চন্দনা সেনগুপ্ত

বাংলার ঘরে ঘরে অনেক প্রতিমা, মিনতি, রমা দিদি দেখেছি। যাঁরা ভাই-বোনদের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। পরিবারের বৃদ্ধ, শিশু, নারী, পুরুষ সকলের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য দেখতে গিয়ে নানাভাবে ত্যাগ স্বীকার করে এসেছেন।

একটি সেইরকম পরিবারের গল্প এটি। অনিমা, প্রতিমা, অসীমার পরে মায়ের কোলে এল ঘর আলো করা এক ভাই, সঞ্জয়। কিন্তু জন্মের একমাসের মধ্যে তাদের মা হটাৎ বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতন হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মারা গেলেন।

১২, ৮, ৬ ও ঐ দুধের শিশুটি নিয়ে অবিনাশবাবু পড়লেন একেবারে সমস্যা সংকুল সমুদ্রের মাঝে। আত্মীয় স্বজন, শ্বশুর শাশুড়ির কথায় তিনি আবার ‘দার পরিগ্রহ’ করলেন, তার বিবাহ যোগ্য দূর সম্পর্কের শ্যালিকাকে। স্ত্রী তাঁর থেকে অনেক ছোট, কিন্তু কন্যা দায়গ্রস্থ বাঙ্গালী মা-বাবা বড় জামাইয়ের হাতে তুলে দিতে একেবারেই দ্বিধা করলেন না। সেও জেনেছিল, তার কালো রং, অর্থসংকট পিতা-মাতাকে পাত্র পেতে খুবই অসুবিধায় ফেলেছে তাই বিনা দ্বিধায় তিনি ঐ চারটি সন্তানের পিতাকে বিবাহ করে তাদের পালন পোষনের ভার গ্রহণ করলেন। পরের দুই বছরে তাঁরও দুটি সন্তানের জন্ম হল, একটি পুত্র ও একটি কন্যা।

১৬ বছরে বড় মেয়ে অনিমা তখন ঐ পাঁচ ভাই বোনের স্নেহময়ী বড়দি। তার তত্ত্বাবধানে বড় হয়ে উঠতে লাগল তারা। নতুন মা তার থেকে মাত্র ছয় বছরের বড়। দুজনের মধ্যে আন্তরিক প্রীতির সম্পর্ক। মা রান্না ঘরের সমস্ত কাজ নিজে হাতে করেন এবং তাঁর লক্ষ্মী শ্রী অবিনাশ বাবুর সংসারে শ্রী ফিরিয়ে এনেছে। আর অনিমার স্নেহে শাসনে শিক্ষায় সযতনে পালিত হচ্ছে তাদের পাঁচজন ছোট ভাইবোন।

এক প্রতিবেশী বলেন, “উনি তোর সৎ মা – এর, এসব লোক দেখানি ব্যবহার” – তখন বড় মেয়ে জোর গলায় জবাব দেয়। – ‘সৎ’ বলেই এমন ভালোবাসেন, তোমার মতন ‘অসৎ’ মা হলে কু-শিক্ষা দিতেন। নতুন মা ওর চুলের জট ছাড়াতে ছাড়াতে খিল খিল করে হাসেন।

দশ বছর পার হল অনিমা স্কুলে কাজ পেয়েছে। প্রতিমা নার্স। অসীমা খুব ভাল পড়াশোনা করছে। ছোট দুই ভাই ও সবচেয়ে কনিষ্ঠা মেয়েটিও স্কুলের পড়া, নাচে গানে আনন্দে মেতে আছে, দিদির তত্ত্বাবধানে। হঠাৎ অবিনাশ বাবুর ক্যান্সার ধরা পড়ল। চিকিৎসা করতে করতে সব জমানো পুঁজি শেষ হয়ে গেল তাঁর। কিন্তু দু বছরের বেশি জীবিত রইলেন না তিনি। নতুন মা কে মনের জোর বাড়াতে, বাবার অফিসেই কম্পেন্সেশন গ্রাউন্ডে কাজ নিতে সাহস যোগালেন ঐ বড়দি অনিমা। মা দশটা – পাঁচটার কাজ নিলেন, সংসারে অনিমার দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। প্রতিমা নার্সিং করে কিছু সাহায্য দিত সংসারে কিন্তু তারও একটা সহকর্মীর সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠতেই অনিমা তাড়াতাড়ি হাসপাতালের সেই যুবক কম্পাউন্ডার এর সঙ্গে বোনের বিয়ের ব্যবস্থা করল। ওর ছোট ভাই বোন দুটি খুব আদরে আবদারে মানুষ হচ্ছিল এতদিন, এখন সংসারের অবস্থাটা খারাপ হওয়ায় তাদের সব চাহিদা পূরণ করতে না পারায় তারা ক্রমশঃ বেয়ারা হয়ে উঠল। কথায় কথায় ঝগড়া মারামারি লেগেই থাকে তাদের। যে ভাইটির জন্মের পরেই মা মারা গেছেন, সেই সঞ্জয় খুব নিরীহ ও শান্ত। তার সব জিনিস কেড়ে নেয় ঐ ছোট দুজন, খুব জ্বালাতন করে তাকে। তাই নিরুপায় হয়ে অনিমা সঞ্জয়কে ভর্তি করে পুরুলিয়ার সৈনিক স্কুলে। ছোট দুজন তন্ময় ও মধুশ্রী প্রায় মামাবাড়ি বেড়াতে যায়, সেখানে কুশিক্ষা দেওয়ার মতন এক মামী ছিলেন, যিনি ওদের বোঝালেন ‘বড়দি ওর অন্য ভাই বোনেদের বেশি ভালোবাসে।’ তাদের ব্যবহার ও মানসিকতা পাল্টাতে লাগল, এদিকে নতুন মা চাকরি স্থলে গিয়ে এক নতুন জীবনের স্বাদ পেলেন। তাঁর সাজ সজ্জা, সিনেমা, পিকনিকে যাওয়া, সহকর্মী অফিসারদের সঙ্গে বাইরে খাওয়ার সময় বেড়ে যেতে লাগল।

বড়দি অনিমার জীবনেও এইসময় একজন যুবকের আবির্ভাব হল। সে সরকারী ব্যাঙ্কে ভাল চাকরী করে। ভীষণভাবে অনিমার প্রতি আকৃষ্ট, কিন্তু সাড়া পায় না কোনোরকম। একদিন একা পেয়ে প্রস্তাব দিয়ে বসলো বিয়ের। কিন্তু অসীমা তখন জয়েন্ট এন্ট্রান্স দিয়ে দুর্গাপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে চান্স পেয়েছে। তার পড়া শেষ হলে, সে চার বছর পরে একটা ভালো চাকরী পেলে তারপর নিজের চিন্তা করবে। শুভময় নামে যুবকটির পক্ষে এতদিন অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না, বিয়ে হয়ে গেল তার।

এদিকে ছোট ভাই তন্ময় ‘জিম’ জয়েন করে শরীর মজবুত করার দিকে মন দিয়েছে, ছোট বোন মধুশ্রী সারারাত প্রায় ফেসবুকে বন্ধু বানায়, বিউটি পার্লারের কাজ শিখেছে, ফ্যাশন করতে তার খুব ভাল লাগে। নতুন মা ওদের খুব প্রশ্রয় দেন। মাঝে মাঝে ভাই বোনের চালচলন নিয়ে বোঝাতে গেলে তিনি বলেন, “তুই এখনও নিজের পুরোনো খেয়াল নিয়েই রইলি। জমানা, যুগ, বাচ্চাদের ইচ্ছে সব বদলে গেছে। পুরোনো ধারণা পাল্টে ফেল।”

কিন্তু ধীরে ধীরে ওরা উৎশৃঙ্খল হয়ে উঠতে লাগল। তন্ময় এখন তাদের পাড়ার নামকরা মস্তান, সব রাজনীতি নেতারাই তাকে যখন তখন ডাকাডাকি করতে থাকেন এবং নিজেদের দলের স্বার্থে তাকে ব্যবহার করেন। মারামারি করতে টাকা ধরিয়ে দেন, তার মজবুত শরীরের দিকে লক্ষ্য অনেকেরই। একথা ভাইকে বোঝাতে গেলে মুখের ওপরে কথা বলে সে। “বড়-দি তুমি আমার ব্যাপারে নাক গলিও না please।” ছোট বোন মধুশ্রী ফেসবুকের মাধ্যমে আলাপ হওয়া বড়লোক বন্ধুদের গাড়ি চড়ে বেড়িয়ে বেড়ায়। বাধা দেওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না, নতুন মা ওদের হয়ে সবসময় সালিশি মারেন। এটাই তো বয়স, একটু হৈ হুল্লোড় করবে না ! তার অকাট্য যুক্তি বড়দি অনিমার মূল্যবোধকে ফিকে করে দেয়।

একভাবে কেটে যায় আরও কতগুলো বছর। অসীমা খুব ভালো করে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে। GRE দিয়ে সে তার সহপাঠী সুজয়ের সঙ্গে আমেরিকা পাড়ি দেয়, মাস্টার ডিগ্ৰী হাসিল করতে। বড়দি চোখের জল লুকিয়ে তার স্যুটকেস গুছিয়ে দেয়। ওদিকে সঞ্জয় পুরুলিয়ায় সৈনিক স্কুল থেকে পাশ করে NDA তে জয়েন করে সে পুনার পাশে ‘খাগড়াসলা’ চলে যায়। তিন বছর পরে আর্মি অফিসার হয়ে সে বড়দিকে তার কাছে নিয়ে চলে যাবে এই প্রতিশ্রুতি দেয়। খুব আনন্দ হয় অনিমার সন্তানতুল্য ঐ দুই ভাই বোনের সাফল্যে। চুলে পাক ধরেছে তার। নতুন মা চুলে রঙ করেন পার্লারে গিয়ে রূপ চর্চা করেন। ছয় বছরের ছোট হয়েও অনিমাকে তার থেকে বড় মনে হয়।

হঠাৎ একদিন স্কুল থেকে ফিরে দেখে বাড়িতে তার মা ও ছোট বোন কথা কাটাকাটি ও কান্নাকাটি করছে দরজা বন্ধ করে। কিছু একটা অপ্রত্যাশিত বা অবাঞ্ছিত ব্যাপার হয়েছে বোঝা যাচ্ছে। অনিমা ইদানীং নিজেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখে, কাউকে কিছু বলে না, কি হয়েছে জানতেও চায় না। প্রায় ভাবে দূরে কোথাও পালিয়ে যাবে।আজও নিজের জন্য দুটি রুটি আর আলু পেয়াঁজ ভাজা করে খেতে বসেছে, হটাৎ নতুন মা চিৎকার করে ডাক দিলেন তাকে। অনিমা দেখো কি কান্ড করেছে মধু, ছুটে গিয়ে হতভম্ভ হয়ে গেল বড়দি।

একটা ওড়না নিয়ে গলায় জড়িয়ে ফাঁস লাগাচ্ছে বোনটি, মা তার হাত ধরে আছেন। অনিমা এক চড় মারল তাকে এবং মা কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। ওড়না টা টান দিয়ে কেড়ে নিল তার হাত থেকে এবং গলার ফাঁসটি খুলে তাকে খাটে শুইয়ে দিল জোর করে। ‘কী ড্রামাবাজি হচ্ছে এসব? কি হয়েছে বল আমাকে। এবারে – বড়দি বড়দি বলে কেঁদে জড়িয়ে ধরলো সে, মুখটা তার বুকে গুঁজে দিয়ে।

নতুন মা রাগে দুঃখে হাঁফাচ্ছিলেন – বললেন – “মুখে কালি মেখে বাড়ি এসেছেন মহারানী – আজকে বমি করছে দেখেই সন্দেহ হল। কিন্তু এই ক’মাস কেমন লুকিয়ে রেখেছে দেখ, সর্বনাশী মেয়ে।

অনিমা বলল – ‘তুমি ও ঘরে যাও, একটু চোখে মুখে জল দাও। শান্ত হও। আমি দেখছি। বোনকে আদর করে অনেকক্ষন দু হাত দিয়ে জাপ্টে ধরে রাখলো। সময় দিল কাঁদবার। সে স্বাভাবিক হলে, শুধু জিজ্ঞেস করলো – “এখন কয় মাস চলছে? তুই কি করতে চাস?” – “পাঁচমাস দিদি।” এতদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম যার বাচ্চা সে যদি বিয়ে করতে রাজী হয়। কিন্তু – – – – আবার ফুঁফিয়ে কেঁদে উঠলো মেয়েটা। অনিমা জানতে চাইলো না যে সে কে, শুধু ভাবতে লাগল এই মা ও সন্তানকে বাঁচাতে হলে কি করা উচিৎ তার।

স্কুলের এক বান্ধবীকে ফোন করল। ক’দিন ধরেই বলছিল যে এবারে গরমের ছুটিতে তার সঙ্গে রাঁচীতে তাদের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য। প্ল্যান বানিয়ে ফেলল, তার সাথে বোনকে নিয়ে যাবার। ছয় মাসের ছুটি নিল স্কুলে। ঝাড়খণ্ডের অচেনা অজানা পরিবেশে এক অখ্যাত ছোট হাসপাতালে মধুশ্রীর বাচ্চা প্রসব হল। চমৎকার ফুটফুটে এক মেয়ে। একটু সুস্থ হলে বোনকে ঐ গ্রাম থেকে পাঠিয়ে দিল, রাঁচী শহরে ঐ বান্ধবীর আন্তরিক সাহায্য পেল সে এই কাজে। নতুন করে কলেজে ভর্তি হয়ে বোন পড়ানো শুরু করল, বড়দির তত্ত্বাবধানে সেদিন থেকে তার জীবনে এল, এক বিরাট পরিবর্তন। নিজের পায়ে দাঁড়াবার অঙ্গীকার নিয়ে সময় নষ্ট করা ছেড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানান ভোকেশনাল ট্রেনিং নিতে আরম্ভ করল মেয়েটি।

সদ্যঃ জাত শিশু কন্যাটির জন্য আগেই সে যোগাযোগ করেছিল রাঁচির এক মিশনারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। তারা ফেলে যাওয়া শিশুদের রাখে আবার adoption এর জন্যেও অনেকে বাচ্চা দত্তক নেয়, সেখান থেকে। সেখানকার সিস্টার সুন্দর কন্যাকে সাগ্রহে গ্রহন করলেন।

হঠাৎ শুরু হল কোভিড মহামারী। করোনার প্রকোপে বিনা নোটিশে সারা দেশে “লক ডাউন” ঘোষণা হল, বাস, ট্রেন, প্লেন সব বন্ধ হয়ে গেল।

অনিমাকে সিস্টার অনুরোধ জানালেন, – “আপনাকে এখানেই থাকবার ঘর দিচ্ছি আমরা। আমাদের ট্রাইবাল মেয়েদের স্কুলে শিক্ষিকা খুব কম। থেকে যান না আপনি আমাদের সঙ্গে।”

“বড়দি, বড়দি please তুমি ওখানেই থেকে যাও, এটাই হয়ত ঠাকুরের ইচ্ছে।” ফোন করলো ছোট বোন মধুশ্রী। – “ক’টা বছর আমাকে দাও। একটু নিজের পায়ে দাঁড়াই তারপরে মেয়েকে আমি আবার নিজের কাছে নিয়ে আসবো, শুধু দেখো, ওকে যেন অন্য কেউ দত্তক নিয়ে চলে না যায়।”

বোনের ও ঐ সিস্টার (নান) অ্যালিসার কথা যেন সত্যি অনিমার ঈশ্বরের নির্দেশ বলে মনে হল। সে থেকে গেল ঐ ছোট পাহাড়ঘেরা আদিবাসীদের গ্রামের মিশনারী আশ্রমের স্কুলে। মনে হল যেন জীবনে একটা নতুন আশার আলো দেখতে পেল সে। বাঁচবার জন্য অসহায় অনুন্নত কন্যাদের হাতগুলি চেপে ধরল সে। সিস্টারও তার মতন একজন বুদ্ধিমতী স্নেহময়ী হাউস মাদার – টিচার তথা সেবিকাকে সাথী হিসাবে পেয়ে খুব খুশী হলেন।

ওদিকে নতুন ফোনে জানালেন যে ভাই সঞ্জয় দুই দলের গুন্ডাদের কাছেই প্রচন্ড মার খেয়ে, হাত পা ভেঙ্গে বিছানায় শয্যাশায়ী। বড়দির কাছে সে ক্ষমা চেয়েছে। নতুন মায়ের অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। এই মহামারী তাকেও অনেক বড় শিক্ষা দিল। মা ও ছেলের জীবন এবার নতুন ধাতে বইতে শুরু করেছে। তারা দুজনেই আবার স্বাভাবিকভাবে আর পাঁচজন ঘরোয়া পরিবারের মতন করে সময় কাটাতে শিখেছে। মা ছেলে দুজনেই রান্না ও পরিশ্রম করতে ভালোবাসতো। আগের মতোই দুজনে মিলে বাড়িতে রান্না করে এবার ঘরে টিফিন সার্ভিস দিতে শুরু করল। এটাও বড়দি অনিমার বুদ্ধিতে হল। বিশেষ করে কোভিড রুগীদের কেউ দেখার নেই, তাই ফোনে App অ্যাপ বানিয়ে ঐ ছোট শহরের বহু পরিচিত ও অজানা অচেনা লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেলল তন্ময়। ভাইকে একটা বাইক কিনে দিল অনিমা ঐ দূর থেকে গুগল পে-এর মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে। মা কে আমাজন থেকে অর্ডার করে বড় বড় কুকার ও অনেকগুলি টিফিন বক্স কিনে দিল, যা দিয়ে এই ব্যবসা সুন্দর করে চলতে লাগল তাদের।

আজ মনে অদ্ভুত আনন্দ, শান্তি ও সফলতার গর্ব অনুভব করল অনিমা। আমাদের মতন লেখক/পাঠকদের মনে হল – অসাধ্য সাধন করেছেন এই “বড় দিদি”। এ যুগেও এরকম অনেক দিদি পাওয়া যায় বহু ঘরে ঘরে।