চন্দনা সেনগুপ্ত
[একদল ডাকাত ও একজন ভুতের রাজা। তার অনেক প্রেতের প্রজা, আলেয়ার আলো, ফসফরাসের গ্যাসে শ্মশানে বাস করে কিছু জোনাকি ব্রহ্মদত্যি।]
ভুতের রাজা – আমি হলাম ভুতের রাজা।
দিন রাত খাই কাষ্ঠ ভাজা,
ভয় দেখতে পাই যে মজা –
আমার আছেন অনেক প্রজা।
কেউ বা ছিলেন নামী দামী,
কেউ বা ভীষণ আলসে কুঁড়ে,
কেউ বা থাকেন গাছের মাথায়
কেউ বা ওঠেন মাটি ফুঁড়ে।
চারিদিকেই শহর বাজার
ভিড় ভাড়াক্কা, শব্দ দূষণ,
এইখানেতেই শান্তি আছে,
অন্ধকার যে মোদের ভূষণ।
গ্রামের শেষে ছোট্ট নদী,
জল থাকে না সেথায় যদি,
পচা কুকুর, বেড়াল, গরু,
পড়ে থাকে কাদার গদি।
ওরাও মোরে ভুত হয়েছে
মোদের রাজ্য ঘিরে আছে।
শেয়াল, শকুন জ্যান্ত শুধু
ঘোরে তাদের কাছে কাছে।
ডাকাত সর্দার – এই কে রে ওখানে? ভারী সাহস দেখি! এই মধ্য রাতে আধো অন্ধকারে, দুর্গন্ধে ভরা পচা পাতা উইপোকাদের ঢিবি পেরিয়ে ওই ওখানে বসে কথা বলছিস ফিসফিস করে। কে তুই?
প্রথম ডাকাত – সর্দার এখানে যে ভীষণ দুর্গন্ধ, এখানে কেন নিয়ে এলে? দম বন্ধ হয়ে আসছে যে।
সর্দার – উঃ কি আমার নন্দ দুলাল রে? দম বন্ধ হয়ে আসছে (মুখ ভেঙ্গিয়ে) দেখছিস না কত মাল লুটেছি, কোথায় বসে ভাগাভাগি করব?
দ্বিতীয় ডাকাত – মাল পাওয়ার আগেই যে মোরে ভূত হয়ে যাব, এই পচা গ্যাসের মধ্যে থাকা যায় নাকি?
তৃতীয় ডাকাত – আর তা ছাড়া কি ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে মাটি, কাদায় পা ঢুকে যাচ্ছে। আমি তো আর এগুতে পারব না। যদি চোরা বালি থাকে? একদম ওর মধ্যে সেঁধিয়ে যাব যে, প্রাণটিও খোয়াবো আর মালটিও হারাবো।
প্রথম ডাকাত – (চিৎকার) সর্দার, সর্দার আমি গর্তে পড়ে গেছি, আমাকে সাপে কামড়ালো মনে হচ্ছে, উঃ মা গো – – – -। না না একটা ক্যাকড়া, আঙ্গুলগুলো যে ব্যাথায় টনটন করছে। সর্দার ফিরে চলো এখন থেকে।
সর্দার – আরে ওদিকে গ্রামের লোক সব উঠে গেছে। জমিদার বাড়িতে ডাকাতি করা কি চাট্টিখানি কথা নাকি হে?
দ্বিতীয় ডাকাত – হ্যাঁ, বড় রাস্তায় পুলিশের গাড়ি ছুটছে, সাইরেন বাজিয়ে। কি হবে এখন?
তৃতীয় ডাকাত – (কাঁদতে আরম্ভ করলো) ও মা গো, ও বাবা গো, ওদিকে ওটা কিসের আলো? দপ করেই নিভে গেল।
প্রথম ডাকাত – ভুত – ভু – – ত –, ভুত – পালাও এখন থেকে, ভূতের চোখ জ্বল জ্বল করছে অন্ধকারে।
সর্দার – আরে চুপ সব ভীতু, আহম্মক ছোঁড়া। তোরা ডাকাতের দলে যোগ কেন দিলি বলতো। এতই যদি প্রাণের ভয় তো যা বৌয়ের আঁচল ধরে বসে থাক। এই সোনা দানা আর পেতে হবে না।
এমন সময় দূরে সত্যিই আলো জ্বলেই আবার নিভে গেল।
ডাকাতরা সবাই মঞ্চের এক কোণে বসে রাম নাম জপতে লাগল। – – রাম – – রাম – – রাম – – রাম
ভূতের রাজা – এঁ্যা এঁগুলো আবার কেঁ রেঁ? জ্যান্তো মানুষেরা আমাদের রাজ্য দখল করতে এঁয়েছে বুঝি?
প্রজা ভুতের দল – ঘাড় মটকে দেব না কি?
ভুতের রাজা – আরে নাঁ নাঁ, তোদের কিছুই করতেঁ হবেঁ নাঁ, ওরা ভয়েই মরেঁ যাবেঁ।
প্রজা ভুত – তাহলে বেশ হবে। আমাদের এই রাজ্যে ভুতের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে।
ভুতের রাজা – নাঃ আঁমরা তো বেঁশ আছি, এঁখানে আর ওঁদের ভিঁড় বাঁড়িয়ে দরকার নেই। ওদের এখানে লুকানো বের করছি। এখন থেকে তাড়াতেই হবে।
প্রজা – ডাক তো পেত্নী রানী কে – ঐ ডাকাতগুলোর সামনে একটু নাচ গান করলেই ওরা ওদের পেছন পেছন চলে যাবে।
দুজন পেত্নীর প্রবেশ – রাজা মশাই নমস্কার। আপনি আঁমাদের ডেকেছেন?
রাজা – হ্যাঁ, ঐ গাছের তলায় কজন জীবন মানুষ লুকিয়ে আছে, ওদের একটু ভয় দেখতে হবে, যাতে ওরা পালিয়ে যায়।
দুই পেত্নী – হি – – হি – – হি – –
আমরা ভুতের ঝি – ।
পুরুষ মানুষ বশ করব –
শক্ত এমন কি?
হি – – হি – – হি – ।
বাজনার সঙ্গে নৃত্য
দুলে দুলে তালে তালে –
চলো যাই পা ফেলে,
মোরা সবে দলে দলে
বসি গিয়ে পিঠে কোলে।
সহজে কি শ্মশানে তে
মানুষের দেখা মেলে?
ডাকাত সর্দার – (কোনা থেকে সাহস করে বেরিয়ে আসে একটা চাকু হাতে নিয়ে, তার মুখে আলো পড়বে)
(ভূতেদের নাচে নীল আলো ও সেটার বাদন চলছিল, এবার ডাকাতটি এগিয়ে আসবে -)
বুঝেছি এ ব্যাটারাও সব আর একদল ডাকাত, আমাদের মতোই এখানে লুকিয়ে আছে, আর আমাদের তাড়াবার জন্য ভুত সেজেছে। (হাতের লাঠি চাকু ঘুরিয়ে) – অ্যাই মেয়েগুলো আয় আমার সামনে, দেখি তোরা ছদ্মবেশী পুলিশ – না আমার মতোই চোর ডাকাতের বৌ মেয়ে।
(পেত্নীদের অন্তঃধান) –
(এবার ভুতের রাজার প্রবেশ) অন্ধকারে –
রাজা – কিঁ রে ডাকু সর্দার ! তোঁর সাহস তো কম নয়, আমাদের এলাকায় এসে আমার লোকেদের মানছিস না। দেখবি আমাদের কত শক্তি?
(তার শরীরের ওপরে আলো পড়বে। একটা কঙ্কাল লাগানো কালো জামার ওপরে সাদা কাগজ দিয়ে তৈরী)
ভুতের রাজা – আয় সামনে আয়, বড় যে তোর সাহস। এখনও প্রাণ আছে বলে দেখি এত আস্পর্দ্ধা। দেখ দেখি আমি ভুতের রাজা, নই মানুষ ডাকাত।
(তার চেহারা দেখে সকলে ভীত হয়ে পলায়ন, – সকলে ও বাবারে, ও মা রে – লুটের মাল সব থাকুক পড়ে)
এমন বিকট ভুতের মূর্তি
আগে কভু দেখিনি রে।
জীবন নিয়ে পালিয়ে যা রে।
আসবো না আর ভুতের দ্বারে।
(বলতে বলতে পলায়ন)
রাজা ও প্রজা ভুত আনন্দে হাততালি দিয়ে ওঠে। –
(পিছনে ড্রাম, তবলা, হারমোনিয়াম বাজতে থাকে। ভূতেরা ব্রেক ডান্স এর মতো নাচতে শুরু করে -)
প্রথম ভুত – ভুতের সঙ্গে চালাকি?
আমরা ভীষণ ভয়াভয়
এ খবরটি যেন না কি?
দ্বিতীয় ভুত – স্যাঁতস্যাঁতে এই আস্তাকুড়ের পাশে
ঘাপটি মেরে থাকি শিকার আশে
গভীর রাতে ঝোপে ঝাড়ে
মরা প্রাণীর সঙ্গে থাকি।
মোদের সঙ্গে চালাকি?
তৃতীয় ভুত – মানুষ ভাবে পৃথিবীতে –
ওরাই করবে বাস,
আওয়াজ করে, আলোয় ভরে –
তাইতো ছড়ায় ত্রাস।
রাজা ভুত – কিন্তু মোরাও কম যায় না –
ভুতের যত ছানা পোনা,
নিজের রাজ্য পাহারা দিই
সব দিকেতেই লক্ষ্য রাখি।
ভুতের সঙ্গে চালাকি?
হটাৎ ধপ করে একটা আলো জ্বলে আবার নিভে যায়। ভূতেরাও ভয় পেয়ে যায়। একদিকে সবাই একজোট হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। সবাই একসাথে — ওরে বাবা এটা আবার কি? নতুন কোন ম্যাজিশিয়ান মোদের ম্যাজিক দেখাচ্ছে নাকি?
(মঞ্চের একপাশে আবার দপ দপ করে আলো জ্বলে)
রাজা ভুত – (গম্ভীরভাবে) ব্যাপারটা তো খুঁটিয়ে দেখতে হচ্ছে? ওখানেও কি বদমাস, মানুষ, চোর, ছ্যাঁচোড়গুলো লুকিয়ে আছে নাকি? ধরা পড়ার ভয়ে?
প্রজা ভুত – রাজা মশাই, আঁমি একবার পরীক্ষা করে আঁসি।
রাজা – একা যাবি নে। অ্যাই, তোরাও সঙ্গে যা না।
(শেয়ালের ডাক – হুক্কা হুয়া, হুক্কা হুয়া, ঝিঁ ঝিঁ পোকার আওয়াজ। পেঁচার হুট হুট, বাদুড়ের দানা ঝাপটানোর আওয়াজে একটু ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি। শন শন হওয়ার শব্দ।)
(প্রজা ভুত সাহস করে মঞ্চের একপাশে গিয়ে আওয়াজ দেয়।)
প্রজা ভুত – কে কে ওঁখানে? ঘাপটি মেরে বসেঁ থাকা বের করছি, আঁয় বের হয়ে আয় বের হয়ে আঁয়। রাজার সামনে হাজির করি।
[মাথায় টুনি বাল্ব জ্বলছে আর নিভছে, একদল জোনাকি পোকার দল এসে হাজির] [জোনাকিদের নৃত্য বাজনার তালে তালে]
জোনাকির দল – আমরা জোনাকি পোকার দল গো ভুত মশাই। আমরা তো এই ঘন গাছের পাতায় অন্ধকারে লুকিয়ে থাকি। তোমরা আমাদের চেনো না কি?
প্রজা ভুত – ও জোনাকি কি সুখে ওই
ডানা দুটি মেলেছো – – – -।
– – – – গান – – – ।
জোনাকি – ওমা এই ভুতটা আবার রবীন্দ্রসংগীতও গাইতে পারে। কি সুন্দর গলা।
প্রজা ভুত – কেন পারবো না, আমি যখন বেঁচে ছিলাম তখন শান্তিনিকেতন-এ তো পড়তাম। সব মানুষগিরি ভুলে গেছি কিন্তু ঐ গুরুদেবের গানগুলি ভুলতে পারিনি।
জোনাকি – তা বেশ, তা বেশ, কিন্তু তোমাদের রাজা এমন ভয় পেয়ে গেছেন কেন?
প্রজা ভুত – ওই কী একটা আলোর ঝলক উঠেই নিভে গেল না, তাই ভাবলাম এখানেও কোন ইলেকট্রিক লাইট লাগাচ্ছে নাকি?
জোনাকি – ও ওটা আলেয়া।
ভুত – সে আবার কি?
জোনাকি – ও তো এই স্যাঁতস্যাঁতে মরা পঁচা আবর্জনার মধ্যে ওঠা একটা গ্যাস। ও তোমাদের কিছু ক্ষতি করবে না। ও একরকমের ভুত। গাছের তো প্রাণ ছিল তাদের ভুত।
প্রজা ভুত – আলেয়ার সৃষ্টি কি করে হয় ভাই?
জোনাকি – গাছপালা পচনের ফলে যে মার্শ গ্যাসের সৃষ্টি হয়, সেই মিথেন গ্যাস দাহ্য ফসফিনের PH3 ও ফসফরাস ডাই হাইড্রেড P2Hq থেকে।
প্রজা ভুত – তা কি করে হয়?
জোনাকি – পঁচা পাতা পলি মাটি থেকে মিশ্রিত মিথেন গ্যাস বাতাসের সংঘর্ষে জ্বলে ওঠে। তাই ওই আগুন দপ দপ করতে দেখা যায়।
প্রজা ভুত – জীবনানন্দের ঝরা পালকে – লেখেন –
“প্রান্তরের পারে তব তিমিরের খেয়া
নীরবে যেতেছে, দুলে নিদলী আলেয়া।”
জোনাকি – তাই অনেক লোক আলেয়া ভুত ও বলেন।
প্রজা ভুত – ওঃ তাই বলো। আমরা হই মানুষ মরে। আর ওদের সৃষ্টি পঁচা গাছের পরে। তাহলে তো ওদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।
রাজা ভুত – যাক বাবা বাঁচলাম। কিন্তু আমরা সব ভূতেরাই তো কথা বলতে পারি, আলেয়া কথা বলে না কেন রে?
প্রজা ভুত – গাছেরও তো মূক বধির। কিন্তু তাদের তো প্রাণ আছে। তাই তারা মরে পঁচে গর্তে বাস করে আর আলেয়া ভুত হয়ে যায়।
শাকচুন্নির প্রবেশ – (পা দুটি বেঁকিয়ে) আমি তো ওই আলেয়ার কাছ থেকেই আসছি। যে সব মহিলা শাঁখা পরেন, আমি তাদের ঘাড়ে গিয়ে চাপি। কিন্তু ঐ জীবন্ত মানুষেরা ওঝা এনে আমায় ঝাঁটা পেটা করে। ধুনোর ধোঁয়ায় চোখে মুখে জ্বালা ধরিয়ে দেয়, তাই শাকচুন্নি, পেত্নী নামে ঘুরে ঘুরে বেড়াই। এখানে এসে এতজন ভুত পেত্নীদের পেয়ে খুব ভাল লাগছে।
মামদো ভুত – (মোটা গলায়) আমি ঐ মুসলমানদের গোরস্থানে মানে কবরে থাকি। যত মৌলবী ফকিরদের সঙ্গে বসে নামাজ পড়ি।
রাজা ভুত – তা ভালোই করো, নিজের ট্রেডিশন, কালচার কখনও ছাড়া উচিৎ নয়।
গেছো ভুত – ঐ দেখো স্কন্ধ কাটা। রেলে মাথা দিয়ে মরেছে বলে ওর ঐ দেহে ঘাড় পর্যন্ত রয়েছে। তাই ওকে দেখে সবাই ভয় পায়।
মেছো ভুত – এই নদী খাল বিল গুলোতে খুব মাছ ছিল আগে। তাই খেয়ে খেয়ে আমাদের নামটায় মেছো ভুত হয়ে গেছে।
প্রজা ভুত – বাবারে বাবা এত রকমের ভুতের কথা তো আমরা সব ভূতেরাই জানি না। কিন্তু একজন ভূতকে সবাই জানি।
রাজা ভুত – আমাকে ছাড়া আর কাউকে মানবি না বলে দিচ্ছি, তাহলে তোদের মজা দেখিয়ে দেব।
প্রজা ভুত – তুমি দেখলে তোমারও শ্রদ্ধা হবে। তিনি হলেন সব ভূতেদের সেরা ব্রহ্মদত্যি। জ্ঞানী গুণী ব্রাহ্মণেরা অপঘাতে মারা গিয়ে এই মহান ভুতের উদয় হয়।
শাকচুন্নি – তেনার কিন্তু খুব দয়া মায়া। সহজে কারুর ক্ষতি করেন না। ভালো ভালো কথা বলেন।
নেতা ভুত – কিন্তু ব্যাপারটা কি জানো – মানুষেরা বাচ্চারা আজকাল আর ভুত/টুতে বিশ্বাস করে না।
প্রজা ভুত – সূর্য্যি দেবের কাছে তো আমরা সবাই জব্দ, তাপও একদম সহ্য করতে পারি না।
রাজা ভুত – আজকাল সূর্য্য দেবের আলো থেকে শক্তি নিয়ে রাত্রে সোলারের আলো জ্বালাচ্ছে সর্বত্র। তাহলে কোথায় গিয়ে মুখ লুকাই বলতো? ব্রহ্মদত্যি দাদা কে বরং ডাকা যায় এই সভায়। তিনি কি রায় দেন দেখি। সবাই মাইল প্রার্থনা –
হে ব্রহ্মদত্যি দাদা একবার দেখা দাও। আমাদের জীবনে মানে এই মরে বেঁচে থাকার ব্যাপারটা শেষ করা যায় কি না, একটু বলে দাও। আমরা সব ভুতের দল বড় টেনশন এ আছি। একটা কিছু উপায় করো।
ব্রহ্মদত্যির আগমন – (গম্ভীরভাবে ধীরে ধীরে আলখাল্লা বা সন্যাসীর মতন কাপড় পরনে তার প্রবেশ) – বন্ধুগণ এসো, এবার সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আল্লা বা ভগবানের দরবারে আমরা আর্জি করি। আমাদের ভুতুড়ে সম্প্রদায়কে শেষ করে তিনি নতুন কিছু সৃষ্টি করুন।
“হে ঈশ্বর, আল্লা, প্রভু,
কাছে কেন হে আসো না কভু?
মোদের দশা শোচনীয়
আসবে না কি এখনও তবু?
আমরা হলাম প্রেত আত্মা –
তুমি শ্রেষ্ঠ পরমাত্মা
তোমার হাতের পুতুল সবাই
মানব, শিশু, জীবাত্মা।
আকাশবাণী
“এসো এসো সব অমৃত পুত্র।
জীবন মরণ বাঁধা যে সূত্র –
বৃষ্টি ধারায় ধুয়ে যায় আজ,
উদ্ভিদ রূপী পুষ্প পত্র।
পরিবর্তন নিয়ম মানিয়া,
পুনরায় যায় জগতে ফিরিয়া,
আকাশ হোক মাথার ছত্র।