"স্মৃতি ভ্রষ্টা - বৃদ্ধা" যখন "খণ্ডন ভব" - করেন স্মরণ -
তখন হটাৎ তাঁহার স্পর্শে - পেয়ে যায় আমি -
"গুরু দর্শন"। তুষ্ট শিশুর হাসির মধ্যে, -
অসহায়ের সান্নিধ্যে - মোচন হয় যে সব বন্ধন -
"অবলা পশুর" ক্রন্দন দেয় ঈশ্বর তব স্পন্দন।
'মূক বধিরের' নীরব কাহিনী "ঠাকুর" শোনায় দয়ার বাণী
অন্ধ মেয়ের হাত দুটি ধরে "মা"র উত্তাপ কে দিল আনি!
পথের দু পাশে - বৃদ্ধ - বৃদ্ধা -
আমার নিজের মাতা - পিতা তাঁহাদের প্রতি, প্রেম জাগে অতি -
এটাই বিবেকের - উত্তরণ।।
(ক) যেথায় যেমন সেথায় তেমন যে দেশের যা আচার -
অনুকরণ করে চলি, সবার ব্যবহার।
অন্যরকম খাওয়া দাওয়া পোশাক পরিধান,
ভাষা ও চাল শিখতে হবে অন্যসুরে গান।
(খ) যখন যেমন তখন তেমন, - না হয় যেন ভুল।
সব বয়সে, রসে, বশে তুলব জ্ঞানের ফুল।
যে কালেতে যেমন ফসল, তার তরে চাই পরিশ্রম
কালের তালে, চলবে জীবন, করবে কঠিন সংযম।
(গ) যার - সঙ্গে যেমনটি ভাব তার সঙ্গে তেমনটি লাভ
বুঝতে পারলে মঙ্গল, সাধুর সঙ্গে তীর্থ যাত্রা
পশুর সঙ্গে জঙ্গল।
(ঙ) ভালো মানুষ সুবাস ছড়ায়, 'দয়া' 'ক্ষমা'য় ভরা।
'ডাকাত' - 'মাতাল' তেমনটি নয়, পালাও দূরে ত্বরা।
"শ্রীশ্রী মায়ের" তিন উপদেশ গেঁথে, নিলাম মালায়।
আনন্দেতে কাটল যে কাল, সকাল সন্ধ্যে বেলায়।
কোথাও গিয়ে অসুবিধায় পড়তে হয়নি কভু।
বরফের দেশ মরুপ্রদেশ ছুটে ছুটে যাই, তবু।
ধনী নির্ধন সুখী দুঃখী জন, সাদা বা কালোর সঙ্গে -
আপন জন যে হয়ে থাকি - (সদা) নানান সুরে রঙ্গে।
এই জীবনের যা - সাফল্য সবই - "তাঁদের" দান,
"ঠাকুর" ও মার আশীর্বাদে - ভরল যে, মন প্রাণ।।
ঠাকুর তোমার "নরেন" কে নিয়ে রচনা করব কাব্য।
এমন সাহস নেই যে আমার, প্রয়াস নৈব চৈব।
আগুন সঙ্গে নয় ছেলে খেলা, - উত্তাপ-আলো দেয় সারাবেলা
এ জগতে তার জন্ম হওয়াটা নেহাতই কোনো দৈব।
'তোমার' নিকট বসি শান্তিতে, - আবদার চলে 'মার' নিকটেতে, -
'বিবেকানন্দ' সামনে এলেই ভাবি কি কথা যে কইব?
'খাপ খোলা এক তলোয়ার' সে যে, মহা জ্যোতিষ্ক শৈব,
অবশ এ মনে করিয়া কেমনে তীব্র সে তেজ সইব?
"বিবেকানন্দ" করিল মুগ্ধ - রাজা - প্রজা এই দুনিয়ার
"সপ্তর্ষির" শ্রেষ্ঠ ঋষি, যে খাপ খোলা এক তলোয়ার।
যেমন তেমন অস্ত্র সে নয়, ভীষণ তাহার কথার ধার।
অবশ, অচল - জীবন সচল পিছনের পানে দেখে না তো আর।।
ঝাঁপাইয়া পড়ে, পরের বিপদে - ঝঞ্জা হইতে করে উদ্ধার,
"বিবেকের বাণী" সার কথা মানি, পার হব এই ভব সংসার।।
তাঁর আহ্বানে - ভক্তের কানে বাজে অদ্ভুত এক ঝংকার,
"উত্তিষ্ঠিত - জাগ্রত" হতে মোদের বলেন, তিনি বার বার।
অসাধারণ প্রতিভার প্রভা, দেখিল যখন জগতের সভা,
বিচ্ছুরিত শত জগতের আভা, করিলেন তিনি চমৎকার।
'বিবেকানন্দ' নামে আনন্দ পবিত্র যে দেহের আধার
শিব জ্ঞানে জীবে সেবা যেবা করে, - সেই তো আসল বন্ধু তার।।
ঠাকুর -
তোমার নাম নিয়ে মুখে -
মায়ের ছবির তকমা এঁকে বুকে -
স্বামীজীর দিকে একটু ঝুঁকে -
আবার এক নতুন পথের দিকে -
আমার যাত্রা হল যে শুরু।
জীবনের প্রত্যেক মোড়ে যখন রাস্তা হারিয়ে -
ভাবছিলাম এবার কোন ধারে
পা বাড়াই -
ঠিক তখনই ট্রাফিক পুলিশের মতন -
মাঝখানে দাঁড়িয়ে -
মার্গ দর্শন করিয়ে দিয়েছো তুমি,
আজও তাই করবে জানি।
তোমাকে জড়িয়ে ধরবে -
আমার জীবন তরু।
কারণ আমি তো বাঁদর ছানার মতন
তোমাকে আঁকড়ে থাকি না,
ভয় নেই তাই অপটু হাত ছেড়ে
পড়ে যদি যাই -
বরং এই ভক্তকে শক্ত করে ধরে রেখেছো তুমি।
যেমন মা বেড়াল তার ছানাটিকে
মুখে নিয়ে যে ভাবে চলে, ঠিক তেমনি, -
যেখানে, যেভাবে, যার কাছে রাখলে
রক্ষা পেতে পারি
সেই দিকে সর্বদা নজর রেখেছো তোমার
তাই তোমার ওপরেই সব ছেড়েছি আমি,
তুমিই ত্রাতা, পিতা অবতার
মোর আরাধ্য গুরু।।
মালিক - রামু রামু, কোথায় গেলি? দোকান ছেড়ে? শিগগির এদিকে আয়।
রামু - আমায় ডাকতেছিলেন ক্যানো?
মালিক - তোমায় ডাকছিলাম পুজো করব বলে, বৃন্দাবনের হনুমান, পুরীর ষাঁড়, যে আক্কেলে রাম ছাগল - এটা কি করেছিস?
রামু - কি করেছি বাবু? অতগুলো জানোয়ারের কাজ এক সঙ্গে করব কি করে বলেন?
মালিক - আবার মুখে মুখে কথা? এই তেল, ডাব, চাল সব নির্ভেজাল রেখে দিয়েছিস? এখনো কিছু মেশাসনি?
রামু - আজ্ঞে বাবু মিশাইছি তো।
মালিক - বলেছিলাম ঐ সস্তার তেলটায় এইটা মিশাবি।
রামু - ক্যামন কইরা বাবু?
মালিক - ক্যানো এই ভালো টিনের তেলটা অর্দ্ধেক করবি আর ওটা মেশালে দুটো তিন ভর্তি হবে।
রামু - আর এই পাথর, কাঁকরগুলা ক্যান আনছেন বাবু?
মালিক - কালকেই তো বললাম, গাধা। এইগুলো কালো ডালে আর ওগুলো হলদে ডালে আর চলে মেশাতে হবে।
রামু - তা নয় মিশালাম বাবু - কিন্তু যারা কিনবেন ওদের যে খেতে গিয়ে দাঁত ভাঙ্গি যাবে। ত্যাখন কি হবে?
মালিক - (মুখ ভেঙ্গিয়ে) ত্যাখন কি হবে? তোর মাথা হবে।
রামু - (নিজের মাথায় হাত দিয়ে) এ্যা আমার মাথা? ইখানটায় বড় জট হইছে! ত্যাল দ্যান না বাবু একটু নরম করি, চান কইরে আসি।
মালিক - হতভাগা তুমি এখন চান করে ফুলবাবু হবে? আমি এখন ভেজালের হিসাব করছি আর উনি নিজের চুলের জঙ্গল দেখাচ্ছেন। কর কর জলদি জলদি কাজ কর। এখুনি খদ্দের এসে পড়বে।
রামু - (মাথা চুলকে) বড় উকুন হইছে বাবু (হেসে) চুলকাইছে।
মালিক - তা আমি কি করব। এখন বসে বসে তোমার উকুন বাছবো? না না ধর এই বস্তাটা ওদিকে কর। ঝাঁট দে, ওজন দাড়িটার এক দিকে এই চুম্বকটা লাগা।
রামু - ওটাতে কি হবে বাবু?
মালিক - ওতেই তো লাভটা খাবো।
রামু - (হটাৎ এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে) দাঁড়া তোকে আজ আমি ধরব।
মালিক - অ্যাই, অ্যাই বুদ্ধু কি করে বেড়াচ্ছিস?
রামু - আজ্ঞে এই ইঁদুর গুলোর সঙ্গে একটু কিরকেট খেলছি।
মালিক - আরে! তাড়া তাড়া ওগুলো খেয়ে ফেলল যে অর্দ্ধেক আটা, চিনি।
রামু - বাবু ওরা হল গণেশ ঠাকুরের বাওন, ওদের একটু খ্যাতি না দিলে বগমান রাগ কব্বে না?
মালিক - ওরে আমার গুরুঠাকুর এলেন রে। গণেশ ঠাকুরের ভোগ দিতে গিয়ে যে আমার সব্বোনাশ হয়ে যাচ্ছে সে খেয়াল নেই তোমার? দাঁড়া দ্যাখাচ্ছি মজা।
রামু - আচ্ছা এটাকে ধইরেছি এখন কি করি বাবু। (একটা নেংটি ইঁদুরের ল্যাজ ঘোরাতে থাকে)
মালিক - আরে আরে করিস কি? ফেলে দে ফেলে দে, ফ্যাল ওটাকে।
রামু - একটা ফ্যাললে কি হবে গো বাবু ওদের তো রাজত্ব এখানে।
মালিক - যা যা ঐ ইঁদুর মারার ওষুধটা আটার সঙ্গে মিশিয়ে কোনে কোনে ছড়িয়ে দে আর ঐ কলটা লাগা, রাতে ইঁদুর পড়বে, সকালে ফেলে আসবি যমুনার জলে।
রামু - কি মজা হবে কাল যমুনা গিয়ে ঝাঁপাই আসব কতদিন সাঁতার কাটি নাই।
মালিক - এই গেঁয়ো ভূতটাকে নিয়ে যে কি করি। অ্যাই এই দিকে আয় ঝাঁট পাট দে, আমি একটু ব্যাঙ্ক থেকে ঘুরে আসছি।
রামু - আপনি টেরেনের ব্যাঙ্কে ক্যান যাবেন বাবু? আমাকে আমার কাকা গ্রাম থেকে আনবার সময় তো ব্যাঙ্কে উঠাই দিছিলো।
মালিক - আরে চুপ। ট্রেনে কে যাবে এখন টাকার ব্যাঙ্কে যাচ্ছি। দোকান পাহারা দে। খদ্দের এলে ওজন করে জিনিষ দিবি হিসেবে করে পয়সা নিবি।
রামু - খালি পয়সা নিব বাবু টাকা নিব নাই।
মালিক - আচ্ছা জ্বালাতন তো এই আহম্মকটাকে নিয়ে।
রামু - আপনি নিশ্চিন্তে যান, আমি দোকান পেহারা দিচ্ছি।
মালিক - হ্যাঁ হ্যাঁ তাই ভালো বেচা বেচি করতে হবে না! এই জিনিষগুলো গোছ-গাছ কর। (প্রস্থান)
রামু - গান গাইতে গাইতে চাল, ডাল ওলোট পালট করে।
তাই না না না নাই রে না রে না
উঠান ধারে ব্যাগুন ফলছে, খাতি পেলাম না।
খদ্দের - ও ভাই ও দোকানীর ছেলে, এক কেজি চিনি দাও তো।
রামু - এখন তো বেচাকেনা হবি না বাবু।
খদ্দের - ক্যান রে ঐ তো চিনি বস্তা, আর এই তো ওজনদারি - দে দে তাড়াতাড়ি দে, আমার ঘরে অতিথি এসেছে। (দর্শকদের দিকে ফিরে) বৌ আবার চায়ে জল চাপিয়ে দেখছে চিনি নেই। আগে থেকে তো তেনার খেয়ালেই হয় না।
রামু - কি বকতেছেন গো বাবুমশাই?
খদ্দের - কিছু বলছি না, তুই চিনিটা দে বাবা তাড়াতাড়ি।
রামু - ওটাতে যে এখনও কি ভেজাল মেশাবো মালিক বলে দ্যান নাই, কি করে দেব?
খদ্দের - কি বলছিস রে? ভেজাল মেশাবো মানে?
রামু - হ্যাঁ এই দ্যাখেন না এইটাতে - গোলমরিচে পেঁপের বীজ, ঐ লঙ্কায় ইঁটের গুঁড়ি, চালে কাঁকর আর কাচ্চি ঘানির সঙ্গে - - - -
খদ্দের - থাক থাক আর বলতে হবে না। তোদের দোকানে বাবা আর কিছু কিনতে আসছি না।
রামু - (ঠোঙায় এক খাবলা চিনি ভরে দিয়ে) এই একটু চিনি আপুনি নিয়ে যান, গিন্নিমা চা বসিয়েছে বললেন। চিনি না নিয়ে গেলে বকুনি খ্যাতি হবে না?
খদ্দের - তা মুফতে যখন দিলি তখন নিয়েই যাই পরে আর আসব না। (প্রস্থান)
দ্বিতীয় খদ্দের - ও ভাই শুনছো, দুটো কপি দাও না স্কুলের জন্যে।
রামু - কপি? এটা কি তরকারি - সব্জির দোকান নাকি? কপি কোথায় পাবো?
দ্বিতীয় খদ্দের - আরে বুদ্ধু কফি না, কপি মানে কাগজের খাতা. যাতে লেখা লেখি করে।
রামু - তা খাতা তো দিতে পারি। পয়সা আনছো?
দ্বিতীয় খদ্দের - বিনা পয়সায় নেব নাকি? এই নাও পাঁচ পাঁচ দশ টাকা।
রামু - মালিকবাবু বলে গেলেন পয়সা নিতে। খাতার পাতায় ভেজাল দেছেন কিনা তাও তো জানি না, এখন কি করি?
দ্বিতীয় খদ্দের - আরে ভাই আমার স্কুলের দেরী হয়ে গেল যে, নেই তো বলে দাও, অন্য দোকানে যাচ্ছি।
রামু - হ্যাঁ তাই যাও, না জিজ্ঞেস করে দিতি পারবো না।
দ্বিতীয় খদ্দের - প্রস্থান (ধুৎ তোর দোকানের নিকুচি করেছে)
মাসী - এই ছেলে এক কিলো মুসুর ডাল দে তো বাবা।
রামু - দাঁড়াও গো মাসীমা এই পাথরগুলো মেশাই নি তাপ্পরে দেব।
মাসী - সে কি রে হতভাগা পাথর মেশাবি কি রে - আচ্ছা বেয়াদ্দপ দেখি।
রামু - বাবু বলে গেছে যে।
মাসী - আরে দেখাচ্ছি তোর বাবুকে। আমাকে চেনে না আমি রায় গিন্নির ঝি খেমঙ্করী, গোটা পাড়ার লোক এনে দোকানের বারোটা বাজাবো।
রামু - ও মাসী দাঁড়াও গো, ডাল নিয়ে যাও।
মাসী - হ্যাঁ, আসব একেবারে পুলিশ নিয়ে, ভেজাল দেওয়া ঘুচিয়ে দেব।
রামু - খানিকটা গুড় ভেঙে খেতে খেতে - অ্যা থুঃ থুঃ এটা আবার কবেকার গুড়, আরশোলার গন্ধ। ইঁদুরের লাদি ভর্তি। আমি খ্যাতি পারছি না খদ্দের বাবুরা কি করে মুখে দেবে!
তৃতীয় খদ্দের - আরে এই ছেলে তোর মালিক কোথায় রে? তাড়াতাড়ি ডাক। বল ইন্সপেক্টর বাবু এসেছেন।
রামু - বাবু তো নাই। একটুকুন বসতি হব্যে।
ইন্সপেক্টর - আচ্ছা আচ্ছা বসছি, যা চা সিঙ্গারা নিয়ে আয় আগের বারের মতন সঙ্গে ডবল ডিমের ওমলেটও আনবি।
রামু - কুথা থেক্যে বাবু? আমিও খাব। কাল রাত্তির থেক্যে কিছু খাই নাই, বড্ডো খিদা পাইছে।
ইন্সপেক্টর - ও তুই নতুন চাকর? ওই গোপালদার চায়ের দোকানটা চিনিস না? ওই ওদিকের মোড়ে বাঙালি দাদার দোকান, তোর বাবুর নাম বলবি, ধারেই দেবে।
রামু - বাবুর নাম তো জানি না।
ইন্সপেক্টর - আচ্ছা বোকা ছেলে রেখেছে তো দোকানী। দে দুটো বিস্কুটের প্যাকেট দে।
রামু - (প্যাকেট দেয়) পয়সা দাও।
ইন্সপেক্টর - আমার পয়সা লাগে না। মালিকদের আমি বাবা হই, হপ্তা নিতে এসে চা পানি পেলাম না এই দুদিনের ছোকরা আবার পয়সা চায়। (প্রস্থান করতে উদ্যত)
রামু - (পা টা জড়িয়ে ধরে) - না বাবু আপনাকে আমি যেতে দিব না বাবু, তাইলে বাবু মারবে আমাকে। আপনি বসেন আর একটু।
ইন্সপেক্টর - আমাকে আরো অনেক দোকান ঘুরতে হবে, যা যা যেতে দে। যার কাছে যাব সেই আমাকে খাওয়াবে। তোর বাবু থাকলে দেখতিস কত খাতির করত। এই বড় বড় মিষ্টি আসত।
রামু - আমি আপুনিকে য্যাতি দেব না, আপনার খাবার এলে আমারেও একটু দেবেন বাবু।
ইন্সপেক্টর - আরে তুই তো বড় হ্যাংলা ছেলে। খালি খাই খাই করছিস। দে ঐ নুডুলসের ঐ প্যাকেটগুলো দে, আমার ছেলেটা আবার টিফিনে চাইনিজ ছাড়া কিছু খাবে না।
(একসঙ্গে একগাদা প্যাকেট তুলে ব্যাগে ভরে নেয় নকল ইন্সপেক্টর)
মালিক - রামু রামু আরে বাবা এ আবার এসেছে। (পলায়নের প্রয়াস)
রামু - ঐ তো বাবু এসে গেছেন, বসুন কর্ত্তা। এখুনি মিষ্টি, সিঙ্গারা, ডিম ভাজা সব আনতেছি।
মালিক - আরে এ বাঁদরটা করে কি? এ তো সেই নকল ইন্সপেক্টরটা, একে এতো
(জনান্তিকে দর্শকের দিকে) খাতির করছে।
ইন্সপেক্টর - হ্যাঁ দাদা এগুলো বাচ্চাদের জন্য নিলাম, আর চা টা কাল এসে খাব। আপনার এই ছেলেটা বড় ভালো পেয়েছেন। চলি -
মালিক - দাঁড়া তোর মজা দেখাচ্ছি। সিঙ্গারা খাওয়াবে, ফ্রি তে জিনিষ বিলি করছেন। আজই তোকে বিদায় করব।
রামু - ক্যান বাবু, আমি কি দোষ করছি?
মালিক - (মারতে উদ্যত) দোষ! না, না, তোর দোষ কেন হবে, আমিই ভুল করেছি তোকে রেখে, গেঁয়ো ভূত।
(কয়েকটি ছেলে, প্রথম, দ্বিতীয় খদ্দের, পুলিশ ও আসল ইন্সপেক্টর বাবুর প্রবেশ)
ইন্সপেক্টর - একি আপনি এই বাচ্চা সার্ভেন্টকে মারছেন?
মালিক - ও কিছু নয়, ওকে তো আদর করে বকছি। বসুন বসুন, চা খাবেন? রামু যা বাজার থেকে চা, সিঙ্গারা, মিষ্টি নিয়ে আয়।
রামু - না বাবু, আপনারা বসবেন না। বাবু আমাকে পরে বকবেন।
পুলিশকে ইন্সপেক্টর - (সব জিনিষ চেক করতে করতে) দেখুন সব জিনিসেই কত ভেজাল, আমরা খবর পেয়েছি আগেই। আজ এই বাচ্চাটা একজন ভদ্রলোককে চিনি দেয়নি ওতে তখনও কিছু মেশানো হয়নি বলে। চলুন এ্যারেস্ট করুন এঁকে।
রামু - আমি কোথায় যাব বাবু? আমাকে গাঁয়ে পাঠাই দ্যান বাবুরা। ই পাগলদের শহরে আমি আর থাকবনি।
মালিক - মাথায় চাপড় মারতে মারতে পুলিশের সঙ্গে প্রস্থান।
রামু - গান গায়
ভেজাল বাবু পড়লো ধরা
রামু পেল এবার ছাড়া
কয়েকটি ছেলের প্রবেশ। যে খাতা কিনতে এসেছিল
দুষ্টু দোকানদারকে জেলে ভরো
সরল রামু আজকে হিরো।
চল চল ভাই আজ থেকে তুমি আমাদের বাড়িতে থাকবে। তোমাকে আমরা পড়াব। দোকানে পড়ে পড়ে আর মার খেতে হবে না।
আনন্দে হৈ হৈ করতে করতে ড্রপসীন পড়ে।
সমাপ্ত