মায়ের গান ( Maa er gaan )

চন্দনা সেনগুপ্ত

জয় মা, জয় মা, জয় জয় মা, -
জানিতে পারিনি, মা গো -
তোমার মহিমা।
এই অতি মূঢ়মতি, নির্বোধ নারী প্রতি,
কেন ঝরে অকারতে -
তব কৃপা ক্ষমা।

বহিয়া চলিছে মোর জীবন প্রবাহ -
গতিময় রাখিতেছো তুমি অহরহ,
বুকে থাকো, তাই মোর ধন্য এ দেহ,
করুণা সলিলে তব ভেসে যায় গেহ।

হৃদয়ের শতদল চুমে তব পদতল,
কৃপা করি বাড়াইলে তাই মোর মনোবল,
স্নিগ্ধতা শান্তির নাহি পরিসীমা।

মোহনার কাছে এসে
প্রেমের সাগরে মেশে,
জীবন বুঝিতে চায়, তোমার গরিমা।

যুগল তীর্থে যাই, জয়রামবাটী ধাই,
কামারপুকুর পাই ভক্তি সাগর ,
সেখানে ডুবিয়া মোর, জীবনে আসিল ভোর,
তব দয়া নির্ঝর নাহি তার সীমা।

জয় মা, জয় মা, জয় জয় মা . . . মা।

ঠাকুরের গান ( Thakurer Gaan )

চন্দনা সেনগুপ্ত

'ঠাকুর'
তোমার লীলা প্রসঙ্গে -
কথামৃতের কথায় রঙ্গে
মন মেতে থাকে মায়েরই সঙ্গে -
হৃদয় আমার তৃপ্ত।

নিন্দা করে গো, লোকে নানা ছলে,
অশ্রদ্ধা যে নানা কৌশলে,
তোমারে অবতার নাহি বলে, -
চিত্ত হয় যে ক্ষিপ্ত।

শ্রী শ্রী সারদা বাণী কানে আসে,
বিবেকের জ্ঞান অন্তরে ভাসে,
বুক কাঁপে মোর দুখে, লাজে, ত্রাসে,
তর্কে হই না লিপ্ত।

শান্তি সুখেতে পরশন পাই,
সময় নষ্ট করে লাভ নাই,
জীবে প্রেম মাঝে তোমারেই পাই,
অন্তর রেখো দীপ্ত।

"ত্রিদেব" স্মরণে আজ মনে মনে 
আঁখি হল মোর সিক্ত,
হৃদয় করিলে তৃপ্ত ঠাকুর বন্ধন
করো মুক্ত।

ভ্যালেন্টাইনের ভালোবাসা ( Valentive er bhalobasha )

চন্দনা সেনগুপ্ত

সেই যে দুজন, কে জানে কখন - !
বিষ বৃক্ষের ফল খেয়ে, -
প্রণয় করতে শিখেছিল, - তাদের আমার প্রণাম।
ওই 'আদম - ইভের' ভ্যালেন্টাইন পর্ব টি না
থাকলে তো আমরা জন্মাতামই না। 
জানতাম না,
সেই আদিম প্রেমিক প্রেমিকার নাম,
পেতাম কি এই সুন্দর জগতে
এমন অপূর্ব জীবনের দাম?
প্রেম, প্রতীক্ষা - প্রত্যাখ্যান বা মিলন।
যুগ যুগ ধরে - মুগ্ধ - স্নিগ্ধ - ধন্য
করে রোমান্টিক ভুবন।
কবি কালিদাস-এর কাব্যে, আমাদের
শাস্ত্রে পূরাণে - কামদেব মদনের
আগমনে, মানব-মানবীর মনে
তুলেছে আলোড়ন।
 
রাধা - কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী -
অভিসার - বিরহ - এসবই তো
বৈষ্ণব পদাবলীর - ছন্দে বদ্ধ,
মধ্য- যুগের ভ্যালেন্টাইন।
কথাটা হয়তো একসময় তৃতীয় খ্রিস্টাব্দে
‘রোমান’ অক্ষরে লেখা হত,
কিন্তু আধুনিক পৃথিবীর প্রতি ভাষায় -
বনে, কোনে, মনে -
তার মানে 'গোপন প্রেমবন্ধন'।
যীশুখৃষ্টের ধর্ম প্রচারক -
‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’ কে
নিয়ে সূত্রপাত এই উৎসবের লগন,
 
ধর্ম বিদ্ধেষী রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের কারাগারে
বন্দী ছিলেন সেই সজ্জন -
মুখ বুজে সহ্য - করে চলেছিলেন
অকথ্য নির্যাতন,
ঠিক তখন -
তাঁর হৃদয় মুকুরে উদ্ভাসিত এক মুখ,
জেলার কন্যার আবেগাপ্লুত -
দুই নয়ন, -
তাঁকে বারে বারে চঞ্চল করে,
তিনি কী যেন ভাবতে থাকেন, - সারাক্ষণ তারপর সুযোগ বুঝে
তাঁর সেই বান্ধবীকে করেন
পত্র প্রেরণ।
কেউ জানে না কী লেখা ছিল তাতে।
কিন্তু সেই কারনে
করতে হল তাঁকে মৃত্যু বরণ।
তারপর থেকেই 'শহীদ সাধুর' নাম
তরুণ তরুণীর দল
স্মরণীয় করে দিলেন, ১৪ই ফেব্রুয়ারীকে
২৭০ শতাব্দী থেকে শুরু হল
সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামে
নতুনভাবে প্রণয় নিবেদন।
 
সবাই জানে লুকিয়ে প্রেম করার মধ্যে
আছে এক শিহরণ।
তার ওপরে সব দেশেই যখনই হয় -
'বসন্তের' আগমন -
ফুলে ফুলে অলি করে পরাগ মিলন, -
পাখীরা খুঁজে বেড়ায়, তাদের প্রিয় সাথীকে,
বেড়ে যায় তাদের কলকাকলী
মধুর কুজন -
এই ঋতু বরফ গলা জলে তোলে তখন,
মৃদু হিল্লোল, হাওয়ায়,
সঙ্গীতের মূর্ছনা - মানব হৃদয়ে তোলে
আলোড়ন, তখন
 চিরকালীন প্রেমিক -
প্রেমিকা করে আবাহন ,তীরবিদ্ধ পাখীটিকে,
গান গায় - কবির
সুরে "প্রেমের জোয়ারে ভাসাবো
দোঁহারে -
বাঁধন খুলে দাও - দাও দাও দাও" -
নতুন যুগে নতুন ভাবে এ যুগের
যুবক যুবতী ফুলের তোড়া উপহার
নিয়ে এগিয়ে যায়। করে
প্রেম নিবেদন, -
ধন্য হয় সেই সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের
নির্বাসন ও আত্ম বিসর্জন।

ব্যাকুল মিনতী (Byakul Minoti)

চন্দনা সেনগুপ্ত

হে ঈশ্বর!
তোমার সৃষ্ট আমাদের মানব দেহ,
এক বিশাল, জটিল যন্ত্র।
তুমি যে কী ভাবে, কী উদ্দেশ্যে বানালে, -
কারো জানা নেই।
কিন্তু কত রকম উপায়ে তুমি সতত
এর রক্ষনাবেক্ষন করে চলেছো স্বতন্ত্র।
তার কোন তুলনা হয় না।
অপূর্ব তোমার গরিমা ,তাই এই পৃথিবীর
দেহধারী প্রাণীদের তুমি
পাহারা দিযে  চলেছো অতন্দ্র।
এতোটুকু ময়লা জমতে পায়না সেখানে।
খাদ্যবস্তুর নির্যাস টেনে নিয়ে বানাও
সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, লাল তরল রক্ত -
তাই কর্ম করে চলেছো, অহরহ, দিবারাত্র।
সব আবর্জনা শরীর হতে আপনা আপনি
বের করার জন্য বানিয়ে দিলে
শত শত দ্বার দেহের সর্বত্র।
কখনো ঘাম, শ্বেদ বিন্দু ঝরে পড়ে
লোমকূপের মধ্যে দিয়ে যত্র তত্র।
ব্যবস্থা তোমার অতি সুন্দর, সুনির্দিষ্ট।
ক্লেদাক্ত জল, আগ্রহন যোগ্য বস্তু
বাহির হয় অন্য দুই পথে
যত ময়লা মলমূত্র।
হে ভগবান !
মনের অভ্যন্তরে জমিয়ে রাখা
অখাদ্য পশুত্বের বীজ,
মানব যে জমিয়ে রাখে,
লুকিয়ে রাখে স্তরে স্তরে,
গোপন কোন গহবরে !
সেগুলি বহিষ্কারের উপায় নেই কি কোনো?
তখন কেন শোনে না সে
তোমার দেওয়া কোনই সুমন্ত্র?
ধর্মের নামে হানাহানি, হত্যার লীলা খেলায় মত্ত,
মস্তিষ্কে জল্পনা কল্পনা করে
সর্বদা অহরাত্র।
তাহার বিহিত হয় না কেন বলো?
নারীর শরীরের প্রতি কামনাতুর
লোলুপ দৃষ্টিতে তারা দূষিত
অপবিত্র।
সেই সমস্ত নোংরা কদর্য ভাবনা -
কেন হয় না দেহের মলমূত্রের মত
অনায়াসে নিষ্কাষিত?
যখন কোন নিধনের -ধ্বংসের বা অত্যাচারের
বীজ বপন হয় কারো  মনে -
তখনই কেন অন্যায় কার্যকরী করার পূর্বেই
তুমি করে দাও না তারে , বর্জ্য শুকনো পত্র।
হে ঠাকুর !
এসো, - রচনা করো, অভিনব তব কৌশল তন্ত্র।
তোমার নতুন নিয়মে নিষ্ঠূরতার হোক বিনাশ;
প্রতিজ্ঞা করেছিলে, তুমি মনে করে দেখো,
"সম্ভবামী যুগে যুগে" - অতএব বিনীত মিনতি
এই শোনো - নিয়ে এসো,
অভিনব আর এক অবতার, শুনাও নব জাগরনের বানী,
নিযে এসো, নতুন উদ্ধার সূত্র।

বিনীত প্রার্থনা (Binito Prarthona)

(ঠাকুর ভগবান শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কে)

চন্দনা সেনগুপ্ত

ঠাকুর!

তোমার চোখের দিকে চাই বারে বারে।

পাই যদি দেখিবারে, সেই সমাহিত - দৃষ্টি।

যার মধ্য দিয়ে করে চলো তুমি

ভক্তকে কৃপা বৃষ্টি।

একটি আঁখির পলক পড়ে না,

আমার হৃদয় ঝাঁকে,

 দীপ্ত আলোকে দূর করে দেয় -

মনের অন্ধকার কে।

জমা যত ভয়, করে দেয় ক্ষয়

উজ্জ্বল করে রাখে।

প্রচন্ড তার উত্তাপ এসে

অন্তরগ্লানি মেলায় ভস্যে

শুদ্ধ করিতে থাকে।

আর এক নয়ন সদাই মগন,

ডুবে আছে সমাধিতে,

আধো খোলা আর আধো আধো বোঁজা,

লীন হয়ে আপনাতে।

তোমার চরণে মিনতী আমার -

মতি থাকে তব পথে,

দাঁড়াও জীবন পথে, রোহো যেন মম সাথে।

অন্তিম ক্ষণে দেখা যেন পাই. -

কাঁদি আমি দিন রাতে,

তব নয়নের সম্মুখে মোর

আনন্দে মন মাতে।

শত কর্মেও ভুলিও না কভু হে, -

নাম জপে শুধু স্মরি,

হৃদয় মধ্যে পদ শতদল,

জীবনে যে সুখ ভরি।

কাম, ক্রোধ, লোভ সকল ছাড়িয়া 

তোমারেই থাকি ধরি।

শ্রীরামকৃষ্ণ ক্ষমো অবগুণ

অপরাধ মোর হরি।

দুই আঁখি হতে ঝরে কৃপা বারি

সদা প্রমান পাই।

জগতের মাঝে ঘুরি নানা কাজে -

তোমাকেই শুধু চাই।

জীবে প্রেম আর সেবার মন্ত্রে 

আপনারে তাই জাগাই।

তুমি খুশী হলে জন্ম ধন্য

আর তো চিন্তা নাই।

বারে বারে যদি যেতে চাই দূরে -

ছেড়ো নাহে তুমি মোরে,

'বেড়াল ছানার' মত ধরে থেকো 

ভীষণ শক্ত করে।

তুমি তো আমার পিতা, গুরু, সখা

ভার দেবো তোমা পরে

হে ঠাকুর, আমি অধম অবুঝ 

ভালোবেসো দয়া করে।

কাঁদি সদা তব তরে।

মুক্তির স্বাদ (Muktir shad)

চন্দনা সেনগুপ্ত

ছোটবেলা থেকেই বন্দি ছিলাম আমি
সোনার খাঁচায়।
বৃদ্ধ বয়সে অন্তিম অধ্যায়ে এসে,
বুঝতে পারলাম, -
এ জগৎ টা এক বিশাল বড় - হ্রদ।
এখানে এসে মিলিত হয়েছে,
আবার উৎপন্নও হয়েছে, -
অনেক নদী ও নদ।
 
আত্মীয় পরিজন বন্ধু স্বজন
সহকর্মীর ভালোবাসা, -
আত্ম-তৃপ্তি, নিরাপত্তা, নানান রঙিন আশা -
সেই গভীর জলের তলায় -
থরে থরে সাজানো।
চুনী-পান্না, হীরে মাণিক্য -
মুক্ত ভরা সুক্তি দিয়ে ঠাসা।
এরই মধ্যে ডুবিয়ে রেখে, -
ঠাকুর যে নেন, নিত্য
আমার পরীক্ষা।
 
এতোগুলো দিন তো ছিল,
হিসেবে করে চলা, -
গুনে গুনে, ধীরে ধীরে, মেপে মেপে
পা ফেলা,
অকারণে কাজে কথায়
সময়ের প্রতি অবহেলা,
শ্রী শ্রী মা দেন
মোহ লোভ ও চঞ্চলতা জয়ের -
'লক্ষ্মী শ্রী' বাড়িয়ে তুলে,
নিন্দাবান্দা লয়ের
অভিনব এক দীক্ষা,
অন্যদিকে স্বামীজী দেন, কর্ম যোগের শিক্ষা।
 
তাঁদের বাণী কার্যকরী করে -
জীব প্রেমের সেবার মন্ত্র ধরে -
জীবন এখন করছে শুধু তোমারই অপেক্ষা।
এসো প্রভু তুমি এসে,
অকারণে ভালোবেসে, -
তলিয়ে গিয়ে গভীর জলে,
দাও আমারে মুক্তির স্বাদ -
বন্দি হবার ভয় হতে আজ
করিও গো রক্ষা।।

মাতৃদিবস (Matridibas)

চন্দনা সেনগুপ্ত

যেদিন প্রথম জন্ম নিলাম, এই ধরণীর পরে, -
'দু' চোখ মেলে দেখতে পেলাম -
'মা' রয়েছেন, - কোলে আমায় ধরে।
তাঁহার পরম স্নিগ্ধ হস্ত পরশ আমায় করে, -
তাঁহার স্তন্য সুধায় মধুর -
অমৃত রস ঝরে।
মায়ের হাসি মিষ্টি কথায়, হৃদয় গগন ভরে,
মায়ের আদর ভালোবাসায়
ভয়ের বাদল সরে।
'মা' যে আমার ঈশ্বর আর 'মা' যে শ্রেষ্ঠ গুরু।
হাত ধরে তাই চলতে শেখা, -
পথ চলা মোর শুরু।
'মা' বিশাল বটবৃক্ষ, আমরা কোমল তরু,
'মা' যে আমার পূজার গৃহ, চন্দন অগুরু।
'মা' তো মাথার ছত্রছায়া, শীতল সে আশ্রয় -
মায়ের কাছে সকল শান্তি, পালায় সকল ভয়।
মা যে করেন সকল ক্লান্তি -
দুঃখ কষ্ট লয়,
মায়ের বুকে নিরাপত্তা সবচেয়ে প্রিয়
আলয়।
প্রত্যেকদিন  "মাতৃ দিবস" -
বাৎসরিক তা নয়,
সারা জীবন মায়ের পুজো বন্দন যেন হয়,
মায়ের আশীর্বাদেই সকল -
বিঘ্ন বাধার ক্ষয়, -
মায়ের চরণ তলে এলেই -
সন্তান পায় জয়।

ঠাকুরের জন্ম দিনে (Thakurer Jonmodine)

চন্দনা সেনগুপ্ত

"ধনী" দাই মা, ধন্য তুমি, প্রসব করালে ভগবানে।
তাই তো তাঁহার কৃপায় হলে, ভিক্ষা মা -
তাঁর উপনয়নে।
ধাত্রী তুমি সেবা কর্মী, - তোমার মতন -
কে আছে ভুবনে !
ভূমিষ্ট যে করলে যত্নে -
"চন্দ্র মনির" সু সন্তানে।
ছাই চাপা এক আগুন তিনি, -
বুঝিয়ে দিলেন সর্ব জনে।
ভগবানের মানুষ জন্ম জানিয়ে দিলেন, -
সু লক্ষণে।
কুষ্ঠি বিচার করলেন তাঁর -
মহা পন্ডিত বিচক্ষণে।
শঙ্খধ্বনি বাজলো তখন, ব্রাহ্ম মুহূর্তে -
শুভ ক্ষণে।
গনক ঠাকুর - নাম দেন তাঁর "শম্ভুচন্দ্র" প্রথম দিনে,
পিতা ক্ষুদিরামের স্বপ্নে, বিষ্ণু এলেন
তাঁর ভবনে।।
বাল্যকালে আকাশতলে শুভ্র বকের সারি দেখে -
কেউ জানে না, আত্মশূন্য হলেন শিশু কি কারণে !
"ভূতির খালে" ছুটে গেলেন, জ্ঞান হারালেন -
সেই শ্মশানে,
বিশালাক্ষী মন্দিরেতে ভাব সমাধি দিব্য জ্ঞানে।
'কামার পুকুর' বাসী সবাই মুগ্ধ শিশুর
রূপ দর্শনে।
লালাবাবুর ভালোবাসা, স্নেহ প্রেমের কল্যানে, -
গদাধরের অন্নপ্রাশনে, আনন্দেরই বন্যা আনে।
গ্রামের লোকে থাকতো মেতে, তাঁহার অভিনয়ে গানে।
অন্ন চিন্তা ছিল না তাঁর প্রতিবেশীদের অবদানে।
শিব সাজালে যাত্রাদলে সমাধিস্থ মঞ্চস্থানে,
অসাধারণ বালক ইনি, জানলো সবাই সেই প্রাঙ্গনে।
দাদার সাথে, কোলকাতাতে গেলেন জীবিকা সন্ধানে।
"রানী রাসমণি" বরণ তাঁরে, করেন ভক্তি সম্মানে।।
ভবতারিনীর আশীর্বাদে ভরলো জীবন নতুন স্বাদে,
মায়ের নামটি করেন কেবল, আকুল ব্যাকুল ক্রন্দনে।
বায়ুরোগে পাগল বুঝি, ছোট ঠাকুর হলেন আজি,
মথুরবাবু পাঠিয়ে দিলেন আপন গাঁয়ে গৃহাঙ্গনে।
বিয়ের জন্যে সহধর্মিনী, কন্যা খোঁজেন মা জননী,
গদাই নিজে বলে দিলেন, পাত্রী আছেন কোনখানে।
পাঁচ বছরের সারদাকে, নারায়ণকে সাক্ষী রেখে, -
জীবন সাথী বানিয়ে নিলেন, অপূর্ব এক শুভ লগনে।
'কেনারামের' শক্তি দীক্ষা, তোতাপুরীর বেদান্ত শিক্ষা,
কাম-কাঞ্চন ত্যাগী, যোগী, মগ্ন আত্ম নিবেদনে।
ব্রাহ্মীনি মার স্নেহধন্য 'অবতার' রূপে হলেন গণ্য -
দক্ষিনেশ্বর পঞ্চবটিতে অষ্টপাশের বর্জনে।
লজ্জা, ঘৃণা, কূল, শীল, ভয়, মান বা জাতি অভিমানে,
ত্যাগ দিয়ে সেই সাধক পেলেন, অভিনব সাধন ধনে।
সঙ্গে ছিলেন সারদামনি, জ্ঞানদায়িনী বীণাপানি,
তাঁদের মতন পতি-পত্নী, দেখেনি কেউ ত্রিভুবনে।।
অন্য ধর্মে হও সহিষ্ণু বলেন "শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ"
শরণাগত প্রভুর প্রতি, ঈশ্বরেতে শুধু মতি,
-কথামৃতের আস্বাদনে।
'সত্যের আঁট থাকবে ধরে, ছেড়ে কামিনী কাঞ্চনে', -
দয়া, ক্ষমা, প্রেমের ধর্ম - প্রচার করেন ভক্তগনে।
দূর-দূরান্তে, দেশ-দেশান্তে তাঁহার বাণীর স্পন্দনে,
ঘর-বাড়ি সব ফেলে এলেন, জুড়াইতে প্রাণ শ্রীচরণে।
'বিবেকানন্দ' প্রধান শিষ্য, জাগিয়ে দিলেন সারা বিশ্ব,
নতুন ভাবের জাগরনে, -
শত শত ভক্ত কত পার্ষদ করে মাথা নত,
দক্ষিণেশ্বর অঙ্গনে।
বিশ্বাস করা নয়তো শক্ত, সরল সত্য করেন ব্যক্ত,
দলে দলে এলেন চলে, তাই তো জীবন অর্পনে।
রসে বসে ছিলেন তিনি, এলেন মানব উদ্ধারণে -
সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের বাণী শোনান -
অচৈতন্যে।
প্রণাম জানাই বারে বারে, আজকে তোমার জন্মদিনে, -
যুগ শ্রেষ্ঠ গুরু তুমি, প্রাণ করে হায়
তোমা বিনে।
শ্রী শ্রী মা ও শ্রী রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ -
"ত্রিদেব" জ্ঞানে, -
জগৎ বাসী বসায় আজি তাঁদের
হৃদয় সিংহাসনে।
আনন্দ ও শান্তি আসে, তাঁদের স্মরণে,
মোদের প্রাণে।

ঠাকুরের প্রতি (Thakurer Proti )

চন্দনা সেনগুপ্ত

নিত্য শুদ্ধ বন্ধন মুক্ত ইশ্বরেরই অবতার।
লোক-কল্যাণ সাধন লাগিয়া,
আসিলে জগৎ পারাবার।
সর্ব - ধর্ম সত্য জানিলে, যত মত তত পথ সবার,
কর্মযোগী করিতে চাহিলে,
ভক্তগণকে গৃহের মাঝে।
বিষয় বুদ্ধি ত্যাজিয়া ডুবিলে
ভাব তরঙ্গে বারংবার।
তোমার লীলা, নতুন খেলা মহিমা অপার চমৎকার।
ঠাকুর গুরুদেব আমার।
তোমার বাণী আসল মানি, নকল ছাড়িয়া
হবো উদার।
'জন্মতিথিতে' প্রণাম হাজার - নিলাম
আমি যে অঙ্গীকার।
যখন যেথায় যে ভাবেই থাকি,
তুমি যেন সাথে রহো আমার।
জয় জয় গান গাহি যেন সদা
নিত্য শুদ্ধ অবতার।

প্রার্থনার ফল (Prarthonar phol)

চন্দনা সেনগুপ্ত

'ঠাকুর',-
তোমার অশেষ কৃপা - ও প্রেম
আমার মাথার পরে,
শ্রী শ্রী মায়ের দয়া স্নেহ -
নানান ভাবে পড়ছে ঝরে।
সদাই তুমি রক্ষা করো, কতই বিপদ হতে, -
দুঃখ সাগর পার করে দাও -
হাতটি ধরো পথে।
তোমার পরশ পাই যে আমি -
হাসপাতালের ঘরে।
সেবক সেবিকাদের যত্ন, পাই যে বারে বারে।
বিজ্ঞানেরই খেলায় লীলায় দিনে রাতে,
দেখতে পেলাম তোমার মুখ যে -
দেহের যন্ত্রণাতে।
প্রণাম তোমায় শত শত, এলাম আজি দ্বারে।
দাঁড়িয়ে আছি চক্ষু মুদে, -
আনন্দে মন ভরে।
সূর্যোদয়ের পানে তাকাই - যখন আবার প্রাতে,
তোমার ছবি দেখি উজ্জ্বল -
হৃদয় আঙিনাতে।
প্রভু, তোমার অপার দয়া, রাখব কোথায় ধরে !
আমার হিয়া কাঁপে যেন -
মুগ্ধতারই ঘোরে।
শ্রী শ্রী মায়ের স্নিগ্দ্ধ মূর্ত্তি, যায় না কভু সরে,
আঁখির আগে দাঁড়ান তিনি
রাত্রি, দিনে, ভোরে।।