চন্দনা সেনগুপ্ত
ওই ছেলেটা ভ্যাল ভ্যালেটা, বড়ই সে যে হুজুকে, ছোট থেকেই পায়ে চাকা - পালিয়ে যায় কোন মুলুকে, মামার বাড়ি, বাঁশের ঝাড়ি, ছাড়িয়ে সে দেয় কোথায় পাড়ি সঙ্গে নিয়ে প্রাণের দোসর - নেড়ী কুত্তা, - ভুলু - কে। পাঠশালাতে মন লাগে না, ঢেঁকী শালায় যায় ঢুকে, চিঁড়ে কুটে দেয় পিসিকে কোলে নিয়ে এক পুঁচকে কে - ওটা যে তার পোষা বেড়াল করে রাখে সবার আড়াল, কখনও বা চরিয়ে বেড়ায়, সাদা গরু ধুলু কে, কাক, চিল বা পেঁচার ছানা, ঘেন্না করে কেউ ছোঁয় না গাছে চড়ে, তুলে সে দেয় দয়া মায়ায় ডুবে থাকে, চান খাওয়া যে ক্খন সারে ! বসে থাকে নদীর ধারে, বানের জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে, - বাঁচায় বন্ধু বুলু কে। বড় হয়েও শোধরালো না, চলন বলন এক থাকে। উধাও হয় সে পাহাড় বনে, কখন কোথায় সেই তা জানে, - সাগর পারে বালুর তীরে ক্যাঁকড়া ধরে - কোন বাঁকে। রাতের বেলায় গ্রাম পাহারায় "জাগতে রহো" - হাঁক হাঁকে। যাযাবরের মতন স্বভাব, দেখে না সে নিজের কি লাভ, পরের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে - ঘুরে মরে কার ডাকে? ধন-দৌলত চায় না গো সে পয়সা তো নেই তার ট্যাঁকে, কিন্তু আছে ভীষণ সাহস আত্মবল যে তার বুকে। মহামারী হলেও ভারী, মারলো তুড়ি সে তাকে, কোভিড কেও ভয় পায় না, মড়া পোড়ায় কোন ঝোঁকে ! সবাই তাহার কাছে আসে, - আপন বলে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা জানায়, মনে মনে হুজুকে ঐ ছোঁড়াকে।