চন্দনা সেনগুপ্ত
চব্বিশ পরগনার বাসন্তী গ্রামে গরীব চাষীর ঘরে জন্ম রাধার। অনেকগুলি ভাই বোন তারা। বড় দিদির বিয়ে হয়েছে, ‘জামাইদাদা’ নদীর ধারে একটা মুড়ি চপের দোকান চালায়, দিদিও তার সাহায্য করে। ছোট ছোট দুই ভাই, মা প্রায় অসুস্থ থাকেন, কেউ জানে না পেটে কি হয়েছে। বাবাও সারাদিন মজুরী করেন, অন্যের জমিতে পরিশ্রম করে ধান বোনেন, সব্জি লাগান। দিদির বাচ্চা হবে বলে রাধা এসেছে, জামাইবাবুর দোকানে আলু সেদ্দ মেখে, চপ ভাজার জোগাড় করতে, পিঁয়াজির জন্যে পেঁয়াজ কাটতে। নদী ঘাটে খেয়া এসে ভিড়লে বেশ লোকজন হয়। সুন্দরবনের দিকে যেতে হলে এই পথ দিয়েই লোকেরা চলে, তাই ভীড় হয় ভালোই। ষোলো বছরের রাধা বেশ ডাগর হয়ে উঠেছে। মুখখানা তার ঢলঢলে শ্যামলা রঙের, খুব তাড়াতাড়ি বুঝি যৌবন এসে গেছে। দিদি সাবধান করে, বাইরে বেশি যাবি না। লাল ফিতে দিয়ে বেড়া বিনুনি বেঁধে, চোখে কাজল লাগিয়ে যখন সে দোকানের আসে পাশে ঘুরে বেড়ায়, তখন পথ যাত্রীদের চোখে পড়ে যায়।
স্টিমারের কর্মচারী ৩০/৩২ বছরের ‘দাশরথী প্রসাদ’ প্রায়ই এসে এই দোকানের বেঞ্চে বসে, চা ও মুড়ি চপ খায়, পেটের খিদের চেয়েও চোখের খিদে তার বেশী। ধূর্ত ধূর্ত দৃষ্টিতে খুঁজতে থাকে কিশোরী রাধাকে। একদিন বাগে পেয়ে ইশারা করে একটু আড়ালে যাবার জন্য, জামাইবাবু মুদির দোকানে গেছেন, চিনি আনতে, দিদি বাড়িতে মা ও বাচ্চার সেবায় ব্যস্ত। আদর করে চেপে ধরে রাধাকে দাশরথী গাছের আড়ালে, বলে “আমার সঙ্গে যাবি, খুব সুখে রাখব। এই দিদি জামাইবাবুর বেগার খেটে মরছিস, বোকা মেয়ে।” সেদিন হাত ছাড়িয়ে ভয়ে লজ্জায় ছুটে পালায় মেয়েটা। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই মা মারা গেল, বাপ ভাইদের রান্না বান্না সব কাজ করতে করতে হয়রান হয়ে গেল সে, একদিন দিদির রান্নাঘর থেকে চাল নিয়ে যাওয়ায় জামাইদাদা চুলের মুঠি ধরে পিঠে একটা ভীষণ জোরে কিল বসিয়ে দিল, খুব রাগ ধরে গেল তার l
সেদিন কাঁদতে কাঁদতে এক কোনে বসে দোকানের কাজ করছিল রাধা। মনটা বিরক্তিতে ভরে গেল, এমন সময় সুযোগ বুঝে তার অবদমিত ইচ্ছেটাকে জাগিয়ে দিল, ‘দাশরথী’l একটা সুন্দর লাল সালোয়ার কামিজ ও চুড়ি দিয়ে গেল তাকে, একটা প্যাকেটে করে। সন্ধ্যেবেলা সেগুলো পরে ঘরের বাইরে একটা নতুন অজানা জগতে পা দিল রাধা, দাশরথীর হাত ধরে বেরিয়ে পড়ল অজানা উত্তেজনার তাড়নায়।
একটা ‘অটো’ আগে থেকেই ভাড়া করে রেখেছিল, রাধাকে নিয়ে সোজা কোলকাতা, সেখান থেকে ট্রেনে করে বিহারের এক গ্রামে। ছোট্ট একটা স্টেশন, হিন্দীতে নাম লেখা, পড়তে পারল না সে। সেই গ্রামে প্রথমেই দাশরথী নিয়ে গেল তাকে এক মন্দিরে, সেখানে ওর মাথায় সিঁদুর পরিয়ে, ওড়নি দিয়ে ঘোমটা টেনে নিয়ে গেল নিজের বাড়ি। এখানে এসে রাধা বুঝতে পারলো, আর এক বৌ বাচ্চা কাচ্চা সব আছে দাশরথীর, কাজেই কেউই সাদর সম্ভাষণ করল না তাকে বরং দুটো গালি দিয়ে বলল, – “অন্যের মেয়ে নিয়ে এসেছিস আমরা খাওয়াতে পারব না, এখানে জায়গা হবে না, শহরে গিয়ে রাখ। এসব মেয়ে আমাদের দেহাতী ভাষা, আদপ কায়দা জানে না, এখানে ডাল গলবে না।”
ভোজপুরী না কি একটা ভাষায় তাদের খুব ঝগড়া চলতে লাগল। কোন রকমে মোটামোটা রুটি ও লংকার তরকারী খেয়ে দিন কাটালো সে। দাশরথী এবার তাকে নিয়ে এল পাটনায়, এক বন্ধুর বাড়ি। তার সাহায্যে ফ্যাক্টরীতে কাজ জুটলো স্বামীর। কিন্তু সব আশা আনন্দ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল মেয়েটার। রাত্রে মদ খেয়ে দাশরথী ও তার বন্ধু বান্ধবদেরও নিত্য খেলার বস্তু হয়ে উঠল সে। সতেরো বছরেই একটা মরা মেয়ে হল তার। রোজ রাত্রে চলতে লাগল অকথ্য নির্যাতন এবং সারাদিন রাজ্যের কাজ। বাড়ির কথা ভেবে মন খুব খারাপ করে তার, কিন্তু কাঁদবার উপায় নেয়, তাহলে আরও মার পড়ে। এই এক ছোট্ট জীবনে এতো বিরাট একটা ভুল কেন করল ভেবে পায় না সে। খালি মনে হয় কখন এখান থেকে পালতে পারবে। দুর্গাপুজো, দীপাবলী কেটে গেল, এল বিহারের ‘ছট’ পুজোর সময়। মেয়েরা সব ব্রত করে দলে দলে চলেছে নদীর ঘাটে। পাড়ার বৌদের সঙ্গে রাধাও উপোস করে হাতে পুজোর থালা, ফল মূল নিয়ে চলেছে রাস্তা দিয়ে এক গলা ঘোমটা টেনে। এই দুই বছরে সে ভোজপুরী বা হিন্দী কোন ভাষায় শিখতে পারেনি, কারন কারোর সাথে মিশতেই দেওয়া হয় না তাকে। বেশ কিছুটা আসতেই চোখে পড়ল পাটনা রেল স্টেশনটা। কত ট্রেন আসছে যাচ্ছে, কত মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে, আস্তে আস্তে দলছাড়া হল রাধা। পেছন দিক দিয়ে লাইন পার হয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে চড়ল। একটা ট্রেন এসে দাঁড়িয়েছে, একটি বাঙালি পরিবার ট্রেন থেকে নামলেন বাংলায় কথা বলতে বলতে। রাধা তাড়াতাড়ি কাছে গিয়ে শুধু জানতে চাইলো ‘কোলকাতা’? তারা একটু অবাক হয়ে বলল – “হ্যাঁ কোলকাতা থেকে আসছি আমরা।” রাধার মনে যেন ঢাক বাজতে লাগল। ট্রেনটা ছাড়ছে। অজ্ঞ এবং অল্পশিক্ষিত মেয়েটি ভাবলো এই সুযোগ, উঠে পড়ল ট্রেনে, তার বাড়ির থেকে আসছে যখন, আবার ওখানেই ফিরিয়ে নিয়ে যাবে তাকে, এই একই গাড়ি। কোনোরকমে বাথরুমের পাশে বসে পড়ল রাধা। সব সীটেই তো লোক। খাঁচা খুলে বন্দি পাখী বাইরের জগতে এসে ভীষণ শান্তি আরাম অনুভব করল, এবং ঘুমিয়ে পড়ল সঙ্গে সঙ্গে। –
সকালবেলায় এমন করে মাটিতে মুখ ঢেকে একটা মেয়ে শুয়ে আছে দেখে, টিকিটবাবু বিরক্ত করলেন না, বেলায় রাধা উঠে বসে রইল জানলার দিকে চলমান জগতের দিকে তাকিয়ে সময় কেটে গেল। সঙ্গে কেউ নেই, কোথায় যাচ্ছে, কি হবে এরপর কিছুই ভাবতে পারছে না সে। মাথাটা ঝিম ঝিম করছে শুধু। আবার কতক্ষন সে এইভাবে কাটালো, কত লোক প্রতি স্টেশনে উঠল নামল কে জানে!
কামরাতে বেশীর ভাগই মাথায় পাগড়ি বাঁধা লোক, তারা যে পাঞ্জাবী সর্দার সেটা বুঝতে পারলেও – ‘তুসি’, ‘তুয়াড্ডে’ – তেনু কি হোইয়া? এসব ভাষা বোধগম্য হলো না তার। শেষ গন্তব্য স্থান এসে গেল – ‘অমৃতসর’। সবাই নেমে গেল। রাধা বসে রইল একটা বেঞ্চে। এই ট্রেনটা যখন কোলকাতা থেকে আসছে, তখন আবার নিশ্চয় কলকাতাতেই ফিরে যাবে, অতএব নামবে না সে।
কামরা পরিষ্কার করে, পাখা লাইট চেক করে দেখতে রেলের কর্মচারীরা উঠলেন, পাঞ্জাবী ভাষায় ওকে নেমে যেতে বলল। ট্রেন ভোর বেলায় ছাড়বে, এখন অন্যদিকের লাইনে লাগানো হবে, কেউ যে এখানে থাকতে পারবে না সেটা খুব জোর দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করলো। কারো কথাই শুনতে চাইছে না মেয়েটা। এবার স্টেশনের পুলিশ এসে টেনে নামালো তাকে। প্লাটফর্মে যেন নাটক দেখতে লোক জমে গেল। রাধা কোনও পুরুষকে দেখলেই চিৎকার করে, রাগে দুঃখে মাথার চুল ছেঁড়ে, নিজের কথা বলতে চায়, কেউ শোনে না। এরপর মেয়ে পুলিশ এসে তাকে হাত ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে একটু শান্ত করল, কিন্তু নিজের ভাষায় তার সহকর্মী ও অফিসারদের জানালো – মেয়েটি মানসিক ভারসাম্য একেবারেই হারিয়ে ফেলেছে। গায়ে মারের দাগও রয়েছে। পুলিশের হেফাজতে রাখাটা ঠিক হবে না, অতএব পাগলাগারদে পাঠিয়ে দেওয়াটাই বিবেচ্য হল।
রাধা কাঁদতে আরম্ভ করল – “আমি বাড়ি যাবো গো – আমাকে ছেড়ে দাও গো তোমরা।” তার রুদ্র চন্ডী মূর্তি দেখে পুরুষ কর্মীরা ভয় পেয়েছিল। এই শিশুর মতন চিৎকার করে কাঁদতে দেখে মহিলারা চোখের জল রোধ করতে পারলো না। ওর ভাষা জড়িয়ে গেছে, মাটিতে আছাড় কাছাড় খাচ্ছে, কত কত ভাবে বলতে চেষ্টা করছে ও কি চায়; কিন্তু এক প্রদেশের লোক যে ভারতবর্ষের অন্য প্রদেশের মানুষের কাছে তার পরিচয় বা ইচ্ছে কিছুই জানতে সক্ষম নয়, – কেউ কারো মুখের কথা ভাষা হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না, – সে কথা কি কেউ জানে!
অমৃতসরের বিখ্যাত সরকারী মানসিক ব্যাধিগ্রস্থদের রাখার লুনাটিক এ্যসাইলাম “বিদ্যাসাগর মেন্টাল হসপিটাল” থেকে মহিলা ওয়ার্ডেন ডাক্তার ও নিরাপত্তা কর্মচারীরা এসে রাধাকে জোর করে তুললেন হাসপাতালের এম্বুলেন্সে।
অনেকজন মহিলার মাঝে বসে রাধা একটু চুপ হল, ভাবলো এরা তাকে বাড়ি পৌঁছে দেবে। ঐ ভ্যানটি এসে পৌঁছালো দেওয়াল ঘেরা এক নতুন ধরনের জায়গা, জেলখানা নয় – ‘জেনানা পাগল খানা।’
দুজন দুদিকে ধরে ধরে ওকে নামালো গাড়ি থেকে। যেন চোর ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, কয়েদীদের মতন করে। গেট পেরিয়ে বাগান, বেশ সুন্দর জায়গাটা, বড় বড় গাছে ঘেরা। জেল খানার মতন ঠিক লাগছে না তো রাধার। এরপর একটা বড় দরজা খুলে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হল তাকে। সেখানে চারিদিকে অদ্ভুত অদ্ভুত সব মেয়ে বসে শুয়ে কিম্বা দাঁড়িয়ে নানানরকম ভঙ্গী করছে। কেউ কাঁদছে, কেউ বিড়বিড় করে কী সব বলে চলেছে, কেউ আবার হাত পা নেড়ে দেওয়াল বা খাম্বার সাথে ঝগড়া করছে। একজন বেশ শান্ত হয়ে বসেছিল বারান্দার এক কোনে। হাত নেড়ে ইশারা করে ডাকলো রাধাকে, একমুখ হাসি নিয়ে, যেন নিজের আপনজনকে দেখতে পেয়েছে অনেকদিন পরে। যে দুজন মহিলা রাধার সঙ্গে আসছিলেন, তারা টেবিলে বসে থাকা একজন সুন্দর জামা ও কাপড় পরা দিদির কাছে কিছু লেখাচ্ছিল, একজন আদর করে তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘ক্যায়া নাম হ্যায় বেটা তুমহারা?’ প্রশ্ন হিন্দীতে হলেও সে বুঝতে পারল, এবং উত্তর দিল, ‘রাধা রানী দাস’। তাকে তখন ওরা ছেড়ে দিয়ে তার চেহারা হাব ভাব লক্ষ্য করতে লাগল। যে মেয়েটি বার বার ফিক ফিক করে হেসে ওকে কাছে আসবার জন্য ইশারা করছে, তার দিকে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যেতে লাগল – রাধা। প্রায় ওর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সে ভীষণ জোরে একটা গেলাস ছুড়ে মারলো, রাধার দিকে, তার রূপ ও চেহারা একনিমেষে বদলে গেল, চিৎকার করে গালাগালি দিতে লাগল সে। সবাই ছুটে এল তার কাছে, রাধার বিশেষ লাগেনি অন্য দিকে পড়েছে গ্লাসটা, ভয় পেয়ে ছুটে পালিয়ে এল সে। মেয়েটা হয়তো তাকে তাড়া করতে পারে। বদ্ধ পাগল। কিন্তু আসতে পারল না। রাধাকে ছুটতে দেখে আবার তার মূর্ত্তি বদলে গেল, হাঁসতে লাগল হি হি করে। সেই দেখে অন্য দিকে একটা মেয়ে জোরে জোরে হাততালি দিতে লাগলো। তিন চারজন এসে ঘিরে ধরলো রাধাকে। কেউ জামা টানছে, তো কেউ চুল, তারা যেন কোন নতুন খেলনা পেয়েছে খেলবার জন্য। একজনকে ঝটকা দিয়ে ছাড়াতেই সে দিল ওর হাতে কামড়। ভীষণ জোরে চিৎকার করে রাধা ছুটে পালতে লাগল, বারান্দার অপরপ্রান্তে। সেখানে দুজন খুব মোটাসোটা লম্বা চওড়া পুরুষালী চেহারার মহিলা ঝাড়ু লাগাচ্ছিলেন, তারা চেপে ধরলেন রাধাকে। সে জোরে জোরে বলল “আমাকে তোমরা ছেড়ে দাও, আমি পাগল নই গো।”
কিন্তু কে তার কথা শোনে ! এবার গেটের দিকে পালাবার জন্য ওদের থেকে ছাড়া পেতে হাত পা ছুড়তে লাগল সে, বন্দিদশা ঘোচাতে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে গেল তার। অন্য দিক থেকে খুব দ্রুত পায়ে এগিয়ে এলেন এক মধ্যবয়সী সুন্দরী মহিলা – জড়িয়ে ধরলেন রাধাকে, – “শান্ত হো যা বিটিয়া, দেখ ম্যায় তেরী মা হুঁ।”
তাঁর বড় বড় করুনা মাখা চোখ, নরম হাতের ছোঁয়ায় কোন জাদু ছিল হয়ত, রাধা তাঁর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল, – “মা মা মা আমি বাড়ি যাব।” হটাৎ একজন নার্স তাকে একটা ইনজেকশন দিল, ধীরে ধীরে সারা শরীর অবশ হয়ে গেল তার, ওরা ধরে একটা ঘরে সুন্দর সাদা চাদর পাতা বিছানায় শুইয়ে দিল। ঘুমিয়ে পড়ল রাধা।
পরদিন সকালে যখন ঘুম ভাঙল মাথাটা ভার হওয়ায় অনেকক্ষণ চুপচাপ শুয়ে ভাবতে লাগল কেমন করে এখানে এসেছে সে। সেই সুন্দর মহিলা ডাক্তার আবার প্রবেশ করলেন, তাদের প্রেসার চেক করতে, তাঁর হাসিমুখ দেখে একটু যেন ভরসা পেল রাধা। তিনি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, ‘অব ঠিক হো বেটা, মেরী রাধারানী।” কালকের পাগলের কামড়ের জায়গাতে ওষুধ লাগিয়ে বললেন, – “শান্ত রহনা বেটা, কোই কুছ নেহী করেগা, উধার নেহী জানা, উধার বাগ মে যা, বহ ঔরৎ সব ঠিক হো গয়া, উন লোগো কে সাথ যাকে বৈঠনা। কোই তঙ্গ করে তো মুঝে বাতা দেনা, ম্যায় ফির আঁউঙ্গী।” সব কথা বোধগম্য না হলেও রাধা যেন ভীষণ শান্তি পেল।
একজন নার্স এসে তাকে দাঁত মাজার ব্রাশ, মাজন, তোয়ালে সব দিয়ে গেল। বড় বড় কেটলিতে চা নিয়ে এল একজন সঙ্গে বিস্কুট। বেশ আরাম বোধ করল সে, চায়ে চুমুক দিতে দিতে জানলা দিয়ে দেখতে পেল একজন পাগলিনীকে ধরে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে ভীষণ কাঁদছে ও চিৎকার করছে, কিন্তু প্রায় চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে চললো চারজন মেয়ে কর্মচারী। সে অনেক গালাগালিও দিচ্ছে, থুতু ছুঁড়ছে, দাঁত খিঁচাচ্ছে এবং একটা কথাতেই জোর দিচ্ছে – “No Shock, No Electric Shock Please, মুঝে শক নেহী দে না, ছোড় দো, ছোড় দো।” ভয়ে শরীরে কাঁটা দিল তার অবস্থা দেখে, চা টা পড়ে গেল হাত থেকে। কাপটা ভেঙ্গে গেল। এক্জন ম্যাডাম বকে উঠলেন, তেড়ে এলেন যেন মারবেন তাকে, – “ঠিক সে পকড় নেহী সকতি?” ঘাবড়ে গিয়ে খাট থেকে লাফিয়ে অন্য দিকে চলে গেল রাধা। “মেরো না, আমাকে মেরো না।” কান্না শুরু করে দিল সে, স্বামীর ও তার বন্ধুদের অত্যাচার ও মারগুলো মনে পড়ে গেল। এখানেও কি অমনি করে আবার মারামারি শুরু করবে এরাও। সেই নার্স আবার একটা ইনজেকশন নিয়ে এগিয়ে আসতেই ছুট লাগালো সে বাইরে, যেখানে বেশ ক’জন নির্বিকারভাবে বসে সোয়েটার বুনছে, সেলাই করছে, একজন আরেক জনের উকুন বেছে দিচ্ছে। তারা কেউ হল্লা করছে না দেখে ওদের মধ্যে গিয়ে বসে পড়ল সে। ইনজেকশন হাতে দিদিটিও এখানে এসে হাজির – রাধা বোঝাবার চেষ্টা করল যে সে পাগল নয়। কিন্তু ঐ মেয়েগুলিও তাকে চেপে ধরতেই প্যাঁট করে ছুঁচটা ফোটালো সেই ম্যাডাম। ওকে ওর কাটা ঘা টা দেখিয়ে বললেন, “ইয়ে টিটেনাস ইনজেকশন হ্যায় বেটা – ডাক্তার ম্যাডাম নে বোলা লাগানে কে লিয়ে, নেহী তো তেরা ঘা শুখেগা নেহী, সেপটিক হো জায়েগা।” সবটা বুঝতে না পারলেও একটু শান্ত হল সে এদের মধ্যে এসে।
পাগলের আড্ডায় ভীষণ অসহায় হয়ে বসে রইল রাধা। কিন্তু এখানে ওয়ার্ডার হরজিন্দর ম্যাডাম এলেই তার মন আনন্দে ভরে যায়। ওনার মুখ দেখলে, হাতের ছোঁয়া পেলে যেন জাদু হয়ে যায়। আজও তিনি এসেই রাধাকে কাছে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, – “খানা খায়া?” মাথা নাড়ল সে। “তকলিফ – কষ্ট তো নেহী হ্যায় পুত্তর?” সে কষ্ট কথাটা বুঝে আবার মাথা নাড়ল। অন্য দুটি পাগলিনী এসে হাত ধরে টানাটানি শুরু করতেই রাধা হরজিন্দর ম্যামের পেছনে গিয়ে লুকাতে চাইল। ম্যাডাম ঐ মেয়ে দুটিকে ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে বললেন একজন নার্স দিদিকে।
তারপর রাধার হাত ধরে স্টোর রুমে নিয়ে গেলেন তিনি। সেখানে অনেকে কাজ করছে, কেউ চাদর পাট করে রাখছে, কেউ ওষুধ পত্রগুলি ট্রেতে সাজাচ্ছে, কেউ তোয়ালে গুনছে। তাদের একজনকে ডেকে বললেন, – ‘ইসকো ভী কুছ কাম দো’। পাশের রুমে চায়ের কাপ ও জল খাবারের বাসন ধুচ্ছিল একজন কর্মী, ওনাকে নিজের পাঞ্জাবী ভাষায় জানালো যে, আজ বাসন মাজা ও মুছে মুছে তোলার কর্মচারী অনুপস্থিত আছে, ওই মেয়েটিকে ওর সাহায্য করতে পাঠাতে। ‘হরজিন্দর’ ম্যাম ওকে ইশারায় দেখালেন ওগুলি ধুয়ে মুছে তাকে কিভাবে সাজিয়ে রাখতে হবে। কাজ করতে রাধা ছোট থেকেই খুব উৎসাহী ও পটু। লেগে পড়লো আনন্দের সঙ্গে নিঃশব্দে।
এরপর নার্স দিদিদের পায়ে পায়ে ঘোরে সে, কখন কাকে সহায়তা করবে, কিভাবে অসুস্থ পাগল মেয়েগুলির কাপড় বদলে দেবে, চুল আঁচড়ে দেবে, বিছানার চাদর পাল্টাতে হবে – সবসময় সে নিজেকে ব্যস্ত রাখে। এক মাস যেতেই দেখা গেল, রাধা সকলের প্রিয় হয়ে উঠেছে। মুখে তার কথা নেই। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে ভীষণ লক্ষ্য। স্বাভাবিক ভাবেই এইরকম একটি মেয়ে যে এখানে সকলের চোখের মণি হয়ে উঠবে এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। এতো সুন্দর ভাবে নিয়মমত সময়ে খাওয়া দাওয়া, স্নানের জল, নরম তোয়ালে পাওয়া, পরিষ্কার ইউনিফর্ম পরার সৌভাগ্য তার বাড়িতে কখনও হয়নি। সেই চুলায় কাঠ বা ঘুটে জ্বেলে কোনরকমে একটু ভাত, একটু শাক কখনও গামছা দিয়ে ধরে পুঁটি মাছের ঝোল, শামুক গুগলীর তরকারী খেতো তারা। স্বামীর ঘরে মোটা মোটা রুটি বানাতো আর পেঁয়াজ চিবিয়ে রুটি খাওয়া। এখানে এতো সুন্দর ব্যবস্থা, শুধু স্বাধীনতা নেই আর সঙ্গী সাথীদের মানসিক বিপর্যয় অসহায়তায় মনটা ভারাক্রান্ত থাকায় মাঝে মাঝে ভীষণ বিষন্নতায় ভোগে, রাত্রে ঘুম হয় না, কারো চিৎকার, বুক ভাঙ্গা কান্নার আওয়াজ শুনতে শুনতে মনে হয় দেওয়াল ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। কিন্তু কোথায়? কার কাছে যাবে সে? বাইরের জগৎটা তো আরও ভয়াবহ।
ধীরে ধীরে সাত বছর পার হয়ে গেল। এখন রাধা এদের কথা বুঝতে পারে। সকালের জল খাবারে পুরী ছোলে বা আলুর পরোটার স্বাদ তার ভীষণ ভালো লাগে। দুপুরের রাজমা চাওল, রায়তা ইত্যাদি খেতে খেতে একেবারে পাঞ্জাবী মেয়েদের মতন আনন্দ করে রাধা। রাত্রে ভিন্ডি, তরী, লাউয়ের তরকারী, তড়কা ডালের গন্ধে তার মন খুশীতে ভরে যায়। এখানের রুটিনে সে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।
একদিন সেখানে একদল সমাজসেবী সংস্থার দল এলেন, মেন্টাল হাসপাতাল পরিদর্শন করতে এবং তাদের case study নিয়ে আলোচনা করতে। তাঁদের দলে ছিলেন একজন বাঙালী মনোবিজ্ঞানী। হরজিন্দর ম্যাডাম অন্যান্য ওয়ার্ডার দের সঙ্গে তাদের নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন মহিলার কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ করাচ্ছেন। এরা এখানে কত আনন্দে আছে বোঝাবার জন্য সবাইকে গোল করে বসিয়ে গান বাজনা নাচ করতে উৎসাহ দিলেন।
রাধাকে ডাকতেই সে এসে বাংলায় গান শুরু করলো। “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে”। সবাই খুব হাততালি দিল। ওকে তখন ওই বাঙালী দিদি কাছে ডেকে আদর করে তার বাড়ির ঠিকানা, খবর জানতে চাইলেন। বললেন খোঁজ নিয়ে তাকে একদিন তার বাড়ি পৌঁছে দিতে ইচ্ছুক তিনি। কিন্তু রাধা খুব একটা উৎসাহ দেখালো না। কারন নিজের বাপের বাড়ি থেকে সে পালিয়ে গিয়েছিল, তাই সেখানে ফিরে যাওয়ার তার মুখ নেই। আর পাটনায় স্বামীর কাছে তো সে কিছুতেই যেতে রাজী নয়।
এখানে যাঁদের বাড়ির লোকেরা পাগল রুগীকে রেখে যায়, তাঁরা ভাল হয়ে যাওয়া মা বোন বা স্ত্রীকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যেতে অনুরোধ করে, এখানের কর্তৃপক্ষ। কয়েকদিন আগে কমলা দেবীকে পাঠিয়ে দেওয়া হল, তাঁর পুত্রের বাড়ি কিন্তু কেউ তাকে উপযুক্ত সম্মান ও আদরে গ্রহণ করলো না। সবসময় তাঁকে শুনতে হত, আরে পাগলীকে কি জিজ্ঞেস করছো, – ওকে এসব কাজের ভার দিও না, বাচ্চা কে কোলে দিও না, ও ফেলে দেবে ইত্যাদি। ধীরে ধীরে সে বিষণ্ণ হয়ে গেল, তার মানসিক ব্যাধি আগের মতই দেখা দিল, আর এই হাসপাতালে আবার আসতে বাধ্য করল তাকে।
তাঁকে ফিরে পেয়ে পুরানো বন্ধুদের সবাইকার কী আনন্দ! এই পাগলখানায় মানসিক ভারসাম্য হারানো মানুষগুলি সবাই কিন্তু নিজেদের সত্তা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেনি, একজন আরেকজনকে চুল আঁচড়ে দেয়, পাজামার দড়ি বেঁধে দেয়, বেশী অসুস্থ থাকলে বিছানায় গিয়ে খাবার খাইয়ে আসে। যারা বিষন্নতায় ভোগে, বিমর্ষ থাকে ‘হরজিন্দর ম্যাম’ তাদের মুড ভালো করার জন্য গান বাজনা করান, যারা একটু ভালো হয়ে গেছে এবং হৈ হুল্লোড় করতে ভালোবাসে তাদের দিয়ে। রাধা নিজের মনে গুন গুন করে সব সময় গান গায়, তাই তাকে মোবাইলে গান চালিয়ে নাচতে বলেন তিনি। সবাই হাততালি দেয়।
প্রত্যেক আবাসিক (inmate) দের বাড়ির লোকের খোঁজ করে একটি সরকারী বিভাগ থেকে। রাধার জন্যও ওই বাঙালী দিদিমনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার বাসন্তীতে পুলিশের ‘খোঁজ’ বিভাগের লোক পাঠালেন, কিন্তু তার জামাইবাবু বলে দিলেন, ওই পলাতকা মেয়ের ওপর তাদের কারো কোন দুঃখ দরদ বা সহানুভূতি নেই, তার বাবা মারা গেছেন, ভাইরাও কলকাতায় অন্যের বাড়ি চাকরের কাজ করে, কাজেই কেউ তার ভার নিতে অসমর্থ। এবার পাটনার ঐ অঞ্চলে গিয়ে বিভিন্ন ফ্যাক্টরীতে রাধার ছবি দেখিয়ে তার স্বামী দাশরথীর খোঁজ পাওয়া গেল। তাকে যখন বলা হল যে, – ‘রাধা অমৃতসরের মহিলা পাগলখানায় আছে এবং এখন সম্পূর্ণ সুস্থ, তখন সে খুব আগ্রহ দেখালো, তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য। নির্দিষ্ট দিনে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে এসে হাজির হল সেখানে।
রাধাকে বলতেই সে যেন চমকে উঠল। কিন্তু মনের কোন একটা আশার আলোও জ্বলে উঠল, সে হারিয়ে যাওয়াতে দাশথীর মনে নিশ্চয় অনুতাপ হয়েছে, এবং তার প্রতি এখনও কিছু ভালোবাসা জমে আছে তার মনের কোনায়। বুকটা কেমন কেঁপে উঠল তার, মেয়ে মানুষের এই দুর্বলতা কেন যে ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন কে জানে। এই সাত বছরে সে অনেক পরিণত হয়ে গেছে। হিন্দি – পাঞ্জাবী ভাষাও ভালোই বুঝতে পারে যদিও দরকার না হলে নিজের মুখ খোলে না। নার্স দিদি ওয়ার্ডার ম্যামের পায়ে পায়ে ঘুরতে, হাতে হাতে কাজ করতে তার সময়টা খুব ভালোই কাটে। আগে ঘুমের ওষুধ দিত তাকে, এখন সারাদিন ঘোরাঘুরি কাজ করায় শুলেই নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে সে।
সেদিন সকালে তাকে হরজিন্দর ম্যাম অফিসে নিয়ে এলেন। দাশরথীর হাতে সঁপে দেওয়া হল রাধাকে, সমস্ত কাগজ পত্রে সই করিয়ে নিয়ে। সেখানে লেডী ডাক্তার তাকে আর একবার পরীক্ষা করে যেতে দিতে অনুমতি দিলেন। হরজিন্দর ম্যাম কানে কানে বলে দিলেন, – “কোই তাকলীফ হো তো মুঝে ফোন কর না, নাম্বার তেরী ব্যাগ মে লিখকর রাখ দিয়া ম্যায় নে।” অনেকদিন পরে যেন জেলখানা থেকে ছাড়া পেয়ে রাধার ভীষণ কান্না পেল, আনন্দে না দুঃখে কেউ বুঝতে পারলো না।
একটা ট্যাক্সিতে বসিয়ে ওকে নিয়ে যেতে যেতে দুই বন্ধু কথা শুরু করল। যার মানে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল না রাধার –
খুব সুন্দর ভরা যৌবন এসেছে মেয়েটির। দাশরথী তুই খুবই ভাগ্যশালী যে এরকম বৌকে ফিরে পেলি। এবার টাকা নিয়ে কথা চলল। দরাদরি শুরু হল। দিল্লীর বাজারে Red Light এর দেহ ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিলে কত টাকা পাওয়া যাবে তার হিসেবে নিকেশ করতে লাগল তারা। দেখতে দেখতে অমৃতসর স্টেশন এসে গেল। স্টেশনের প্লাটফর্মে টিকিট কাটছে তার বন্ধু, দাশরথী রাধাকে দেখছে আর তার বিশ্রী পান খাওয়া দাঁত বের করে হাঁসছে। ট্রেন এসে গেল – ট্রেনে তারা ওঠার মুহূর্তেই ঠিক আগের মতোই চিৎকার ও বিকট জোরে কান্না শুরু করে দিল রাধা। কেউ তার হাত ধরতে এলেই মারপিট, থুতু ছোঁড়া, চুল ছেঁড়া, মাটিতে আছাড় খাওয়ার পুরোরাবৃত্তি হল, আবার সাত বছর পরে। সঙ্গে লেডী পুলিশ চারজন মিলে চেপে ধরে তাদের গাড়িতে তুলে সোজা পাগল খানায়।
হরজিন্দর ম্যাম ছুটে এলেন, সঙ্গে ডাক্তার, নার্স ও ওয়ার্ডারদের দল। ইনজেকশন নিয়ে ফোঁটাতে এলেন তাকে শান্ত করতে। রাধা তাড়াতাড়ি চোখ মুছে বলল, “ম্যাম, ম্যায় বিলকুল ঠিক হুঁ।” মানসিক হাসপাতালের কর্মচারী, ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডার, রাঁধুনী, জমাদারনী কারো বুঝতে বাকী রইল না যে সে ঐ স্টেশনে পাগলের অভিনয় করেছে, এখানে ফিরে আসবার জন্য। আনন্দের জোয়ার এসে গেল সেখানে।
প্রথমেই হরজিন্দর ম্যাম জড়িয়ে ধরলেন রাধাকে। নিরাপত্তার অভাবে বাইরের জগতের নিষ্ঠূরতা মেয়েটিকে যে এখানে নিরাপদ আশ্রয় দিতে পেরেছে, সেটা ভেবে চোখে জল এসে গেল তার। পাগলের জেলখানায় এসেও যদি কেউ শান্তিতে আনন্দে সরকারের দেওয়া খাবার খেয়ে, কাপড় পরে, অসুখে বিসুখে ওষুধ পত্র সেবন করে – কাজকর্মে সেবার মধ্যে জীবন কাটাতে চায়, তাহলে ক্ষতি কি? ফাইলে তার নাম পাগলের সঙ্গে নথিবদ্ধ হোক না কেন, কার তাতে কি এসে যায় !
রাধা আবার স্টোরে ঢুকলো তার পাগলের উনিফর্মটি পরে নতুন ওয়ার্ডার ম্যামদের সঙ্গে সাদা বিছানার চাদর ও কম্বলগুলি সাজাতে লাগল টেবিলের ওপরে গান গাইতে গাইতে –
যদি সবাই ফিরে যায়/ওরে ওরে ও অভাগা কেউ ফিরে না চায়,/তবে পথের কাঁটা . . . . আপন . . . গানের কলিগুলো খেই হারিয়ে ফেললো। আনন্দের অশ্রু বন্যায় ভেসে গিয়ে।