রঙিন ও শ্বেত - "শব্দ পুষ্পে" -
গাঁথি আমি পূজার মালা,
সুগন্ধিত - শব্দ পুষ্পে করি
ভক্তি প্রেমের খেলা।
কঠিন শক্ত "শব্দের ইঁটে"
গাঁথি মন্দির প্রাসাদ ঘর।
"শব্দ - সোপানে" চড়ে পৌঁছে - গেলাম,
পেলাম "অহেতুকী কৃপা বর"।
"শব্দ - বৃষ্টি" ঝরে ঝর ঝর, -
'মন' জমি করে উর্বরা যে।
শব্দের বীজ বপন হল যে আমার
কোমল হৃদয় মাঝে।
"শব্দ-তরু"টি অঙ্কুরিত,
জীবন - কিনারায়;
শব্দ - পত্র, শব্দ - মুকুল,
শব্দের ফুল - তাই, -
ধীরে ধীরে উঠল ফুটে, -
বৃক্ষ কবিতায়।
ভক্তিমুকুল ফোটাবে ফুল,
নতুন ভাবনায় আমার নতুন কবিতায়।।
প্রতি দিন শব্দ মালায়,
মন তোমায় সাজায়।
প্রতি ক্ষন, প্রতি পলে,
স্মরন মনন শান্তি জলে,
হৃদয় আমার ধোওয়ায়।
প্রতি বার যখনই মন্ত্র বলি
শব্দ পাপড়ি চরনে তব ফেলি,
অন্তরেকে স্নিগ্ধ পরশ বুলায়!
প্রতি সন্ধ্যায় প্রদীপ যখন জ্বালি,
আরতি করি গো সাজিয়ে শঙ্খ, থালি,
তখন ঘোচে যে মনের সকল কালি,
শ্রান্তি ক্লান্তি ভোলায়।
প্রতি রাত্রি হলে স্তব্ধ,
গুঞ্জন তোলে জপের শব্দ,
মিথ্যা চিন্তা করিয়া জব্দ,
মোহ বন্ধন খোলায়।
"কথামৃতের" রচয়িতা "মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত"
তোমার জীবন মাঝে আছে, - ভক্তি মন্ত্র - সুপ্ত।
"দক্ষিনেশ্বর" "বেলুড়" - তীর্থে - জীবন হইল - দীপ্ত -
গঙ্গা কিনারে ঠাকুরের ঘরে - সব দুঃখ যে লুপ্ত।
খণ্ডিত হল, ভব বন্ধন, - জ্ঞানের আলোকে তপ্ত -
ভোজনানন্দে সংগীত বোল, - করল হৃদয় শান্ত।
"কথামৃতের" গান ও গল্পে মন আজ পরিতৃপ্ত
"গীতা", "রামায়ণ", "বেদ বেদান্ত" সব - সার এতেও আছে অনন্ত, -
এই গ্রন্থের অনুরক্ত - আমি এক অতি ক্ষুদ্র ভক্ত।।
"স্মৃতি ভ্রষ্টা - বৃদ্ধা" যখন "খণ্ডন ভব" - করেন স্মরণ -
তখন হটাৎ তাঁহার স্পর্শে - পেয়ে যায় আমি -
"গুরু দর্শন"। তুষ্ট শিশুর হাসির মধ্যে, -
অসহায়ের সান্নিধ্যে - মোচন হয় যে সব বন্ধন -
"অবলা পশুর" ক্রন্দন দেয় ঈশ্বর তব স্পন্দন।
'মূক বধিরের' নীরব কাহিনী "ঠাকুর" শোনায় দয়ার বাণী
অন্ধ মেয়ের হাত দুটি ধরে "মা"র উত্তাপ কে দিল আনি!
পথের দু পাশে - বৃদ্ধ - বৃদ্ধা -
আমার নিজের মাতা - পিতা তাঁহাদের প্রতি, প্রেম জাগে অতি -
এটাই বিবেকের - উত্তরণ।।
(ক) যেথায় যেমন সেথায় তেমন যে দেশের যা আচার -
অনুকরণ করে চলি, সবার ব্যবহার।
অন্যরকম খাওয়া দাওয়া পোশাক পরিধান,
ভাষা ও চাল শিখতে হবে অন্যসুরে গান।
(খ) যখন যেমন তখন তেমন, - না হয় যেন ভুল।
সব বয়সে, রসে, বশে তুলব জ্ঞানের ফুল।
যে কালেতে যেমন ফসল, তার তরে চাই পরিশ্রম
কালের তালে, চলবে জীবন, করবে কঠিন সংযম।
(গ) যার - সঙ্গে যেমনটি ভাব তার সঙ্গে তেমনটি লাভ
বুঝতে পারলে মঙ্গল, সাধুর সঙ্গে তীর্থ যাত্রা
পশুর সঙ্গে জঙ্গল।
(ঙ) ভালো মানুষ সুবাস ছড়ায়, 'দয়া' 'ক্ষমা'য় ভরা।
'ডাকাত' - 'মাতাল' তেমনটি নয়, পালাও দূরে ত্বরা।
"শ্রীশ্রী মায়ের" তিন উপদেশ গেঁথে, নিলাম মালায়।
আনন্দেতে কাটল যে কাল, সকাল সন্ধ্যে বেলায়।
কোথাও গিয়ে অসুবিধায় পড়তে হয়নি কভু।
বরফের দেশ মরুপ্রদেশ ছুটে ছুটে যাই, তবু।
ধনী নির্ধন সুখী দুঃখী জন, সাদা বা কালোর সঙ্গে -
আপন জন যে হয়ে থাকি - (সদা) নানান সুরে রঙ্গে।
এই জীবনের যা - সাফল্য সবই - "তাঁদের" দান,
"ঠাকুর" ও মার আশীর্বাদে - ভরল যে, মন প্রাণ।।
ঠাকুর তোমার "নরেন" কে নিয়ে রচনা করব কাব্য।
এমন সাহস নেই যে আমার, প্রয়াস নৈব চৈব।
আগুন সঙ্গে নয় ছেলে খেলা, - উত্তাপ-আলো দেয় সারাবেলা
এ জগতে তার জন্ম হওয়াটা নেহাতই কোনো দৈব।
'তোমার' নিকট বসি শান্তিতে, - আবদার চলে 'মার' নিকটেতে, -
'বিবেকানন্দ' সামনে এলেই ভাবি কি কথা যে কইব?
'খাপ খোলা এক তলোয়ার' সে যে, মহা জ্যোতিষ্ক শৈব,
অবশ এ মনে করিয়া কেমনে তীব্র সে তেজ সইব?