মুক্তির স্বাদ (Muktir Shad)

চন্দনা সেনগুপ্ত

ছোটবেলা থেকেই বন্দি ছিলাম আমি
সোনার খাঁচায়।
বৃদ্ধ বয়সে অন্তিম অধ্যায়ে এসে,
বুঝতে পারলাম, -
এ জগৎ টা এক বিশাল বড় - হ্রদ।
এখানে এসে মিলিত হয়েছে,
আবার উৎপন্নও হয়েছে, -
অনেক নদী ও নদ।
 
আত্মীয় পরিজন বন্ধু স্বজন
সহকর্মীর ভালোবাসা, -
আত্ম-তৃপ্তি, নিরাপত্তা, নানান রঙিন আশা -
সেই গভীর জলের তলায় -
থরে থরে সাজানো।
চুনী-পান্না, হীরে মাণিক্য -
মুক্ত ভরা সুক্তি দিয়ে ঠাসা।
এরই মধ্যে ডুবিয়ে রেখে, -
ঠাকুর যে নেন, নিত্য
আমার পরীক্ষা।
 
এতোগুলো দিন তো ছিল,
হিসেবে করে চলা, -
গুনে গুনে, ধীরে ধীরে, মেপে মেপে
পা ফেলা,
অকারণে কাজে কথায়
সময়ের প্রতি অবহেলা,
শ্রী শ্রী মা দেন
মোহ লোভ ও চঞ্চলতা জয়ের -
'লক্ষ্মী শ্রী' বাড়িয়ে তুলে,
নিন্দাবান্দা লয়ের
অভিনব এক দীক্ষা,
অন্যদিকে স্বামীজী দেন, কর্ম যোগের শিক্ষা।
 
তাঁদের বাণী কার্যকরী করে -
জীব প্রেমের সেবার মন্ত্র ধরে -
জীবন এখন করছে শুধু তোমারই অপেক্ষা।
এসো প্রভু তুমি এসে,
অকারণে ভালোবেসে, -
তলিয়ে গিয়ে গভীর জলে,
দাও আমারে মুক্তির স্বাদ -
বন্দি হবার ভয় হতে আজ
করিও গো রক্ষা।।

প্রার্থণা (Prarthona)

চন্দনা সেনগুপ্ত

দূর করো এই মহামারী,
প্রেমের ঠাকুর মম,
মায়ের মধ্যে জাগাও শক্তি,
দুর্গা মায়ের সম।
মহিষাসুর দমন কালে,
দশ হাতে তাঁর অস্ত্র দোলে,
করোনা'কে, ধ্বংস করতে,
অন্য রকম লীলা চলে।
শ্রীশ্রী মায়ের ভীষণ তেজে
ভাইরাসটাও যাবে গলে,
তাঁরাই মোদের শিব ও দুর্গা,
কৃষ্ণ রাধা, কালী
রামকৃষ্ণ শরন্যে,
বাজাও আজি তালি।
ভবতারিণী রূপিনী
তোমরা মাতা পিতা,
বিশ্ববাসীর প্রান রক্ষায়
মাথায় ধরো ছাতা।

চুম্বকাকর্ষণ (Chumbokakorshon)

চন্দনা সেনগুপ্ত

তাঁর প্রতি আগ্রহ অনুরাগ - "নিষ্ঠা - ভক্তি" কে -
বাড়িয়ে না তুললে - ঈশ্বর কে কেমন করে পাব,
কঠিন তপস্যা, - ঘরের মধ্যে -
সংসারে - গৃহ দুর্গে - বাস করেও ঠাকুরের প্রতি -
ব্যাকুল আবেগ ও ভালোবাসা, - না থাকলে,
বলো কেমন করে আমি "বিকর্ষণের" গান গাব?
"ঠাকুর" মোর "চুম্বক"।
লৌহ হৃদয়ে ধুলো কাদা - মেখে রাখলে কেমন করে -
তাঁর আকর্ষণ অনুভব করতে পারব?
সারাটি দিন - কাজের নামে পারের কড়ি গুনে -
সময়াভাবের দোহাই দিয়ে পাগলামিতে মাতলে, কি করে
"ঠাকুর" তোমায় ফিরে পাব !

মন্ত্র (Montro)

চন্দনা সেনগুপ্ত

"মন" তোর - হল দীক্ষা নিয়ে -
"জপ" করে যাই আঙ্গুল গুনে,
"অং" "বং" "চং" করিস নে আর -
কাজ নেই মোর - 'গীতা' 'কোরানে'!
মন্দির আর গির্জা ঘরে, মসজিদে ও গুরুদ্বারে।
রইলি পড়ে রাত্রি দিনে, হৃদয় মাঝেই আছেন তিনি,
"ভক্তিবীজ" যে সে যায় বুনে।
আমি 'মুকুল' - মালঞ্চিকা,
জবাফুলে চিত্ত ঢাকা,
গঙ্গা মাটির - তিলক আঁকা,
কাটাব কাল - বাঁশীর ধুনে।।

উপদেশ (Upodesh)

চন্দনা সেনগুপ্ত

"ঠাকুর" বলেন, গৃহের দুর্গে - রক্ষিত থেকে যুদ্ধ করো।
'মা' বলেছেন - সকল কর্মে ঠাকুরের নাম মনে ধরো।
'মোহ' মায়া আর কাম, কাঞ্চন ভঙ্গে, ক্রোধ, ভয়, লোভ, ঈর্ষা
শত্রুরা সব প্রস্তুত আছে, - লড়াই চলুক তাদের সঙ্গে।
ভক্তির রসে ডুবে তুমি শেষে 'মা' কে ডাকো গো -
তব প্রাণ ভরে - তিনিই তোমায় - উদ্ধার করে -
উঠাবেন জেনো, অনেক ওপরে।
'ঈষ্ট' সাকার - হোক নিরাকার কালী বা কৃষ্ণ শিব কি ব্রহ্ম -
মন প্রাণ তারে ঢেলে দিতে হবে। (ওরে) ছাড়িয়া সকল মিথ্যা দম্ভ।

লীলা প্রসঙ্গ (Lila Prosonge)

চন্দনা সেনগুপ্ত

"মায়ের" পথে চলে যে জন,
সে জন আমার প্রাণের বন্ধু,
"ঠাকুর" তোমার "লীলা প্রসঙ্গে" -
মুগ্ধ হৃদয়, উদার - সিন্ধু।
"বিবেকানন্দ" জ্ঞানানন্দ - করল,
ধন্য জীবন - ইন্দু, -
তাঁহার আদেশ চলবে মেনে, -
মানব প্রেমিক, তিনি সুখেন্দু।
শ্রেষ্ঠ ধর্ম গ্রন্থ জানি "কথামৃত" অমলেন্দু -
তারই মাঝে পেলাম, খুঁজে -
মিত্র, পবিত্র - শিশির বিন্দু।
"ঠাকুর" তোমার "লীলা প্রসঙ্গে"
ধন্য হল, আত্মা - সিন্দু।
তুমিই যীশু, তুমি আল্লা, নানক, কবীর
তুমিই দেবতা পরম হিন্দু।।

চন্দন বন (Chandon Bon)

চন্দনা সেনগুপ্ত

চন্দনের বনের বাতাস - বইছে, আজি মন্দ মন্দ -
"মায়ের" মতে সংসারেতে - চললে জীবন, পায় সে গন্ধ।
বইছে প্রাণে, ক্ষণে ক্ষণে, - হওয়ার তালে নতুন ছন্দ।
ধন্য করল, পরশ তাঁহার, - ঘুচল, যে তাই, সকল দ্বন্দ্ব।
সোনা রূপোর খনির আগে আছে আনন্দ,
রাখবো না আর এ মন - বেঁধে গৃহের মধ্যে বন্ধ।
রাখব না আর জীবন শুষ্ক - "গুরু" আমার মহা-জ্যোতিষ্ক
নক্ষত্র যে সেই কনিষ্ক, - মিটলো, সবই সন্দ - আজ
পেলাম, মধুর - গন্ধ। ওরে চন্দনেরই গন্ধ।
ঠাকুর আমার সঙ্গে আছে, জীবনে তাই আনন্দ।।

তোমার প্রলেপ‌ (Tomar Prolep)

চন্দনা সেনগুপ্ত

যখন তোমায় স্মরণ করি,
প্রানে কে যেন লেপে দেয়,
চন্দনের প্রলেপ।
হাল্কা সুগন্ধ শীতল পরশ
শুদ্ধতার আচ্ছাদন, মনকে শান্ত করে নেয়,
হৃদয়ের সব আবর্জনা করে, দূরে নিক্ষেপ।
সব কাজ ভুলে, ধন সম্পদ ফেলে,  তাঁর মন্থন,
ঠাকুর তোমার বানী জাগায় আনন্দ,
থাকে না কোনো আক্ষেপ।
তোমার সঙ্গে যতক্ষন রই,
দেহে ও অন্তরে মনে হয়, যেন পাই,
গঙ্গা মাটির পুন্য লেপ।
মায়ের লীলা, অনুধ্যান ও মনন, লোভ,
ভয়, সরিয়ে আকাঙ্খাকে করে সংক্ষেপ।
তোমাদের সঙ্গে যাত্রা রোগ ভোগের কষ্ট
ভুলিয়ে লাগিয়ে দেয় শান্তির প্রলেপ।

আমার গোত্র সারদা (Amar Gotro Saroda)

চন্দনা সেনগুপ্ত

"বিগ্রহ" মোর 'শ্রী রামকৃষ্ণ' -
মন তাঁরে শুধু স্মরে -
"তাঁহার নামের" পেয়েছি মন্ত্র -
তাই তো গো মোর
"সারদা" গোত্র, - "হোমানলে" নয়, অহেতুকী কৃপা,
ধন্য করেছে, মোরে।
অহরহ তাই আজ প্রতি কাজে তাঁহার বাণী যে,
মোর কানে, বাজে
"বিবেকানন্দ" ঘুচালে দ্বন্দ্ব, -
ভুলি - তাঁরে কি করে!
"শরণাগত" হয়ে শুধু থাকি, -
"ঠাকুর" আমারে দাও নাই - ফাঁকি, -
পাশে আছ জানি, - তবু সদা ডাকি, -
কোলে, তুলে নাও, মোরে।
"দীক্ষার দিনে" পেয়েছি মন্ত্র -
যাব না, তাই তো যত্র তত্র ঠাইঁ দিও তব দোরে।।
"শিশির বিন্দু" হয়ে জন্মেছি সংসারে তৃণ পরে, -
"শ্রীশ্রী মায়ের" - স্নেহ সুধায়,
সে যে ঝলমল, করে।
"ঠাকুর" তাহার জ্ঞানের আলোকে -
আরও উজ্জ্বল করেন তাহাকে,
মিলায় সে তবে পুণ্য গোলোকে, অশ্রু হইয়া ঝরে।
"আনন্দ ধূন" বাজে গো যখন,
ছোট্ট - জীবন মুগ্ধ তখন
ধূলায় বিলীন, তাহার ভুবন পবিত্রতায় - ভরে।।

“ত্রি – দেব” (Tri-dev)

চন্দনা সেনগুপ্ত

'ব্রহ্মা', 'বিষ্ণু', 'মহেশ্বর', -
সৃষ্টি, স্থিতি, বিনাশ পর,
তাঁহাদের লীলা, অপরূপ খেলা,
সাধ্য কি বুঝে জগতের নর?
তাইতো তাঁদের "অবতার" রূপ
ধরা ধামে এল, জাতিশ্বর।
তাঁহাদের সব আলাদা থাক,
এজগতে আছে আলাদা ঘর।
'শ্রী রামকৃষ্ণ' দেখালেন পথ,
সৃষ্টি হল, যে এক নব রথ
'বিবেকানন্দ' তার অধিরথ-
রশি রইল 'মা'র হাত পর।
তাঁহাদের লীলা অপরূপ খেলা
সাধ্য কি বোঝেন সাধারণ নর !
"ত্রি" দেব পায়ে সোঁপিনু জীবন, -
ঝরিছে ভক্তি নির্ঝর।।