পরীর দেশে বাসছিল, তার
সুন্দর এক কন্যা,
দেব দেবীদের আশীষ ধন্যা
রূপের যেন বন্যা।।
নৃত্য-গীতে রাত্রে প্রাতে
কথার ছোটে ফুলঝুরি,
দুষ্টমীতেও কম যায় না সে
সবার করে মন চুরি।।
বাবাকে তার সবাই চেনে
“গৌতম স্যার" এই নামে,
বর্দ্ধমানে দেশের বাড়ী
শ্যামল সবুজ এক গ্রামে।।
সব কাজেতেই হাসি খুশী
দুধ খেতে পায় কান্না,
চাদের আলোর মতন শুভ্রা
“মা'মণি তার জোৎস্না।।
পূজো বাড়ীর অনুষ্ঠানে
নাটক-খেলা-অঙ্কনে,
যোগ দেয় সে সব বিভাগে
প্রতিভা বলে উপহার আনে।।
ঈশ্বরেরই আশীর্ব্বাদ আজ
তার জীবনে সাফল্য দানে,
আমার প্রিয় নাতনী শ্রেয়া
পাঠাই স্নেহ তাহার পানে।।
অনেক সময় বিনা কারণেই
হাসি আসে আমার
কেন যে তার কারণ বোঝা ভার।
গভীর কথা সবাই যখন হৃদয় দিয়ে শোনে,
দারোয়ানজী বারান্দাতে, তখন হ্যাঁচ্ছ গোনে,
হাসির দমক চেপে রাখা,
হয় যে আমার দায়, কেন গো হায়!
তখন সবাই আমার পানে
কট মটিয়ে চায়!
শোক সভাতে চোখের জলে
ভাসছে দেখি সবাই; হঠাৎ তোলেন হাই -
রুমালে মুখ ঢেকে রাখা সভাপতিমশাই
তখন হাসি চাপতে যে চাই,
অনেক কষ্ট করে- তবু বারে বারে-_
বিচিত্র সব শব্দ বেরয় হাসি থামে নারে।
টাকে ওপর দুই গোছা চুল
দাঁড়িয়ে যেন শিং
হিন্দী পড়ান হাম্বা রবে
স্যার তেওয়ারী সিং।
তখন আমার জামার তলায় পেটের ছেঁড়ে নাড়ি
গুড়গুড়িয়ে হাসির দমক, দেয় যে রে সুড়সুড়ি।
ক্লাশসুদ্ধ সবার মুখেই, ইনফেক্শন ছাড়ি -
সবাই মিলে হাসতে থাকি
নয় কি বাড়াবাড়ি ?
মুকুল নামে একটি ছোট্ট মেয়ে
লাল মাটিভরা বাঁকুড়ায়-
দ্বারকেশ্বর নদীর ঢেলান বেয়ে
"বোবাদুলুর" হাতটি ধরে
নামলো বালুর চড়ায়,-
সূর্যাস্তের আলো দেখতে পেয়ে-
রইলো চেয়ে অবাক হয়ে
কে তাকে আজ ভোলায়!
ভাবলো বসে বড় হয়ে সে,
থাকবে কাব্য লয়ে,-
দিন কাটাবে নির্জনে তার
কবির স্বপন দোলায় ।।
অক্ষর রা শব্দ হবে
শব্দ জুড়ে বাক্য-
প্রকৃতি ও মানব মনে-
আনবে তারা ঐক্য,
লেখন তখন পেখম তুলে
নাচবে আঙিনায়
থাকবে মুকুল আপন মনে
ভাবের সাধনায় ।।
পাখিদের কে ভালোবেসে
উড়তে সে চাই তাদের সঙ্গে-
দূরের আকাশে ।
তাইতো 'বাবা' মুকুল থেকে
নাম দেন তার 'চন্দনা'-
কোলকাতাতে বেথুন স্কুলে,
বাঁকুড়া হতে এলো চলে
স্কুল পত্রিকায় ছাপলো লেখা,
করলো বাণীর বন্দনা ।
কিশোরী সেই স্বভাব কবি
নানান ভাবে আঁকলো ছবি-
ব্যক্ত করলো সরল ভাষায়,
শিল্পী মনের যন্ত্রনা ।।
বন্ধুরা সব বললো, তারে-
লেখার অভ্যাস ছাড়িস নারে,
অন্য কিছু হবার তরে-
যে যত দিক মন্ত্রনা ।।
আরো একটু বড় হয়ে,
শান্তিনিকেতনকে ছুঁয়ে-
একেবারে মুকুল হাজির
দিল্লী শহর মাঝে ।
রাজধানীটার কোলাহলে
কাব্য করা গেলো ভুলে
ঝাঁপিয়ে পড়লো,
জীবন যুদ্ধে
কর্ত্যব্য ও কাজে ।
স্বামী পুত্র ঘর সংসার
সামলে রাখল, বড় পরিবার
শিক্ষকতার জীবিকাতে
সাজলো নতুন সাজে ।
দায়-দায়িত্বে সপিল প্রাণ
অন্যের তরে তার শ্রম দান,
কবিতা তাই মুখ লুকালো-
বুকের তলায় লাজে ।
কিন্তু তাহার হৃদয় জুড়ে-
কাহার বাঁশি বাজে
সে নিজেও জানে না যে ।।
যৌবন ধায় তীব্র বেগে-
সময় ছোটে কামান দেগে
প্রৌঢ়ত্বের সীমায় এলো
নদীর কিনারায়
বইছে হাওয়া মন্দ মন্দ
এবার তাহার চলার ছন্দ-
অজানা এক মোড়ে এসে-
হঠাৎ থামলো হায়!
পিছন পানে তাকিয়ে দেখে
পথ গিয়েছে, এঁকে বেঁকে-
ছুটিস না আর, স্থির হ এবার-
ডাক দিলো কে আয় ।
কবিতা সখি দিচ্ছে উঁকি-
তাহার কথা দাও না লিখি
হৃদয় হতে মুক্ত করে
রাখো খাতার পাতায় ।
তাই এবারে বার্দ্ধক্যের
দোর গোড়াতে বসে-
যা পারে তাই লিখতে হবে,-
আপন আবেগ বশে
কান্না ভোলা স্তব্ধ দুপুর-
কাঁচা আমের অম্ল মধুর
গন্ধ ছড়ায় - কুসুম কলি,
অন্যের মন মাতায় ।
লেখার একটা আধার পেয়ে
চন্দনা তাই মুকুল হয়ে,
ব্যাথার কথায় গদ্যে পদ্যে
এখন লিপি সাজায় ।।
এখন কাগজ ভরায় ।।
কবিতা আমার প্রিয় বন্ধু, আমার সমব্যথী।
অবসরের দোসর ওগো ,। সুখ দুঃখের সাথী।
সে যদি যায়, ছেড়ে আমায় মন টা তখন কেঁদে বেড়ায়।
এ সংসারের দ্বারে দ্বারে ধাক্কা খেয়ে কোথায় হারায়।
কবিতা তুমি নিত্য থেকো , হয়ে আমার সঙ্গী,
তোমার ছন্দে মোহিত করে। স্নিগ্ধ দেহ ভঙ্গী।
শব্দ রত্ন দিয়ে তোমার গঠন যে হয় শরীর।
তাহার উপর রঙ লাগিয়ে বানাই কাব্য নীড়।
জীবন যুদ্ধে একা একা যখন করি লড়াই।
জিতে গেলাম ভেবে আমি ,যখন করি বড়াই,
তখন তুমি নামিয়ে আনো, হাত খানি মোর ধরে।
চাঞ্চল্যের মোহ বাদল তখন পালায় দূরে।
করিতা সখী, তুমি আমার মনের মতন পাখী।
উড়তে যে চাই তোমার সঙ্গে, সবাই কে দিই ফাঁকি।