চন্দনা সেনগুপ্ত
[মঞ্চ সজ্জা – হাসপাতালের জেনানা ওয়ার্ড। একটি মহিলা বিভাগের ঘরে সারি সারি ৮টি বিছানা, পাশে নার্স দিদিমনির টেবিল ও চেয়ার পাতা। (সাদা সাদা চাদরে ঢাকা বেডে বিভিন্ন বয়সের রুগী।]
কুশীলব – (পাত্র - পাত্রী)
সিস্টার নার্স – (মধ্যবয়স্ক মহিলা)
উকিল দিদি – (কালো কোটটি বার বার পড়েন আর খোলেন, বেশ ব্যাসক্তিত্বপূর্ন চেহারা)
বড় দিদিমনি – (স্কুলের হেডমিস্ট্রেস, নাকের ওপরে চশমা, বেশ কড়া মেজাজের বয়স্ক মহিলা)
নেতা বা সমাজ সেবিকা – সাধারণ সাদা শাড়ি পরনে, শান্ত মহিলা কিন্তু বেশ কর্ম চঞ্চল, নেত্রী (বছর ৪০–এর)
ছাত্রী – (দুজন আধুনিক পোষাকে)
লেডি পুলিশ – (হাতে লাঠি, পরনে খাঁকি প্যান্ট, কর্কশ কণ্ঠ, ধমকের সুরে কথা বলেন)
অভিনেত্রী – (খুব সাজগোজ ও সুন্দরী মডেল, ন্যাকা ন্যাকা ভাব, জিন্স ও টি–শার্ট পরে)
ঝাড়ুদারনী – (বিহারের মহিলা, সামনে আঁচল, মাথায় ঘোমটা, হাতে ঝাড়ু)
বাজনা – প্রথমে বাঁশি, সেতার ও হারমোনিয়াম
প্রথম দৃশ্য – হাসপাতালের জেনানা ওয়ার্ড
নার্স মেট্রন – (রুগীদের দিকে এগিয়ে এসে) এই যে ম্যাডামরা, অক্সিজেন মাক্সটা ঠিক করে লাগান। আপনাদের কোভিড হয়েছে, ভুলে যাচ্ছেন কেন।
গৃহবধূ – সত্যি সিস্টার আপনাদের দেখে অবাক লাগে। এই ওষুধের গন্ধে কি করে যে থাকেন, কষ্ট হয় না?
নার্স – কষ্ট হলে সেবা করব কেমন করে ভাই। কিন্তু আপনি এখন মাস্ক খুলে কোথায় যাচ্ছেন? একদম উঠবেন না।
উকিল ম্যাডাম – ও সিস্টার একটু এদিকে আসুন তো।
নার্স – এলাম এবার বলুন কি চাই?
উকিল – আমাকে একটা ল্যাপটপ আনিয়ে দিন না। শুয়ে শুয়ে এতদিন ভী–ষ–ণ বোর হয়ে গেছি। আজকে খুব ভালো লাগছে। শরীরটা একেবারে ঝরঝরে – যেন আর কোনো রোগ জ্বালাই নেই।
নার্স – তাই নাকি? কই দেখি দেখি। অক্সিডেশন একেবারে চল্লিশের নিচে। ও মা – (দর্শকের দিকে ফিরে – উনি তো আর বেঁচে নেই)
উকিল – কি বলছেন বিড় বিড় করে? আমাকে ঠিকমত এটেন্ড না করলে এখন থেকে ছাড়া পেয়েই আপনার নাম একটা কেস ঠুকে দেব।
বড়দিদিমনি – আঃ কী আরাম। দেখো ভাই উকিল ম্যাডাম তোমার মতন আমারও আর কোনও শ্বাস কষ্ট নেই।
গৃহবধূ – আমারও তো মনে হচ্ছে সকালে উঠেই. আমি একেবারে ভালো হয়ে গেছি। তাহলে এবার আমাদের ডিসচার্জ করে দেবে মনে হয়।
উকিল – হ্যাঁ, ছুটি দিয়ে দেবে নিশ্চয়।
নার্স – এবার আপনাদের তো একেবারেই ছুটি হয়ে গেল। এখানে আর থাকতে হবে না।
অভিনেত্রী – (ন্যাকা ন্যাকা গলায়) কী মজা আমাকেও ছেড়ে দেবে মনে হয়। কতগুলো ছবির শুটিং চলছে, এখানে পড়ে থাকলে চলবে না কি? সিস্টার, সিস্টার –
নার্স – হ্যাঁ ম্যাডাম, আপনিও আর জীবিত নেই। ভেন্টিলেশনটি তাইতো খুলে নেওয়া হয়েছে।
অভিনেত্রী – মানে? কি বলতে চান আপনি, আমি এখন ভূত হয়ে গেছি?
উকিল – চুপ একদম বাজে বকবে না, বললেই হল? এস আগে আমার জেরা প্রশ্নের উত্তর ঠিকঠাক ভাবে দাও, সাক্ষী নিয়ে এস, প্রমান করো যে আমি বা এঁরা কেউ বেঁচে নেই।
ছাত্রী – আরে আপনারা সবাই একটু চুপ করুন না, আমি পরীক্ষার পড়া মুখুস্ত করছি।
অন্য ছাত্রী – রাখতো তোর সবসময় ঐ পড়া পড়া খেলাটা। মুখস্ত বিদ্যা করে কি কোভিড তাড়ানো যায়? এটা হাসপাতাল।
ছাত্রী – তা আমার তো এখন জ্বর, কাশি কিছুই নেই তাই –
গৃহবধূ – তাই কি ভাই? আমারও তো সব রোগের উপশম হয়ে গেল, কত আরাম লাগছে এখন, খিদেও পাচ্ছে খুব। তারমানে আমিও ভালো হয়ে গেছি।
নার্স – না আপনারও পরপারের টিকিট কাটা হয়ে গেছে।
গৃহবধূ – অ্যাঁ কি বলেরে সিস্টার ! হাসপাতালের রুগীদের তোমরা মনোবল বাড়ানোর বদলে এমন নেগেটিভ কথা বলছো কেন দিদি?
দিদিমনি – আমারও এসব নেগেটিভ কথাবার্তা একদম ভালো লাগছে না। এই নার্সের নামে আমি নালিশ করব।
নার্স – যান, যেখানে খুশি যান।
নেত্রী – (এতক্ষন ওপাশ ফিরে শুয়ে ছিলেন) – হটাৎ উঠে তেড়ে এলেন নার্সের দিকে। আমি এই রাজ্যের এম এল এ। আমাকে বলুন তো কে আপনাদের জ্বালাতন করছে?
অভিনেত্রী – দেখুন না ন্যাতা ম্যাডাম –
নেত্রী – এই আমি ন্যাতা নই, নেতা – মানে নেত্রী। সমাজ সেবার জন্যই তো এখানে আসা।
উকিল ম্যাম – এই সিস্টার বলছেন যে আমরা নাকি মরে গেছি। এদিকে সাক্ষী সাবুদ কিছুই জোগাড় করেনি, কি করে মরলাম, কে মারলো, কখন –
দিদিমনি – আরে থামুন তো আপনি। আগে ডাক্তার কে ডাকুন, তিনিই পরীক্ষা করে ঠিক ঠিক রায় দেবেন।
অভিনেত্রী – (ছাত্রীকে) এই মেয়ে দেখতো ওনার নাকে হাত দিয়ে শ্বাস পড়ছে কিনা।
ছাত্রী – উকিল ম্যামের – নাঃ এনার তো নাক দিয়ে অক্সিজেন ভেতরে ঢুকছে না, আর কার্বনডাইঅক্সাইড ও বেরোচ্ছে না। ইনি সত্যিই মৃত।
বড়দিদিমনি – আমি হলাম গিয়ে তোমাদের মহারানী বিদ্যালয়ের বড়দিদিমনি, কত প্রশ্নপত্র তৈরী করা এখনও বাকি। এত তাড়াতাড়ি মরলে চলবে কেন?
গৃহবধূ – কিন্তু সেটাই তো হয়েছে, আমারও নাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। (নিজের নাড়ি টিপতে থাকেন বারবার)
অভিনেত্রী – দেখুন আমিও এখন আর জীবন্ত নেই। প্রাণ পাখিটা যে কোথায় উঠে গেল ! এখন আমি মুক্ত। এবার পরীর মতন উড়তে পারব।
গৃহবধূ – আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না। একটু পরিবেশটা হালকা করে দাও না ভাই নায়িকা দিদি। কেমন যেন ঠান্ডা ঠান্ডা ভয় ভয় ফিলিং হচ্ছে।
অভিনেত্রী – সুচিত্রা সেন, মাধবী না সাবিত্রী কার অভিনয় দেখাবো?
ছাত্রী – ধুর, ওরা তো সব আমাদের মা – ঠাকুমার প্রিয় নায়িকা, এখনকার কিছু করো না।
গৃহবধূ – শ্রীদেবীর সেই "ম্যায় নাগিন তু সপেরা" করো না ভাই, মনটা আবার চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
অভিনেত্রী – গান নাঁকি সুরে –
অমাবস্যার রাতে, চাঁদ ধরি আঙিনাতে
এসো এসো নিরালাতে,
চুপি চুপি কথা বলি,
প্রেমিক নায়কের সাথে।
উকিল / বড়দিদিমনি / গৃহবধূ – ওরে বাবা এর গলার আওয়াজটা তো অন্যরকম লাগছে। ও কি পেত্নী তাহলে?
নার্স – হ্যাঁ শুধু ও নয় তোমরাও সবাই কাল রাত্রেই মারা গেছো। দেহগুলো প্লাস্টিকে পুড়ে ফেলে দিয়েছি, এখন তোমরা মিথ্যে এসব পেত্নীর প্রলাপ বকছো।
নার্স – (হঠাৎ ঘুরে) মাথায় হাত দিয়ে ও বাবা আমার কি শেষ সময় আসতে আর দেরী নেই। না আমিও মরে গেছি?
গৃহবধূ – হ্যাঁ সিস্টার, তা নইলে তুমি আমাদের মতন ভূত প্রেতদের সঙ্গে থাকবে কি করে। তোমার প্রান্তি আর দেহের মধ্যে নেই।
নার্স – না না আমি বেঁচে আছি।
অন্যেরা – একেবারেই তা সত্যি নয়। তুমিও আমাদের দলে যোগদান করে ভূত হয়েছো, তাইতো আমাদের সঙ্গে এতক্ষন ধরে বচসা করে চলেছো।
ছাত্রী – চলো তবে সবাইমিলে একটু ভূতলামী করা যাক।
দিদিমনি – সেটা আবার কি?
ছাত্রী – মদ খেয়ে যেমন মাতলামী করে, তেমনি আনন্দে আবেগে আমরা বেশী আনন্দ করব।
গৃহবধূ – হ্যাঁ, সেই ভাল, চলো একটু গল্প গুজব করি, সবাইমিলে একসঙ্গে বসি।
বড়দিদিমনি – হ্যাঁ, গল্পের চেয়ে তো তোদের 'গুজবে' বেশী মন টানে।
ছাত্রী – কেন দিদিমনি কি হয়েছে তাতে? ন্যাতা ম্যাডাম আপনি অমন গুমসুম কেন কিছু বলুন। আপনিও তো এখন পেত্নীদের সমাজসেবী হয়ে গেছেন।
উকিল – ও মনে হয় এখন জ্বালাময়ী ভাষণ তৈরী করছে। ভূতের রাজ্যেও যদি ভোট হয় তাহলে ওকে ইলেকশন লড়তে হবে।
গৃহবধূ – তার আগে দাঁড়াও আগে আমরা গুজবগুলো ছড়ায়।
ছাত্রী – কি হয়েছে বৌদি বলুন না খুলে।
নার্স – এখানে গোলমাল করবেন না আপনারা। তর্ক বিতর্ক করতে হয় তো ঐ ওদিকের শ্মশানে চলে যান।
গৃহবধূ – কেন যাবো আপনার কথায়? এই হাসপাতালটায় এখন আমাদের ঘর।
নার্স – দাঁড়ান আমি এখনই লেডি পুলিশ ডাকছি। আপনারা অসুস্থ রুগিনীদের শান্তিতে ঘুমাতে দিচ্ছেন না।
(হৈ চৈ ঝগড়াঝাটি শুরু হয়ে গেল) (লেডি পুলিশের প্রবেশ)
পুলিশ দিদি – হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমায় এই জেনানা ওয়ার্ডে পাঠালেন, এখানে নাকি খুব গোলমাল করছে করা।
ছাত্রী – এই যে পুলিশ ম্যাডাম এদিকে আসুন। এই সিস্টার কে এখন থেকে নিয়ে যান আর আমাদের অন্য সেবিকা দিন।
পুলিশ দিদি – আমি কোনো কথা শুনতে চাই না। আমাকে বলা হয়েছে যে তোমাদের সব বেড খালি করাতে। নয়তো এই ডান্ডার বাড়ি খাবে বলে দিলাম।
গৃহবধূ – অ্যাঁ, মগের মুলুক নাকি? মারলেই হলো? (দর্শকের দিকে ফিরে) কতদিন পরে সংসার থেকে একটু ছুটি পেয়ে এখানে সাদা বিছানায় আরাম করছিলাম, আর উনি বললেই খালি করে দিতে হবে।
উকিল – বেশী জ্বালাতন করলে তোমার নামে এমন একখানা কেস ঠুকে দেবো না, বুঝবে তখন বাছাধন – কত ধানে কত চাল।
ছাত্রী – থামুন তো ম্যাডাম। আপনাকে আর কেস ঠুকতে হবে না, আগে নিজে বেঁচে থাকাটা প্রমান করুন দেখি।
নেত্রী – সমবেত ভদ্রমহোদয়া গণ, এখন আমার কথাটা মন দিয়ে শুনুন।
নার্স – আপনারা কেউ আর ভদ্রমহোদয়া নেই সব পেত্নী হয়ে গেছেন। সেই কথাটা কিছুতেই বুঝতে কেন পাচ্ছেন না কেন বলুন তো।
অভিনেত্রী – আমার কিন্তু বেশ বিশ্বাস হচ্ছে। কারণ মনটা বড় ফুরফুরে লাগছে।
বড়দিদিমনি – আমিও গীতার সেই স্থীতপ্রজ্ঞের মতন শান্ত স্নিগ্ধ হয়ে গেছি। দুঃখে সুখে বিচলিত হচ্ছি না। তার মানে আমিও আর মানবী নেই মনে হয়।
পুলিশ – ছাত্রীকে তাড়া করতে করতে চলুন বাইরে চলুন। কিন্তু ওদের গায়ে ডান্ডা কেন লাগছে না। – অন্যদিকে গৃবধূকে – আয় তোকে চুলের মুঠি ধরে বের করে নিয়ে যাব।
গৃহবধূ – ধরো তো দেখি।
পুলিশ – এ কি রে বাবা এরও তো চুল দেহ কিছুই নেই শুধুই ছায়া।
নার্স – ঐ উকিল ম্যাডাম কে আগে নিয়ে যাও, আর ওদিকের ঐ ন্যাতা ম্যাম কে। ওরাই বেশী হল্লা করছেন এতক্ষন ধরে।
(পুলিশ ধরতে যাওয়ার অভিনয়ে স্টেজে একটু লুকোচুরি খেলা)
সিস্টার, সিস্টার সত্যি করে বলুন তো এরা কি মানবী নন?
নার্স – সেই কথাটাই তো বলছি এতক্ষন ধরে।
পুলিশ – (ভয়ে আর্তনাদ করে) ওরে বাবারে আমি ভূত – পেত্নীদের মাঝে এসে পড়েছি, বাঁচাও, বাঁচাও।
(সবাই মিলে চেপে ধরে) –
উকিল ম্যাম – তাহলে তুমিই বা বাদ যায় কেন? সিস্টারের মতো এসো আমাদের দলে ভিড়ে যাও।
পুলিশ – সিস্টার আপনিও তাহলে –
নার্স – হ্যাঁ, পেত্নীরে আমিও এখন পেত্নী।
গৃহবধূ – চলো তাহলে সবাই মিলে একটু পিকনিক করি। ঐ দেখো পাশের হোটেলের ডাস্টবিনে কত মাছের আঁশ ফেলে দিয়েছে। চলো আমরা মুচমুচে করে ঐ আঁশগুলো ভেজে খাই।
ছাত্রী – তারসঙ্গে একটু গান বাজনাও চলুক।
(অভিনেত্রী এগিয়ে এসে নাচের তালে)
আমরা যত পেত্নী কত
আনন্দেতে আছি
যেমন খুশি থাকছি এখন
মরেও সুখে বাঁচি।
ঝুট ঝামেলা নেই এখানে
নেই রে কাজের তারা
মরণ পারে নতুন জীবন
জাগাই প্রাণে সারা।
দিদিমনি – ভূতের কেত্তন করতে করতে ঐ দেখো কতজন পুরুষ আসছে এদিকে।
ছাত্রী – অনেকদিন জেনানা ওয়ার্ডে আছি পুরুষ মানুষ দেখিনি। আজ ওদেরকে দেখে কি ভালো লাগছে যে – (ন্যাকা ন্যাকা গলায়)
দিদিমনি – আরে ওরা মানুষ নয়, পুরুষও নয় ওরা ভুতুষ। তাই ওদের জন্যে অপেক্ষা করে লাভ নেই।
অভিনেত্রী – না না ওদের না হলে চলে নাকি? দাঁড়াও একটু মেকআপ করে নি আগে – শাড়িটা পেঁচিয়ে পরি।
নার্স – তোমার তো এখন শরীরই নেই। এতো সাজের ঘটা কেন বাবা। ওই যে ন্যাতা ম্যাডাম আবার কি বলেন শুনি।
ন্যাতা – বান্ধবীগণ – আসুন আজ আমরা এক নতুন অঙ্গীকার করি। পেত্নী হলেও আমরা তো নারী জাতি। তাই সকল রমণীর হয়ে আমরা পুরুষের একচেটিয়া অধিকার থেকে নিজেদের মুক্ত করে স্বাধীন হই।
দিদিমনি – এখন আর অত কথায় কাজ নেই। আমরা সবাই বরং ঐ গঙ্গার জলে গিয়ে ঝাঁপাই।
ছাত্রী – হ্যাঁ, আমাদের ছায়া জলের সঙ্গে ঘুলে মিলে এক হয়ে যাক।
উকিল – আমরা আবার পঞ্চভূতে লীন হয়ে যাই।
নার্স – তাহলে এবার পেত্নীদের প্রলাপ বন্ধ হোক। –
ছাত্রীরা –
পেত্নী প্রলাপ বন্ধ করে
পালাই চলো সবে।
নাকে কান্না কাঁদলে মোদের
উদ্ধার কি হবে?
ওপর হতে ডাক এসেছে,
শোনো গো সব ভূত
মরণ দোলায় দুলতে দুলতে
হয়েছি অদ্ভুত।
মানব সমাজ আজ ছেড়েছি
আমরা যে অচ্ছুৎ
পেত্নী মোরা ভূতের পত্নী
করবো না খুঁত খুঁত।
সব অদ্ভুত কিম্ভূত।
(নাচতে নাচতে পেত্নীদের প্রস্থান)