বাবুই পাখীর বাসা

চন্দনা সেনগুপ্ত

বাবুই পাখীর বাসা, দেখতে বড় খাসা,
খেজুর পাতার সুতো দিয়ে
বুনোনি তার ঠাসা।
মুখটি যেন উল্টো কলসী
কুঁজোর মতন গলা
দরজাটি তার নয়তো বন্ধ
সদাই থাকে খোলা।
রাতের বেলায় জোনাক জ্বলে 
ঠিক সে টুনি আলো।
গোবর মাটি লেপা দেওয়াল
পোকা কালো কালো।
ছানা পোনা সারাটি দিন
কিচির কিচির করে।
বাবুই পাখী তাদের তরে
পোকা মাকড় ধরে।

লজেনচুষের লোভে

চন্দনা সেনগুপ্ত

এ যুগের দাদু পকেট রাখেন না
আর ছেলে ভোলানো
লজেনচুষ।
নারকেল দেওয়া কমলার রসে ভরপুর -
নাতির মন পেতে
তাকে দিয়ে ছোটোখাটো
কাজ করিয়ে নিতে -
তাঁর জানা ছিল ঐ একটাই
ঘুষ।
ওতে ভরা থাকতো সেই সময়ে তাদের স্নেহ,
শিশুর শৈশব যেত গলে।
আনন্দে এসে কোলে চড়তো সে -
কোনদিকে থাকতো না তার
হুঁশ।
দাদু হতেন টাট্টু ঘোড়া -
গরুর গাড়ীর বলদ জোড়া -
নাতির সঙ্গে রঙ তামাশায়,
 কাটতো জীবন
খুশির নেশায়, আদর স্নেহ ভলোবাসায়
মিষ্টি রসে টুসটুস।
এখন আর তা হয় না,
লজেনচুষ তো কেউ চোষে না,
তাদের খাবার নতুন নতুন
পাস্তা, পিজ্জা আর
 নুডুলস।
দাদু থাকেন গ্রামের ঘরে,
নাতিরা যায় সাগর পারে,
মোবাইলেই দেখা শোনা আশা
ফানুস হয় যে তাই 
 ফুস l

ঠাকুমার ঝুলি

চন্দনা সেনগুপ্ত

ঠাকুমা দিদিমাদের এখন গল্প বলার যুগটা
শেষ।
তাই তাঁরাও আছেন এখন খোস মেজাজে
বেশ।
টিভি সিরিয়ালে চোখ রেখে
সোফায় গা এলিয়ে থেকে
সময় কাটান। মনে লেগে থাকে
নানা রকম ঘটনার
রেশ।
কারণ?
নাতি - নাতনিরা হোমওয়ার্কের দুরুন্ত নদী
পার হয়ে একটু ছুটি পায় যদি -
তখন সুযোগ পেলে
প্রাণ মন সব ঢালে, -
রসালো কার্টুনে।
হাজার হাজার উদ্ভাবনে, -
রোমাঞ্চ, রহস্য, রোবট, ডাইনোসর এলিয়েনে,
নিজেদের একাত্ম করে, -
কিসের অমোঘ আকর্ষণে,
কল্পনার স্রোতে তারা বহে চলে !
রাক্ষস খোক্ষস দত্যি দানা।
পক্ষিরাজের উড়ন্ত ডানা, -
কিম্বা - রাজপুত্র, পরমা সুন্দরী রাজকন্যা -
সবাই এখন বিলুপ্ত।
শিশুরা যখন থাকে ঘুমের দেশে সুপ্ত
স্বপ্ন ভেলায় তলিয়ে যায় -
কোন অতলে, -
তখন ঠাকুমারা তাদের কাছে এসে
অপেক্ষা করেন ঝুলি খুলে,
কিন্তু তারা জাগে না কোনও
রুপোর কাঠি সোনার কাঠি ছুঁলে।

কাঠ বিড়ালী, কাঠ বিড়ালী (Kathbirali, Kathbirali)

আমার যে তুই সই,
কেমন করে উঠলি মাচায় ?
নেই তো হেথা মই!

সারাটি দিন লাফালাফি
পড়লি, না তুই বই,
যাস্‌ যে ঘেমে, আয় না নেমে,
চাস খেতে কি দই?

দেখ না এসে, ভালোবেসে
মা দিয়েছেন খই,
বারান্দাতে চড়াই সাথে
করিস নে হৈ চৈ।

তরতরিয়ে চড়লি গাছে
তর সয় না তোর।
তারিয়ে খেলি তরমুজটা,
তরল লালের ঘোর।
তোর তরে যে তারিনীদি-
তারের লাগায় দোর
তরু তলায় পাহারা দেয় -
যেই না হলো ভোর।

তেরে কেটে তাল শুনিয়ে
ছুট লাগালি জোর।
বাগান ঘুরে ফল খেলি তুই
নাম কিনলি “চোর”।

কাঠ বিড়ালী কর দালালি
ছোট্ট পাখীদের।
পোকা খেয়ে মন ভরে না,
ফল মূল খাস ঢের।
কুটুর কাটুর নেংটী ইঁদুর 
গাছের নীচে থাকে -
পাকা আমের আশায় তোকে
বারে বারে ডাকে।

ল্যাজ ফুলিয়ে উজল চোখে
এদিক ওদিক চাস,
দুই পা দিয়ে কেমন করে
বাদাম ভেঙে খাস ?

বৃষ্টি এলে লুকিয়ে গেলে
কখন পাতার তলে?
শালিখ পাখীর সঙ্গে যত
মনের কথা বলে।
সাদা ডোরায় হাত বুলিয়ে
করতে যে চাই আদর -
ধরব ওরে কেমন করে?
ব্যস্ত যে দিন ভর!

টুপুর টাপুর মধুর দুপুর _
আবেশ লাগে মনে,
কাঠবিড়ালী তোর মিতালী
হবেই আমার সনে।