চন্দনা সেনগুপ্ত
সেই যে দুজন, কে জানে কখন - ! বিষ বৃক্ষের ফল খেয়ে, - প্রণয় করতে শিখেছিল, - তাদের আমার প্রণাম। ওই 'আদম - ইভের' ভ্যালেন্টাইন পর্ব টি না থাকলে তো আমরা জন্মাতামই না। জানতাম না, সেই আদিম প্রেমিক প্রেমিকার নাম, পেতাম কি এই সুন্দর জগতে এমন অপূর্ব জীবনের দাম? প্রেম, প্রতীক্ষা - প্রত্যাখ্যান বা মিলন। যুগ যুগ ধরে - মুগ্ধ - স্নিগ্ধ - ধন্য করে রোমান্টিক ভুবন। কবি কালিদাস-এর কাব্যে, আমাদের শাস্ত্রে পূরাণে - কামদেব মদনের আগমনে, মানব-মানবীর মনে তুলেছে আলোড়ন। রাধা - কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী - অভিসার - বিরহ - এসবই তো বৈষ্ণব পদাবলীর - ছন্দে বদ্ধ, মধ্য- যুগের ভ্যালেন্টাইন। কথাটা হয়তো একসময় তৃতীয় খ্রিস্টাব্দে ‘রোমান’ অক্ষরে লেখা হত, কিন্তু আধুনিক পৃথিবীর প্রতি ভাষায় - বনে, কোনে, মনে - তার মানে 'গোপন প্রেমবন্ধন'। যীশুখৃষ্টের ধর্ম প্রচারক - ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’ কে নিয়ে সূত্রপাত এই উৎসবের লগন, ধর্ম বিদ্ধেষী রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের কারাগারে বন্দী ছিলেন সেই সজ্জন - মুখ বুজে সহ্য - করে চলেছিলেন অকথ্য নির্যাতন, ঠিক তখন - তাঁর হৃদয় মুকুরে উদ্ভাসিত এক মুখ, জেলার কন্যার আবেগাপ্লুত - দুই নয়ন, - তাঁকে বারে বারে চঞ্চল করে, তিনি কী যেন ভাবতে থাকেন, - সারাক্ষণ তারপর সুযোগ বুঝে তাঁর সেই বান্ধবীকে করেন পত্র প্রেরণ। কেউ জানে না কী লেখা ছিল তাতে। কিন্তু সেই কারনে করতে হল তাঁকে মৃত্যু বরণ। তারপর থেকেই 'শহীদ সাধুর' নাম তরুণ তরুণীর দল স্মরণীয় করে দিলেন, ১৪ই ফেব্রুয়ারীকে ২৭০ শতাব্দী থেকে শুরু হল সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামে নতুনভাবে প্রণয় নিবেদন। সবাই জানে লুকিয়ে প্রেম করার মধ্যে আছে এক শিহরণ। তার ওপরে সব দেশেই যখনই হয় - 'বসন্তের' আগমন - ফুলে ফুলে অলি করে পরাগ মিলন, - পাখীরা খুঁজে বেড়ায়, তাদের প্রিয় সাথীকে, বেড়ে যায় তাদের কলকাকলী মধুর কুজন - এই ঋতু বরফ গলা জলে তোলে তখন, মৃদু হিল্লোল, হাওয়ায়, সঙ্গীতের মূর্ছনা - মানব হৃদয়ে তোলে আলোড়ন, তখন চিরকালীন প্রেমিক - প্রেমিকা করে আবাহন ,তীরবিদ্ধ পাখীটিকে, গান গায় - কবির সুরে "প্রেমের জোয়ারে ভাসাবো দোঁহারে - বাঁধন খুলে দাও - দাও দাও দাও" - নতুন যুগে নতুন ভাবে এ যুগের যুবক যুবতী ফুলের তোড়া উপহার নিয়ে এগিয়ে যায়। করে প্রেম নিবেদন, - ধন্য হয় সেই সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নির্বাসন ও আত্ম বিসর্জন।