লীলা প্রসঙ্গ (Lila Prosonge)

চন্দনা সেনগুপ্ত

"মায়ের" পথে চলে যে জন,
সে জন আমার প্রাণের বন্ধু,
"ঠাকুর" তোমার "লীলা প্রসঙ্গে" -
মুগ্ধ হৃদয়, উদার - সিন্ধু।
"বিবেকানন্দ" জ্ঞানানন্দ - করল,
ধন্য জীবন - ইন্দু, -
তাঁহার আদেশ চলবে মেনে, -
মানব প্রেমিক, তিনি সুখেন্দু।
শ্রেষ্ঠ ধর্ম গ্রন্থ জানি "কথামৃত" অমলেন্দু -
তারই মাঝে পেলাম, খুঁজে -
মিত্র, পবিত্র - শিশির বিন্দু।
"ঠাকুর" তোমার "লীলা প্রসঙ্গে"
ধন্য হল, আত্মা - সিন্দু।
তুমিই যীশু, তুমি আল্লা, নানক, কবীর
তুমিই দেবতা পরম হিন্দু।।

চন্দন বন (Chandon Bon)

চন্দনা সেনগুপ্ত

চন্দনের বনের বাতাস - বইছে, আজি মন্দ মন্দ -
"মায়ের" মতে সংসারেতে - চললে জীবন, পায় সে গন্ধ।
বইছে প্রাণে, ক্ষণে ক্ষণে, - হওয়ার তালে নতুন ছন্দ।
ধন্য করল, পরশ তাঁহার, - ঘুচল, যে তাই, সকল দ্বন্দ্ব।
সোনা রূপোর খনির আগে আছে আনন্দ,
রাখবো না আর এ মন - বেঁধে গৃহের মধ্যে বন্ধ।
রাখব না আর জীবন শুষ্ক - "গুরু" আমার মহা-জ্যোতিষ্ক
নক্ষত্র যে সেই কনিষ্ক, - মিটলো, সবই সন্দ - আজ
পেলাম, মধুর - গন্ধ। ওরে চন্দনেরই গন্ধ।
ঠাকুর আমার সঙ্গে আছে, জীবনে তাই আনন্দ।।

তোমার প্রলেপ‌ (Tomar Prolep)

চন্দনা সেনগুপ্ত

যখন তোমায় স্মরণ করি,
প্রানে কে যেন লেপে দেয়,
চন্দনের প্রলেপ।
হাল্কা সুগন্ধ শীতল পরশ
শুদ্ধতার আচ্ছাদন, মনকে শান্ত করে নেয়,
হৃদয়ের সব আবর্জনা করে, দূরে নিক্ষেপ।
সব কাজ ভুলে, ধন সম্পদ ফেলে,  তাঁর মন্থন,
ঠাকুর তোমার বানী জাগায় আনন্দ,
থাকে না কোনো আক্ষেপ।
তোমার সঙ্গে যতক্ষন রই,
দেহে ও অন্তরে মনে হয়, যেন পাই,
গঙ্গা মাটির পুন্য লেপ।
মায়ের লীলা, অনুধ্যান ও মনন, লোভ,
ভয়, সরিয়ে আকাঙ্খাকে করে সংক্ষেপ।
তোমাদের সঙ্গে যাত্রা রোগ ভোগের কষ্ট
ভুলিয়ে লাগিয়ে দেয় শান্তির প্রলেপ।

আমার গোত্র সারদা (Amar Gotro Saroda)

চন্দনা সেনগুপ্ত

"বিগ্রহ" মোর 'শ্রী রামকৃষ্ণ' -
মন তাঁরে শুধু স্মরে -
"তাঁহার নামের" পেয়েছি মন্ত্র -
তাই তো গো মোর
"সারদা" গোত্র, - "হোমানলে" নয়, অহেতুকী কৃপা,
ধন্য করেছে, মোরে।
অহরহ তাই আজ প্রতি কাজে তাঁহার বাণী যে,
মোর কানে, বাজে
"বিবেকানন্দ" ঘুচালে দ্বন্দ্ব, -
ভুলি - তাঁরে কি করে!
"শরণাগত" হয়ে শুধু থাকি, -
"ঠাকুর" আমারে দাও নাই - ফাঁকি, -
পাশে আছ জানি, - তবু সদা ডাকি, -
কোলে, তুলে নাও, মোরে।
"দীক্ষার দিনে" পেয়েছি মন্ত্র -
যাব না, তাই তো যত্র তত্র ঠাইঁ দিও তব দোরে।।
"শিশির বিন্দু" হয়ে জন্মেছি সংসারে তৃণ পরে, -
"শ্রীশ্রী মায়ের" - স্নেহ সুধায়,
সে যে ঝলমল, করে।
"ঠাকুর" তাহার জ্ঞানের আলোকে -
আরও উজ্জ্বল করেন তাহাকে,
মিলায় সে তবে পুণ্য গোলোকে, অশ্রু হইয়া ঝরে।
"আনন্দ ধূন" বাজে গো যখন,
ছোট্ট - জীবন মুগ্ধ তখন
ধূলায় বিলীন, তাহার ভুবন পবিত্রতায় - ভরে।।

“ত্রি – দেব” (Tri-dev)

চন্দনা সেনগুপ্ত

'ব্রহ্মা', 'বিষ্ণু', 'মহেশ্বর', -
সৃষ্টি, স্থিতি, বিনাশ পর,
তাঁহাদের লীলা, অপরূপ খেলা,
সাধ্য কি বুঝে জগতের নর?
তাইতো তাঁদের "অবতার" রূপ
ধরা ধামে এল, জাতিশ্বর।
তাঁহাদের সব আলাদা থাক,
এজগতে আছে আলাদা ঘর।
'শ্রী রামকৃষ্ণ' দেখালেন পথ,
সৃষ্টি হল, যে এক নব রথ
'বিবেকানন্দ' তার অধিরথ-
রশি রইল 'মা'র হাত পর।
তাঁহাদের লীলা অপরূপ খেলা
সাধ্য কি বোঝেন সাধারণ নর !
"ত্রি" দেব পায়ে সোঁপিনু জীবন, -
ঝরিছে ভক্তি নির্ঝর।।

নিষ্ঠা ভক্তি (Nishtha Bhokti)

চন্দনা সেনগুপ্ত

"ঈশ্বরীয়" কথা বিনা,
আর কিছু ভাই
শুনব - না - না, -
তোমরা আমায় আর বেঁধো না,
ছিঁড়বো সব বিষয় ভাবনা।
সবার সাথে দিনে রাতে
ছিলাম, মিথ্যে সুখে মেতে, -
এবার আমায় দাও গো যেতে,
হাত ধরতে "অনাথ নাথে"।
মোহের বাঁধন, মন্ত্র সাধন, -
ছিন্ন করে বাড়াও লগন -
ভক্তি করো আমায় মগন।
স্নিগ্ধ হবে, তৃপ্ত হবে, -
শান্তি বারি ঝরবে তবে, -
সুবাস তাহার ছাড়িয়ে যাবে, -
তোমার কৃপায় স্তব্ধ হবে।
যাব ধেয়ে তোমার পানে,
রবে না মন কম কাঞ্চনে,
চলব শুধুই প্রেমের টানে, -
ভরবে জীবন 'প্রভুর' দনে।

নতুন শব্দরূপ (Notun Shobdorup)

চন্দনা সেনগুপ্ত

রঙিন ও শ্বেত - "শব্দ পুষ্পে" -
গাঁথি আমি পূজার মালা,
সুগন্ধিত - শব্দ পুষ্পে করি
ভক্তি প্রেমের খেলা।
কঠিন শক্ত "শব্দের ইঁটে"
গাঁথি মন্দির প্রাসাদ ঘর।
"শব্দ - সোপানে" চড়ে পৌঁছে - গেলাম,
পেলাম "অহেতুকী কৃপা বর"।
"শব্দ - বৃষ্টি" ঝরে ঝর ঝর, -
'মন' জমি করে উর্বরা যে।
শব্দের বীজ বপন হল যে আমার
কোমল হৃদয় মাঝে।
"শব্দ-তরু"টি অঙ্কুরিত,
জীবন - কিনারায়;
শব্দ - পত্র, শব্দ - মুকুল,
শব্দের ফুল - তাই, -
ধীরে ধীরে উঠল ফুটে, -
বৃক্ষ কবিতায়।
ভক্তিমুকুল ফোটাবে ফুল,
নতুন ভাবনায় আমার নতুন কবিতায়।।

“সৎ – সঙ্গ” (Sot – Songo)

চন্দনা সেনগুপ্ত

"ভাবগ্রাহী জনার্দনকে" 'শুদ্ধ' মনটি করব দান,
এই হৃদয়ে পাতব আসন, তাঁর নামেতেই - মুক্তি স্নান।
ক্ষুদ্র অতি, তুচ্ছ মতি - নই আমরা সুমহান,
তোমার স্নেহ দিয়ে, - করবে তুমি - পরিত্রান।
যখন তোমার সঙ্গ পাব, ধনী নির্ধন সবই সমান,
রাখব না আর জীবাত্মাকে - অপবিত্র অজ্ঞান।
মনের ভাবটি শুদ্ধ রাখবে - তোমার ভক্ত সন্তান,
'সাধু' মধ্যে বসবে যে জন, করবে তুমি তাঁর কল্যাণ।।
"শ্রী রামকৃষ্ণ" করি না প্রশ্ন, - তোমার প্রতি ধায় যে মন, -
জাত দেখো না, পাত দেখো না, সবাই কে দাও দরশন।
আস্তাকুড়ে আছি পড়ে - বিষয় আশয় বক্ষ জুড়ে,
অহংকারের গর্ত খুঁড়ে, সেঁধিয়ে থাকি সারাক্ষন।
এবার তুমি "স্বয়ংসিদ্ধা" - এস গো "মা" আজ প্রসিদ্ধা,
বাড়াও বৈধী ভক্তি শ্রদ্ধা প্রকাশ করো, সত্য ধন।
মোহ বদল 'শত্রু' সেজে - বজ্র ধ্বনি উঠল বেজে, -
'বিবেকানন্দ' ভীষণ তেজে তাড়িয়ে করো, শান্ত ভুবন।

প্রতিদিন (Protidin)

চন্দনা সেনগুপ্ত

প্রতি দিন শব্দ মালায়,
মন তোমায় সাজায়।
প্রতি ক্ষন, প্রতি পলে,
স্মরন মনন শান্তি জলে,
হৃদয় আমার ধোওয়ায়।
প্রতি বার যখনই মন্ত্র বলি
শব্দ পাপড়ি চরনে তব ফেলি,
অন্তরেকে স্নিগ্ধ পরশ বুলায়!
প্রতি সন্ধ্যায় প্রদীপ যখন জ্বালি,
আরতি করি গো সাজিয়ে শঙ্খ, থালি,
তখন ঘোচে যে মনের সকল কালি,
শ্রান্তি ক্লান্তি ভোলায়।
প্রতি রাত্রি হলে স্তব্ধ,
গুঞ্জন তোলে জপের শব্দ,
মিথ্যা চিন্তা করিয়া জব্দ,
মোহ বন্ধন  খোলায়।

কথামৃত (Kothamrita)

চন্দনা সেনগুপ্ত

"কথামৃতের" রচয়িতা "মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত"
তোমার জীবন মাঝে আছে, - ভক্তি মন্ত্র - সুপ্ত।
"দক্ষিনেশ্বর" "বেলুড়" - তীর্থে - জীবন হইল - দীপ্ত -
গঙ্গা কিনারে ঠাকুরের ঘরে - সব দুঃখ যে লুপ্ত।
খণ্ডিত হল, ভব বন্ধন, - জ্ঞানের আলোকে তপ্ত -
ভোজনানন্দে সংগীত বোল, - করল হৃদয় শান্ত।
"কথামৃতের" গান ও গল্পে মন আজ পরিতৃপ্ত
"গীতা", "রামায়ণ", "বেদ বেদান্ত" সব - সার এতেও আছে অনন্ত, -
এই গ্রন্থের অনুরক্ত - আমি এক অতি ক্ষুদ্র ভক্ত।।