ্রিষ্টানদের ঘৃনার শিকার
হলেন হাজার ইহুদি জন
সারা বিশ্বে অকারণে
মতবিরোধ সারাক্ষন
"শ্রী রামকৃষ্ণ" বলেন মোদের -
"কারো পথই নয়তো ভুল"
বিশ্বাসকে হারায় যদি,
গুনতে হবে তার মাশুল।
জল, পানি আর ওয়াটার তো
"এ্যকোয়ার" ই চারটি নাম
ঈশ্বর আল্লাহ গুরুবাদের
ঝগড়া চলছে উদ্দাম।
সর্ব ঘটে, সকল জীবে,
ভগবানের বিরাজ হয়।
ভালোবাসা ভক্তি দিয়ে,
করতে যে হয়, চিত্ত জয়।
"বিবেক" জাগান "নরেন্দ্রনাথ,"
সম্মুখে তবে আছেন ঈশ্বর -
দয়া, প্রেম ও সেবার দ্বারা
"মানব ধর্ম" পালন কর।
"শ্রী শ্রী মায়ের" অমোঘ বাণী,
কেউ নয় পর, আপন সব
কর্ম করো সংসারেতে
ছাড়ো নিন্দা কলরব।
ঠাকুরের কথা স্মরণ মনন,
কাম, ক্রোধ, ভয়, লোভের ক্ষয়,
কারো বিস্বাসে আঘাত হেনো না,
সর্ব ধর্ম সমন্বয়।

দর্শন (Dorshon)

স্থান, কাল, আর পাত্র বুঝে - চলতে হবে জগৎ মাঝে, -
হাত ব্যস্ত থাকবে, কাজে - মন ঝাঁকবে, হৃদয় পুর।
অন্তরে যে 'প্রভুর' বাস, “শ্রীরামকৃষ্ণ” দেন আশ্বাস;
শুধু তাঁহার কৃপার আশ - শুনব “কথামৃতের"র সুর।
মেঘের মধ্যে “মা” কে দেখি, সাগর জলে, - আমার ঠাকুর -
সূর্যলোকে রামধনু রঙ, জাগলে “বিবেক”, সবই মধুর।
হৃদয়ে মোর পুস্প - মুকুল, সুগন্ধেতে হয়, ভরপুর, -
পেলাম, তাঁদের স্নেহের পরশ নেইকো তাঁরা, তাই তো দূর।।
স্থান, কাল, আর পাত্র বুঝে- চলতে হবে জগৎ মাঝে, -
হাত ব্যস্ত থাকবে, কাজে, - মন ঝাঁকবে, হৃদয় পুর।
অন্তরে যে 'প্রভু'র বাস, “শ্রীরামকৃষ্ণ” দেন, আশ্বাস;
শুধু তাঁহার কৃপার আশ শুনব “কথামৃতের” সুর।
মেঘের মধ্যে “মা” কে দেখি, সাগর জলে - আমার ঠাকুর, -
সূর্যালোকে রামধনু রঙ, জাগলে বিবেক, 'সবই মধুর'।
হৃদয়ে মোর পুম্প-মুকুল, সুগন্ধেতে হয়, ভরপুর, -
পেলাম, তাঁদের স্নেহের পরশ- নেইকো তাঁরা, তাই তো দূর।।

আমার আরাধনা (Amar Aradhna)

কবিতার মাধ্যমে ঈশ্বর উপাসনা
হৃদয় মধ্যে আছেন যে জানা -
তিনিই জানি নিখাদ সোনা।
শ্রদ্ধা, প্রেম ও নিষ্ঠা ভক্তি,
সরল মনের ইচ্ছা শক্তি -
করেন যখন যাচনা, তখন শুধু অকারণে
বৃথায় কেবল অর্থ গোনা।
তীর্থে তীর্থে আনাগোনা,
পান্ডিত্যের জানা শোনা, -
ভুলতে হবে সব কামনা -
স্মরণ মনন নিদিধ্যাসন,
শুধু তাঁহার কল্পনা,
সেই তো আমার প্রার্থনা।
মিথ্যে কাজে বাড়ায় বোঝা,
নয়তো হেথা পথটি সোজা,
মরি লাজে বুকে বাজে,
করছি একই নকল পূজা!
সংসারের সং সেজে যে
রসের পিঁপড়ে গুড়ে মজে,
ছেড়েছি ঈশ্বরকে খোঁজা,
মন ভোলানো গল্প শোনা,
এ নহে মোর অর্চনা।
চন্দন কাঠ ঘষে নেড়ে,
তোমার কৃপা আনবো কেড়ে -
মন যদি না করি তাজা,
আমায় তুমি দিও সাজা,
করবো কঠোর সাধনা।
আমার আছে শুধু বিশ্বাস,
করবো না আর আলস্যে বাস,
দেহ ভোগের ঘোচার আশ,
সব ভ্রম মোর হবে যে নাশ,
মিটিয়ে দেব ভয় ভাবনা,
এই যেন হয় বাসনা -
তোমার পানে তাকিয়ে থাকি
মায়ের কথা স্মরণ রাখি,
বিবেক আমার জাগিয়ে রাখি,
মন্ত্র তন্ত্র জানি না।
সমস্কৃত উচ্চারণে
ভুল হয় তাই ক্ষনে ক্ষনে,
নাম জপে মোর অভিরুচি
শব্দ পুষ্পে উপাসনা
এইতো আমার আরাধনা।।