স্থান, কাল, আর পাত্র বুঝে - চলতে হবে জগৎ মাঝে, - হাত ব্যস্ত থাকবে, কাজে - মন ঝাঁকবে, হৃদয় পুর। অন্তরে যে 'প্রভুর' বাস, “শ্রীরামকৃষ্ণ” দেন আশ্বাস; শুধু তাঁহার কৃপার আশ - শুনব “কথামৃতের"র সুর। মেঘের মধ্যে “মা” কে দেখি, সাগর জলে, - আমার ঠাকুর - সূর্যলোকে রামধনু রঙ, জাগলে “বিবেক”, সবই মধুর। হৃদয়ে মোর পুস্প - মুকুল, সুগন্ধেতে হয়, ভরপুর, - পেলাম, তাঁদের স্নেহের পরশ নেইকো তাঁরা, তাই তো দূর।। স্থান, কাল, আর পাত্র বুঝে- চলতে হবে জগৎ মাঝে, - হাত ব্যস্ত থাকবে, কাজে, - মন ঝাঁকবে, হৃদয় পুর। অন্তরে যে 'প্রভু'র বাস, “শ্রীরামকৃষ্ণ” দেন, আশ্বাস; শুধু তাঁহার কৃপার আশ শুনব “কথামৃতের” সুর। মেঘের মধ্যে “মা” কে দেখি, সাগর জলে - আমার ঠাকুর, - সূর্যালোকে রামধনু রঙ, জাগলে বিবেক, 'সবই মধুর'। হৃদয়ে মোর পুম্প-মুকুল, সুগন্ধেতে হয়, ভরপুর, - পেলাম, তাঁদের স্নেহের পরশ- নেইকো তাঁরা, তাই তো দূর।।
আমার আরাধনা (Amar Aradhna)
কবিতার মাধ্যমে ঈশ্বর উপাসনা হৃদয় মধ্যে আছেন যে জানা - তিনিই জানি নিখাদ সোনা। শ্রদ্ধা, প্রেম ও নিষ্ঠা ভক্তি, সরল মনের ইচ্ছা শক্তি - করেন যখন যাচনা, তখন শুধু অকারণে বৃথায় কেবল অর্থ গোনা। তীর্থে তীর্থে আনাগোনা, পান্ডিত্যের জানা শোনা, - ভুলতে হবে সব কামনা - স্মরণ মনন নিদিধ্যাসন, শুধু তাঁহার কল্পনা, সেই তো আমার প্রার্থনা। মিথ্যে কাজে বাড়ায় বোঝা, নয়তো হেথা পথটি সোজা, মরি লাজে বুকে বাজে, করছি একই নকল পূজা! সংসারের সং সেজে যে রসের পিঁপড়ে গুড়ে মজে, ছেড়েছি ঈশ্বরকে খোঁজা, মন ভোলানো গল্প শোনা, এ নহে মোর অর্চনা। চন্দন কাঠ ঘষে নেড়ে, তোমার কৃপা আনবো কেড়ে - মন যদি না করি তাজা, আমায় তুমি দিও সাজা, করবো কঠোর সাধনা। আমার আছে শুধু বিশ্বাস, করবো না আর আলস্যে বাস, দেহ ভোগের ঘোচার আশ, সব ভ্রম মোর হবে যে নাশ, মিটিয়ে দেব ভয় ভাবনা, এই যেন হয় বাসনা - তোমার পানে তাকিয়ে থাকি মায়ের কথা স্মরণ রাখি, বিবেক আমার জাগিয়ে রাখি, মন্ত্র তন্ত্র জানি না। সমস্কৃত উচ্চারণে ভুল হয় তাই ক্ষনে ক্ষনে, নাম জপে মোর অভিরুচি শব্দ পুষ্পে উপাসনা এইতো আমার আরাধনা।।
“গীতা গীতা গীতা” (Geeta Geeta Geeta)
"গী - তা গীতা গীতা গীতা গী ---ত্যা ----গী ---ত্যা --- গী ত্যা-গী- ত্যাগী -ত্যাগী ত্যাগী।” ত্যাগী- “ত্যাগ” মানেই বিচ্ছেদ - যে কোন সুখ ভোগের - বাসনা হতে বিরত হওয়া। লোভ লালসার স্রোতে, ভেসে যেতে যেতে - কোন বড় গাছের শেকড় ধরে কিনারায় উঠে, - বেঁচে যাওয়ার কামনা - মুক্তি পাওয়া। যতই চলে, বিয়োগের খেলা, ততই শরীর ও মন বলে, - এসো ভাই, এবার চলুক - ভগবানের সঙ্গে লীলা। “আত্মা' বলে - আঃ হাঃ - কী সুন্দর হাল্কা হলাম। এবার আমার উড়ে যাওয়ার ছিঁড়ে ফেলার পালা। আর নেই ঝামেলা।। মায়া, মোহ শেকলের মতন বাঁধন - বেড়ি পরিয়ে এতদিন একভাবে - একই গাছের গুঁড়িতে বেঁধে রেখেছে, - এখন চলুক না, - তার থেকে নিজেকে মুক্ত করার কঠিন সাধনা। এই “বিযুক্ত” হওয়ার প্রয়াসে, - নিষ্কাম, নির্লোভী, নিঃসংশয়ী হবার অভ্যাসে, - স্মরণ, মনন, নিদিধ্যাসন, - 'স্বাধ্যায়', শরণাগত হবার ঐকান্তিক আশে, - শুধু 'জপ' যজ্ঞে লীন হয়ে “ঈষ্ট” কে ভালবেসে - নিজেকে পবিত্র করে তোলার উদ্দেশ্যে - মোক্ষলাভের উপাসনা।। ত্যাগের মহিমা, অপার জানিয়া সফল করিব - আরাধনা ।।
শরণাগত (Shoronagoto)
“ঠাকুর” ! - তোমাকে পাওয়ার উদ্দেশে পূজো আমি করিনি তো, - পুষ্প - প্রদীপ, ধূপ ধুনো জ্বেলে , - করিনি কখনও ব্রত। শুধু মনে মনে, নাম জপি, তব বার বার - শত শত। রান্নার ঘরে আঙিনার পরে, যত বার হই নত, - ততবার ভাবি সামনে যে তুমি, কাঁদি তাই অবিরত। মন্ত্র - তন্ত্র কিছুই জানি না, - আমি যে শরণাগত।। মোর অন্তরে সদা ঝংকারে, - বিবেক জাগানো গান, জীবন আমার তাই আজ করে - “কথামৃত” - রস পান। বিশ্বাস আর ভক্তি সাগরে ডুব দিতে চাহে প্রাণ, বড় - লোকের - ঝি হয়ে যাই, মনে নেই, অভিমান। আনন্দেরই স্রোতে চলি ভেসে,- মুখে হাসি অম্লান, শিব - জ্ঞানে জীবে সেবা করে পাই - অহেতুকী - কৃপা দান। আমি তো তোমার আশ্রয়ে থাকি, ভক্তকে দিলে মান, ‘ঠাকুর’ তোমায় জানাই প্রনাম শ্রদ্ধা ও সম্মান। চাহি মার্জনা, করি প্রার্থনা, করো হে, পরিত্রান। পবিত্র রাখো হাদয় আমার, তোমার পুন্য স্থান। করো অহেতুকী কৃপা দান।।