মহারাজকে নিবেদন

চন্দনা সেনগুপ্ত

পিতৃতুল্য শ্রদ্ধেয় - সন্তান সম প্রিয় 
শিক্ষাগুরু সম্মানী, - "স্বামী সর্বপ্রিয়।"
তোমার মত "সাধু সঙ্গে", কাটলো যে এই ক'দিন,
হৃদয় তন্ত্রে - শব্দে ছন্দে, বাজলো মধুর বীন।
রত্নগর্ভা - মা যে তোমার প্রণাম তাঁরে করি।
ভূনেশ্বরী দেবীর মত তাঁহারে আমরা স্মরি।
জগৎখ্যাত বিবেকানন্দ, জড় চেতনের ঘুচান দ্বন্দ্ব,
সর্বজীবে দেখতে পেলেন 'শিবাহম - চিদানন্দ'।
তুমিও শোনালে একই বাণী -
বেদান্ত হতে নির্য্যাস আনি,
আত্মন আর ব্রাহ্মণ এক, গূঢ় তত্ত্বকে 
সরল মানি।
মায়া-কায়া-ছায়া ভুলে ব্রাহ্ম উপাস্য হয় জ্ঞেয়।
জীবাত্মা যে সাক্ষী শুধু চৈতন্য রূপই শ্রেয় প্রেয়।
নিষ্ঠাভরে - জপ - তপ আর গভীর ভাবে সাধনা।
সংগ্রাম আর বিপদ - শোকে, পাই যে পরম সান্ত্বনা।

স্বামীজী

চন্দনা সেনগুপ্ত

অনেক প্রশ্ন জমে আছে বুকে -
প্রকাশ করিতে পারি না যে মুখে,
চেয়ে থাকি শুধু আনন্দে সুখে -
ভরে থাকে, অন্তর -
মায়ের পথটি অনুসরণ
তাঁরই ভাবে অনুরণন,
ধন্য - পুন্য হোক এ জীবন,
কাটাই যে কাল নিরন্তর।
সেই নামেরই স্রোতে ভাসি -
'ঠাকুর' তোমার কাছে আসি -
কাম, ক্রোধ-ক্ষোভ-ভয় কে নাশি -
দাও গো শুধু 'কৃপা-বর'।
সাধু সঙ্গ, স্বাধ্যায় আর -
মঠ মিশনের পুন্য ধাম, -
"ইষ্টদেবের" দৃষ্টি-স্নাতঃ -
হয়ে যে গাই তাঁহারই নাম,
গীতা-গীতা-ত্যাগী বলে
সত্যকে দিই যেন দাম,
শেষ অধ্যায়ে ছাড়তে পারি, ক্রোধ ভয় 
আর লোভ - মোহ - কাম।

ফুটবল ফুটবল

চন্দনা সেনগুপ্ত

World Cup soccer soccer?
শুনি চারিদিকে শুধু চিৎকার
দিকে দিকে ওঠে তার শোরগোল,
সারা পৃথিবীতে তুলেছে যে আজ
উত্তাল কল্লোল।
দেশে দেশে লোক হল চঞ্চল,
ফুটবল ফুটবল।
কেউ হারে আর কেউ জেতে যবে, 
কাঁদে হাসে আর মেতে ওঠে সবে,
হাজির হয়েছে তাই ময়দানে
নাম করা যত দল।
ফুটবল ফুটবল।
যুদ্ধ লড়াই, ধ্বংসের লীলা,
মহামারী আনে মৃত্যুর খেলা
ভুলেছে মানুষ এই ক'টা দিন,
কলরব অবিরল।
স্টেডিয়াম সাজে আলোর মালায়
হয় উজ্জ্বল - ঝলমল।
বিশ্বের সেরা কে হবে এবার?
উত্তেজনায় কাঁপে সংসার,
কার গোলে যাবে শেষ ঐ বল
পাবে স্বর্ণের বল। ফুটবল!

বাবুই পাখীর বাসা

চন্দনা সেনগুপ্ত

বাবুই পাখীর বাসা, দেখতে বড় খাসা,
খেজুর পাতার সুতো দিয়ে
বুনোনি তার ঠাসা।
মুখটি যেন উল্টো কলসী
কুঁজোর মতন গলা
দরজাটি তার নয়তো বন্ধ
সদাই থাকে খোলা।
রাতের বেলায় জোনাক জ্বলে 
ঠিক সে টুনি আলো।
গোবর মাটি লেপা দেওয়াল
পোকা কালো কালো।
ছানা পোনা সারাটি দিন
কিচির কিচির করে।
বাবুই পাখী তাদের তরে
পোকা মাকড় ধরে।

অনুরাগ

চন্দনা সেনগুপ্ত

ভগবানের প্রতি যদি,
না হয় অনুরাগ -
চিত্তে যদি ময়লা লাগে,
কাম, ক্রোধ, লোভ - দাগ।
মানুষ জন্ম বৃথা তবে -
ঘুম ভেঙে তুই জাগ।
ঠাকুর ও মা পথ দেখালেন,
সহজ সরল মার্গ।
জীবন হতে সহ্য শক্তি 
যায় যদি তোর কমে
ভক্তি ছেড়ে বিরক্তিতে -
হতাশা ক্ষোভ জমে,
এই পৃথিবীর মাঝে তবে
ঘুরিস মিথ্যে ভ্রমে।
এগিয়ে যা মন, ভয় সরিয়ে
গুরুর চরণ চুমে।

আমিত্ত্ব

চন্দনা সেনগুপ্ত

আমি - আমি - আমি -
ভাবতে ভাবতে আমরা মানুষ -
কোথায় যে যাই নামি,!
কে জানে তা কোন পাতালে,
কোন সে নরকগামী।
অহং - অহং - অহং কারের
মুগ্ধ স্বার্থ - কামী
লোভের বশে কোথায় শেষে
কখন যাবো থামি।
তখন কিন্তু রয় না উপায়,
বিধি যে হন বামী,
আমার থেকে 'আ' কেটে দিই
জীবন করতে দামী।
শ্রী শ্রী মা যে আপন মা রে -
ঠাকুর প্রভু স্বামী -
তাঁদের দৃষ্টি অন্তর কে,
করুক সদা - নামী।

ঠাকুরের ডাক

চন্দনা সেনগুপ্ত

বন্ধু এসে ভালোবেসে, বলল কথা হেসে হেসে,
"দেখবে চলো, নতুন সাধু -
রইবে কেন ঘরে বসে, 
ধর্ম গুরুর গীতার বচন,
শোনাবেন গো নানান কথন,
তরুণ কত ছেলে মেয়ে -
পড়ছে পায়ে কোন আবেশে।"

অবাক হয়ে গেলাম যে তাই,
মহাত্মাকে দেখতে চাই, -
ফল মূল সব সাজিয়ে নিয়ে
যেতে হবে তাঁর সকাশে।
যাবার আগে প্রণাম করতে
দাঁড়ায় গিয়ে জোড় হস্তে,
"শ্রী রামকৃষ্ণ পদ প্রান্তে -
পুজোর ঘরে "মায়ের" পাশে।

কেমন যেন ধাক্কা খেলাম,
তাঁদের চোখে কী দেখিলাম,
চোখের জলে সিক্ত হলাম,
যাচ্ছি কোথায়, কিসের আশে?
আপন মায়ের বাণী ভুলে,
গুরুদেবকে অবহেলে
এমনভাবে কি যাওয়া চলে, আমার
মনে - প্রশ্ন আসে !

অনিচ্ছাতেও এগিয়ে চলি,
বন্ধুর সঙ্গে কথা বলি,
নিজের বিবেক যাই যে ছলি, -
বুক দূর দূর করে ত্রাসে।
বন্ধ দরজা কড়া নাড়ি, সেই সাধু আজ
নেই তো বাড়ি, -
শিষ্য করে কাড়াকাড়ি, তিনি -
গেছেন কোন প্রদেশে !

ছাড়ি আমার বাড়াবাড়ি -
সেখান থেকে তাড়াতাড়ি 
চললাম, যেন ভেলায় ভেসে।
'রামকৃষ্ণ মিশন' পানে 
ডাক শুনেছি আজকে কানে,
বুঝতে পারি ঠাকুর ও মা
আমায় কত ভালোবাসে।

প্রত্যয়

চন্দনা সেনগুপ্ত

কোথায় পাবো সেই ছায়াহীন 
আলোকবর্তিকা অন্ধকারে -
ভাবছি, আর ভাসছি মোরা -
মূল্যবোধ অবক্ষয়ের সাগরে।
নিশ্চুপ আর নিস্তব্ধ থাকার মানে 
কিন্তু শান্তিপূর্ণ সহবস্থান নয়।
'চরম সত্য' কি সর্বদায় বরফের মতন
কঠিন শীতল ও স্নিগ্ধ হয় ?
আমরা এখন এমন এক দেশে বাস
করি যা অখণ্ড হলেও
অসম্পূর্ন।
ভঙ্গুর না হলেও আসলে এই দেশ 
বিচ্ছিন্নতা ভেদাভেদের 
শিকার। তাই অসমাপ্ত।
আমি এক কালো শীর্ণকায় তরুণী,
উন্নত আমেরিকার নতুন প্রজন্ম।
আমাদের পূর্বপুরুষ ছিল,
দাস, (ক্রীত - দাস) প্রথায় -
বিভ্রান্ত ও উৎপীড়িত - অত্যাচারিত।
কিন্তু এখনও এতদিন এ 
দেশের সেবা করেও আমাদের প্রাণে 
জাগে বড় সংশয়।
বর্ণ - বৈষম্যের গ্লানি, আমাদের এখনও 
বিচলিত করে, মনে জাগায় ভয়।
এই বছরের ৬ই জানুয়ারীর 
ইচ্ছাকৃত হানাহানি, নির্লজ্ব -
নির্যাতন আমাদের মনে তুলেছে 
আলোড়ন।
কে করবে এই অযাচিত অবাঞ্ছিত 
বৈষম্যের লয়।
নতুন নেতার আগমনের অপেক্ষায়
দিন গুনছি আমরা।
চুপ থাকার মানে মেনে নেওয়া নয়।
একদিন আনবই মোরা জয়।
হয়েছে 'প্রত্যয়'।

মা

চন্দনা সেনগুপ্ত

জয় মা, জয় মা, জয় জয় মা
জানিতে পারিনি আমি,
তোমার মহিমা,
এই অতি মূঢ়মতি নির্বোধ নারীপ্রীতি -
কেন ঝরে অকাতরে 
এতো কৃপা ক্ষমা।

চলিতেছে বহে মোর জীবন প্রবাহ,
তারে তুমি গতিময়
রাখো অহরহ।
সাথে থাকো তাই জানি
ধন্য এই গেহ,
করুণা  সলিলে তব ভেসে যাই দেহ।

হৃদয়ের শতদল চুমে তব পদতল -
স্নিগ্ধতা শান্তির নাহি পরিসীমা।
মোহনার কাছে এসে প্রেমের সাগরে মেশে -
এবার বুঝিতে চাহি তোমার গরিমা।

যুগল তীর্থে যাই, জয়রামবাটি  ধাই -
কামারপুকুরে পাই ভক্তি সাগর।
সেখানে ডুবিয়া মোর, জীবনে আসিল ভোর 
অনুভবি  তুমি মাগো অসীম দয়ার।

জন্মদিনে

চন্দনা সেনগুপ্ত

জন্মদিনে আজ ভাবি বসে,
থাকি যেন সদা হেসে রসে বশে,
প্রতি লোমকূপ কাঁপে যেন মোর
'শ্রী রামকৃষ্ণ' আবেশে।

মৃত্যুর ভয় নাই আজ তাই,
থাকি আনন্দে নাচি গান গাই,
ভুলিয়া 'করোনা' - ত্রাসে।
'শ্রী শ্রী মায়ের' শীতল বক্ষে, -
ঠাঁই দিও ক্ষমাপূর্ণ চক্ষে
পাশে এসো দিন শেষে।

স্বামী-সন্তান মোরে ভালোবাসে,
তাদের নয়নে ঈশ্বর ভাসে, -
রূপ দেখি তাঁর তাই বারবার,
মুক্ত শূন্য আকাশে।