চন্দনা সেনগুপ্ত
"ধনী" দাই মা, ধন্য তুমি, প্রসব করালে ভগবানে। তাই তো তাঁহার কৃপায় হলে, ভিক্ষা মা - তাঁর উপনয়নে। ধাত্রী তুমি সেবা কর্মী, - তোমার মতন - কে আছে ভুবনে ! ভূমিষ্ট যে করলে যত্নে - "চন্দ্র মনির" সু সন্তানে। ছাই চাপা এক আগুন তিনি, - বুঝিয়ে দিলেন সর্ব জনে। ভগবানের মানুষ জন্ম জানিয়ে দিলেন, - সু লক্ষণে। কুষ্ঠি বিচার করলেন তাঁর - মহা পন্ডিত বিচক্ষণে। শঙ্খধ্বনি বাজলো তখন, ব্রাহ্ম মুহূর্তে - শুভ ক্ষণে। গনক ঠাকুর - নাম দেন তাঁর "শম্ভুচন্দ্র" প্রথম দিনে, পিতা ক্ষুদিরামের স্বপ্নে, বিষ্ণু এলেন তাঁর ভবনে।। বাল্যকালে আকাশতলে শুভ্র বকের সারি দেখে - কেউ জানে না, আত্মশূন্য হলেন শিশু কি কারণে ! "ভূতির খালে" ছুটে গেলেন, জ্ঞান হারালেন - সেই শ্মশানে, বিশালাক্ষী মন্দিরেতে ভাব সমাধি দিব্য জ্ঞানে। 'কামার পুকুর' বাসী সবাই মুগ্ধ শিশুর রূপ দর্শনে। লালাবাবুর ভালোবাসা, স্নেহ প্রেমের কল্যানে, - গদাধরের অন্নপ্রাশনে, আনন্দেরই বন্যা আনে। গ্রামের লোকে থাকতো মেতে, তাঁহার অভিনয়ে গানে। অন্ন চিন্তা ছিল না তাঁর প্রতিবেশীদের অবদানে। শিব সাজালে যাত্রাদলে সমাধিস্থ মঞ্চস্থানে, অসাধারণ বালক ইনি, জানলো সবাই সেই প্রাঙ্গনে। দাদার সাথে, কোলকাতাতে গেলেন জীবিকা সন্ধানে। "রানী রাসমণি" বরণ তাঁরে, করেন ভক্তি সম্মানে।। ভবতারিনীর আশীর্বাদে ভরলো জীবন নতুন স্বাদে, মায়ের নামটি করেন কেবল, আকুল ব্যাকুল ক্রন্দনে। বায়ুরোগে পাগল বুঝি, ছোট ঠাকুর হলেন আজি, মথুরবাবু পাঠিয়ে দিলেন আপন গাঁয়ে গৃহাঙ্গনে। বিয়ের জন্যে সহধর্মিনী, কন্যা খোঁজেন মা জননী, গদাই নিজে বলে দিলেন, পাত্রী আছেন কোনখানে। পাঁচ বছরের সারদাকে, নারায়ণকে সাক্ষী রেখে, - জীবন সাথী বানিয়ে নিলেন, অপূর্ব এক শুভ লগনে। 'কেনারামের' শক্তি দীক্ষা, তোতাপুরীর বেদান্ত শিক্ষা, কাম-কাঞ্চন ত্যাগী, যোগী, মগ্ন আত্ম নিবেদনে। ব্রাহ্মীনি মার স্নেহধন্য 'অবতার' রূপে হলেন গণ্য - দক্ষিনেশ্বর পঞ্চবটিতে অষ্টপাশের বর্জনে। লজ্জা, ঘৃণা, কূল, শীল, ভয়, মান বা জাতি অভিমানে, ত্যাগ দিয়ে সেই সাধক পেলেন, অভিনব সাধন ধনে। সঙ্গে ছিলেন সারদামনি, জ্ঞানদায়িনী বীণাপানি, তাঁদের মতন পতি-পত্নী, দেখেনি কেউ ত্রিভুবনে।। অন্য ধর্মে হও সহিষ্ণু বলেন "শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ" শরণাগত প্রভুর প্রতি, ঈশ্বরেতে শুধু মতি, -কথামৃতের আস্বাদনে। 'সত্যের আঁট থাকবে ধরে, ছেড়ে কামিনী কাঞ্চনে', - দয়া, ক্ষমা, প্রেমের ধর্ম - প্রচার করেন ভক্তগনে। দূর-দূরান্তে, দেশ-দেশান্তে তাঁহার বাণীর স্পন্দনে, ঘর-বাড়ি সব ফেলে এলেন, জুড়াইতে প্রাণ শ্রীচরণে। 'বিবেকানন্দ' প্রধান শিষ্য, জাগিয়ে দিলেন সারা বিশ্ব, নতুন ভাবের জাগরনে, - শত শত ভক্ত কত পার্ষদ করে মাথা নত, দক্ষিণেশ্বর অঙ্গনে। বিশ্বাস করা নয়তো শক্ত, সরল সত্য করেন ব্যক্ত, দলে দলে এলেন চলে, তাই তো জীবন অর্পনে। রসে বসে ছিলেন তিনি, এলেন মানব উদ্ধারণে - সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের বাণী শোনান - অচৈতন্যে। প্রণাম জানাই বারে বারে, আজকে তোমার জন্মদিনে, - যুগ শ্রেষ্ঠ গুরু তুমি, প্রাণ করে হায় তোমা বিনে। শ্রী শ্রী মা ও শ্রী রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ - "ত্রিদেব" জ্ঞানে, - জগৎ বাসী বসায় আজি তাঁদের হৃদয় সিংহাসনে। আনন্দ ও শান্তি আসে, তাঁদের স্মরণে, মোদের প্রাণে।