নিষ্ঠা ভক্তি (Nishtha Bhokti)

চন্দনা সেনগুপ্ত

"ঈশ্বরীয়" কথা বিনা,
আর কিছু ভাই
শুনব - না - না, -
তোমরা আমায় আর বেঁধো না,
ছিঁড়বো সব বিষয় ভাবনা।
সবার সাথে দিনে রাতে
ছিলাম, মিথ্যে সুখে মেতে, -
এবার আমায় দাও গো যেতে,
হাত ধরতে "অনাথ নাথে"।
মোহের বাঁধন, মন্ত্র সাধন, -
ছিন্ন করে বাড়াও লগন -
ভক্তি করো আমায় মগন।
স্নিগ্ধ হবে, তৃপ্ত হবে, -
শান্তি বারি ঝরবে তবে, -
সুবাস তাহার ছাড়িয়ে যাবে, -
তোমার কৃপায় স্তব্ধ হবে।
যাব ধেয়ে তোমার পানে,
রবে না মন কম কাঞ্চনে,
চলব শুধুই প্রেমের টানে, -
ভরবে জীবন 'প্রভুর' দনে।

নতুন শব্দরূপ (Notun Shobdorup)

চন্দনা সেনগুপ্ত

রঙিন ও শ্বেত - "শব্দ পুষ্পে" -
গাঁথি আমি পূজার মালা,
সুগন্ধিত - শব্দ পুষ্পে করি
ভক্তি প্রেমের খেলা।
কঠিন শক্ত "শব্দের ইঁটে"
গাঁথি মন্দির প্রাসাদ ঘর।
"শব্দ - সোপানে" চড়ে পৌঁছে - গেলাম,
পেলাম "অহেতুকী কৃপা বর"।
"শব্দ - বৃষ্টি" ঝরে ঝর ঝর, -
'মন' জমি করে উর্বরা যে।
শব্দের বীজ বপন হল যে আমার
কোমল হৃদয় মাঝে।
"শব্দ-তরু"টি অঙ্কুরিত,
জীবন - কিনারায়;
শব্দ - পত্র, শব্দ - মুকুল,
শব্দের ফুল - তাই, -
ধীরে ধীরে উঠল ফুটে, -
বৃক্ষ কবিতায়।
ভক্তিমুকুল ফোটাবে ফুল,
নতুন ভাবনায় আমার নতুন কবিতায়।।

“সৎ – সঙ্গ” (Sot – Songo)

চন্দনা সেনগুপ্ত

"ভাবগ্রাহী জনার্দনকে" 'শুদ্ধ' মনটি করব দান,
এই হৃদয়ে পাতব আসন, তাঁর নামেতেই - মুক্তি স্নান।
ক্ষুদ্র অতি, তুচ্ছ মতি - নই আমরা সুমহান,
তোমার স্নেহ দিয়ে, - করবে তুমি - পরিত্রান।
যখন তোমার সঙ্গ পাব, ধনী নির্ধন সবই সমান,
রাখব না আর জীবাত্মাকে - অপবিত্র অজ্ঞান।
মনের ভাবটি শুদ্ধ রাখবে - তোমার ভক্ত সন্তান,
'সাধু' মধ্যে বসবে যে জন, করবে তুমি তাঁর কল্যাণ।।
"শ্রী রামকৃষ্ণ" করি না প্রশ্ন, - তোমার প্রতি ধায় যে মন, -
জাত দেখো না, পাত দেখো না, সবাই কে দাও দরশন।
আস্তাকুড়ে আছি পড়ে - বিষয় আশয় বক্ষ জুড়ে,
অহংকারের গর্ত খুঁড়ে, সেঁধিয়ে থাকি সারাক্ষন।
এবার তুমি "স্বয়ংসিদ্ধা" - এস গো "মা" আজ প্রসিদ্ধা,
বাড়াও বৈধী ভক্তি শ্রদ্ধা প্রকাশ করো, সত্য ধন।
মোহ বদল 'শত্রু' সেজে - বজ্র ধ্বনি উঠল বেজে, -
'বিবেকানন্দ' ভীষণ তেজে তাড়িয়ে করো, শান্ত ভুবন।

প্রতিদিন (Protidin)

চন্দনা সেনগুপ্ত

প্রতি দিন শব্দ মালায়,
মন তোমায় সাজায়।
প্রতি ক্ষন, প্রতি পলে,
স্মরন মনন শান্তি জলে,
হৃদয় আমার ধোওয়ায়।
প্রতি বার যখনই মন্ত্র বলি
শব্দ পাপড়ি চরনে তব ফেলি,
অন্তরেকে স্নিগ্ধ পরশ বুলায়!
প্রতি সন্ধ্যায় প্রদীপ যখন জ্বালি,
আরতি করি গো সাজিয়ে শঙ্খ, থালি,
তখন ঘোচে যে মনের সকল কালি,
শ্রান্তি ক্লান্তি ভোলায়।
প্রতি রাত্রি হলে স্তব্ধ,
গুঞ্জন তোলে জপের শব্দ,
মিথ্যা চিন্তা করিয়া জব্দ,
মোহ বন্ধন  খোলায়।

কথামৃত (Kothamrita)

চন্দনা সেনগুপ্ত

"কথামৃতের" রচয়িতা "মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত"
তোমার জীবন মাঝে আছে, - ভক্তি মন্ত্র - সুপ্ত।
"দক্ষিনেশ্বর" "বেলুড়" - তীর্থে - জীবন হইল - দীপ্ত -
গঙ্গা কিনারে ঠাকুরের ঘরে - সব দুঃখ যে লুপ্ত।
খণ্ডিত হল, ভব বন্ধন, - জ্ঞানের আলোকে তপ্ত -
ভোজনানন্দে সংগীত বোল, - করল হৃদয় শান্ত।
"কথামৃতের" গান ও গল্পে মন আজ পরিতৃপ্ত
"গীতা", "রামায়ণ", "বেদ বেদান্ত" সব - সার এতেও আছে অনন্ত, -
এই গ্রন্থের অনুরক্ত - আমি এক অতি ক্ষুদ্র ভক্ত।।

পরশ – পাথর (Porosh Pathor)

চন্দনা সেনগুপ্ত

"স্মৃতি ভ্রষ্টা - বৃদ্ধা" যখন "খণ্ডন ভব" - করেন স্মরণ -
তখন হটাৎ তাঁহার স্পর্শে - পেয়ে যায় আমি -
"গুরু দর্শন"। তুষ্ট শিশুর হাসির মধ্যে, -
অসহায়ের সান্নিধ্যে - মোচন হয় যে সব বন্ধন -
"অবলা পশুর" ক্রন্দন দেয় ঈশ্বর তব স্পন্দন।
'মূক বধিরের' নীরব কাহিনী "ঠাকুর" শোনায় দয়ার বাণী
অন্ধ মেয়ের হাত দুটি ধরে "মা"র উত্তাপ কে দিল আনি!
পথের দু পাশে - বৃদ্ধ - বৃদ্ধা -
আমার নিজের মাতা - পিতা তাঁহাদের প্রতি, প্রেম জাগে অতি -
এটাই বিবেকের - উত্তরণ।।

“মায়ের” মালার “তিন ফুল” (“Mayer” Malar “Tin Phool”)

চন্দনা সেনগুপ্ত

(ক) যেথায় যেমন সেথায় তেমন যে দেশের যা আচার -
অনুকরণ করে চলি, সবার ব্যবহার।
অন্যরকম খাওয়া দাওয়া পোশাক পরিধান,
ভাষা ও চাল শিখতে হবে অন্যসুরে গান।
(খ) যখন যেমন তখন তেমন, - না হয় যেন ভুল।
সব বয়সে, রসে, বশে তুলব জ্ঞানের ফুল।
যে কালেতে যেমন ফসল, তার তরে চাই পরিশ্রম
কালের তালে, চলবে জীবন, করবে কঠিন সংযম।
(গ) যার - সঙ্গে যেমনটি ভাব তার সঙ্গে তেমনটি লাভ
বুঝতে পারলে মঙ্গল, সাধুর সঙ্গে তীর্থ যাত্রা
পশুর সঙ্গে জঙ্গল।
(ঙ) ভালো মানুষ সুবাস ছড়ায়, 'দয়া' 'ক্ষমা'য় ভরা।
'ডাকাত' - 'মাতাল' তেমনটি নয়, পালাও দূরে ত্বরা।
"শ্রীশ্রী মায়ের" তিন উপদেশ গেঁথে, নিলাম মালায়।
আনন্দেতে কাটল যে কাল, সকাল সন্ধ্যে বেলায়।
কোথাও গিয়ে অসুবিধায় পড়তে হয়নি কভু।
বরফের দেশ মরুপ্রদেশ ছুটে ছুটে যাই, তবু।
ধনী নির্ধন সুখী দুঃখী জন, সাদা বা কালোর সঙ্গে -
আপন জন যে হয়ে থাকি - (সদা) নানান সুরে রঙ্গে।
এই জীবনের যা - সাফল্য সবই - "তাঁদের" দান,
"ঠাকুর" ও মার আশীর্বাদে - ভরল যে, মন প্রাণ।।

কথো-পকথন (Kathopokathon)

চন্দনা সেনগুপ্ত

ভগবান : আমি আত্মা, তোমার আসল সত্তা।
আমার রূপের প্রকাশ - এই প্রকৃতির মধ্যে।
আমি আছি, মন মন্দিরে - তোমাদেরই সান্নিধ্যে।
সাগর, পাহাড় - নদী - অরণ্যে - ধূ - ধূ - মরুর - প্রান্তে -
দূর দূরান্তে, - বন জঙ্গলে. গ্রাম গঞ্জে শহরে, -
জেগে থাকি, সদাই দেখি আমায় তোমরা দিচ্ছ ফাঁকি, -
বাহির পানে ডাকা ডাকি, - হাঁকা হাঁকি করছ ঘরে।
আসল ভুলে নকল তুলে, - দাঁড়িয়ে আছো পথের ধারে।
ভক্ত : কেমন করে তোমার দেখা পাই, এবার আমার একটু পরশ চাই -
কোথায় গেলে কেমন হলে, তোমার দেখা পাব?
প্রভু আমায় কেন ছলো, অকারণে কাঁদাও বলো,
জানো না কি সত্যি আমি তোমায় পেতে চাই।
দেবালয়ে গির্জা ঘরে, - পীর - দরগার প্রাঙ্গনে,
মাথা ঠুকে হতাশ হয়ে - বসে আছি গৃহ কোনে।
খুঁজে বেড়াই হেথায় হোথায় - সাধু সন্ত তোমায় কোথায় -
বলছো তুমি লুকিয়ে আছো, একান্তে এই - নির্জনে।
হৃদ গগনে জ্বললো আলো, তাইতো বড় লাগল ভালো
বললে কথা কানে কানে। 'মন্ত্র' দিলে আমার প্রাণে।।
 
কথো-পকথন (ভাগ ২)
ভগবান : অর্ধেক ঈশ্বর, অর্ধেক পশুর আকার,
দুই মিলে হল মানুষ, নর।
কখনও সে মানব কখনও দানব।
কভু স্নেহময় ,কভু তান্ডব,
যখন তাহার দেবত্ব হয় প্রবল,
দয়া, ক্ষমা, প্রেমে স্নিগ্ধ থাকে যদি হৃদি তল,
তখনই তো সে অবতার বা দেবাত্ম, মহামানব।
ভক্ত : কিন্তু ভগবান -! যাহারা তোমার পেয়েছে -
অসীম দান - ভক্ত যাঁহারা সদাই তোমায় চান
তোমার নামেতে মাতোয়ারা হয়ে তবে জয়গান গান, -
তাঁদেরও তুমি দুঃখের বোঝা দাও, -
তাঁহাদের পানে, - কেন যে কে জানে !
তব মন নাহি ধায় !
ভগবান : মানুষেরা যবে হারায় তাদের হুঁশ -
ধীরে ধীরে তার পশুত্ব যায় বেড়ে -
আমার সৃষ্ট ভালো গুণগুলো কেড়ে -
শয়তান নেয়, পিছে ছুটে যায় তবে,
তারই তরে তারা, মোর দেয় যবে ছেড়ে, -
তখন তাহারা একে অপরকে তেড়ে -
হানাহানি করে, হত্যা কান্ড ঘটায়, - আমি নই তার জন্যে যেন দায়ী;
আমি চাই, এই পৃথিবীতে মোর মানুষেরা হোক জয়ী।
ভক্ত : যাহারা তোমায় ভোলে, দিনরাত শুধু কাম, ক্রোধ, লোভ
মোহ লালসায় দোলে - তাহাদের তুমি করো না
কেন গো উপায়; তুমি যদি আজ সন্তানে তব,
না টান আপন দলে, - দাও না হে ঠাঁই,
তব পদ তলে, - তারা ভেসে যাবে জলে -
ডুবিবে অতল তলে। পঙ্ক হইতে উদ্ধার করে,
নাও না গো কেন কোলে? হে ঠাকুর, আজি প্রার্থনা করি
ভক্ত তোমায় বলে, - ক্ষমা করে দাও পাপী তাপি জনে,
তব কৃপা যেন ফলে।
ভগবান : 'দানব' হইয়া মহান রহে সে মোর আশা করে চুরমার
সত্যের পথে চলে না - সে আর
কত ডাকি তারে আমি বারবার সব আশা হ'ল ক্ষীণ, -
এরা যে অভাগা, দেয় শুধু দাগা, -
স্বার্থে দ্বন্দে লীন, আপন অহংকারে?
জালেতে বন্দি যে পরাধীন
এদের জীবন বড় দুঃখের এরা সন্তোষহীন।
এদের সামনে আসিয়া দাঁড়ায়, কত কত ভাবে যুদ্ধ থামায়
তুচ্ছ ক্ষুদ্র মিথ্যা লড়াই, ধন ভোগী অতি দীন।
ভক্ত : ভুলে যাই প্রভু যত দোষ মোর।
আমি যে তোমারই সৃষ্টি, করো আজি কৃপা বৃষ্টি।
'কু' প্রবৃত্তিকে করিয়া ধ্বংস, দাও মোরে প্রেম দৃষ্টি।
না হলে জগতে তোমার আঘাতে, হবে যে গো অনাসৃষ্টি।
ভগবান : আজ জেনো ওগো, বিগলিত প্রাণ শরণাগত ভক্ত -
তোমাদের তরে নিত্য, - সর্বদা থাকি ব্যস্ত।
তোমাদের সদা রক্ষা করি যে, সৃষ্টি বাঁচাতে ত্রস্ত -
কবে ভেঙ্গে দেবে, চুরমার হবে দানব মানব সব ভুলে যাবে -
ধ্বংস করিবে সমস্ত।
ভক্ত : জয় জয় প্রভু, জয় গান গাই. নাহি চাহি আর কিছু -
তোমার দয়ায় আগে যাব শুধু দেখিব না ফিরে পিছু।
"সত্যের আঁট" ধরে থাকি যেন, - তমা রূপ রাখি - চিনে।
"মুমুক্ষ জীব" পাইনি তোমাকে একথা ৰাখিব মনে।
আমারে লহ হে জীনে।
ভগবান : মুখে বলো - "তুমি জগতের প্রভু তুমি ঈশ্বর গুরু -"
আমি যে কী চাই, সে কথা বোঝার চেষ্টা করো নি শুরু !
আশীর্বাদের ঝর্ণা ধারায় সিক্ত হবে ভক্ত -
ঈশ্বর জেনো, "জীবে প্রেম চান" তিনি তব অনুরক্ত।
আসি চুপে চুপে, অবতার রূপে, এ জগতে করি আনাগোনা,
শিশুর সরল হাসির মধ্যে - যায় নি কি মোরে চেনা?
ফুলের গন্ধে, পাখীর ছন্দে দেহ - মন মেলে ডানা,
তোমাদের মাঝে আমি জেগে রই - কারো তরে নেই কোন মানা।
"ভক্ত" ও "আমি" এক হয় যবে, - ফুরায় তখন চেনা ও শোনা,
ভক্তি - রসের স্রোতে ভেসে যেতে তোমাদের মাঠে ফসল যে বোনা।

অহেতুকী কৃপা (Ahetuki Kripa)

চন্দনা সেনগুপ্ত

তুমি "মা সারদা", দূর্গা, লক্ষ্মী - তুমি কালী, শ্যামা - অজপা,
আমাদের মাঝে এসেছিলে, ওগো বিতরিতে প্রেম কৃপা।
তব অহেতুকী কৃপা।
"শ্রী রামকৃষ্ণ" জেনেছেন শুধু - তোমার লুকানো মহিমা,
তুমি - তপস্বী, সাধিকা তুমি মা -
সারদা "সূর্য্য তপা"। আপামরে করো কৃপা।
তুমিই আমার মনের মাঝারে প্রজ্বলিত মণিদীপা
জ্ঞানদাত্রী সরস্বতী মা, - অগ্নি যে চাই চাপা - অন্তহীন এ কৃপা।
তুমিই শেখালে নিন্দা কোরো না, -
শেখালে গো নাম জপা, - জাত, পাত, ভেদ কিছুই মানো না,
সকলেই পেল কৃপা, - করিলে অসীম কৃপা।
আপন মায়ের স্নেহ এতো দিলে, যায় না যে তারে মাপা, -
পুণ্যে ভরিলে, জীবন আমার, ত্যাগের রঙেতে ছাপা।
পেল "অহেতুকী কৃপা"।।
পবিত্র তব চরিত্র মাগো - তুমিই তো অনুরূপা,
ভক্তি, মুক্তি - শক্তি দাত্রী, - ভবতারিণী - স্বরূপা,
অশেষ তোমার কৃপা। হৃদয়ের মণিদীপা।।

বিবেকানন্দ (Bibekananda)

চন্দনা সেনগুপ্ত

ঠাকুর তোমার "নরেন" কে নিয়ে রচনা করব কাব্য।
এমন সাহস নেই যে আমার, প্রয়াস নৈব চৈব।
আগুন সঙ্গে নয় ছেলে খেলা, - উত্তাপ-আলো দেয় সারাবেলা
এ জগতে তার জন্ম হওয়াটা নেহাতই কোনো দৈব।
'তোমার' নিকট বসি শান্তিতে, - আবদার চলে 'মার' নিকটেতে, -
'বিবেকানন্দ' সামনে এলেই ভাবি কি কথা যে কইব?
'খাপ খোলা এক তলোয়ার' সে যে, মহা জ্যোতিষ্ক শৈব,
অবশ এ মনে করিয়া কেমনে তীব্র সে তেজ সইব?