চন্দনা সেনগুপ্ত
তুমি আমার জীবন সঙ্গী শৈশব হতে বন্ধু তোমার শুভ্র চিকন শরীরে - রয়েছে প্রেমের সিন্ধু। প্রথম যখন মাড়িতে আমার বেরুল, দুইটি দাঁত, তখন থেকেই তোমার সামনে পেতে ছিলাম হাত। কুট কুট করে খেতাম তোমায় দিতে দিতে হামাগুড়ি l বাল্য বয়সে নারকেল কোরা চিনি গুড় মাখা মুড়ি, ভাবলে তোমার সে স্বাদের কথা জিভে দেয় সুড়সুড়ি। ছোলা ভাজা আর মোটর সেদ্দ শশা, লঙ্কার ঝুড়ি, মুড়ি দিয়ে জল খাবারে কখনো বাড়ে না কারোর ভুঁড়ি, পেট রোগা ওই অফিসের বাবু তাই খান রোজ মুড়ি l পান্তা ভাতেতে সর্ষের তেল, লেবু চটকায় বুড়ি, মুড়ি মেখে নেয়, স্বাদ করে খায় পিসি, মাসী, দিদা, খুড়ি। অম্বল জ্বরে মুড়ি খেলে পরে রোগ যায় সেরে সত্য। মুড়ি গুঁড়ো দিয়ে চপ ভাজা হয়, দোকানি বানায় নিত্য। মুম্বাইবাসী করে ভেলপুরি মেশায় তাহাতে বেসনের ঝুরি তার মধ্যেও প্রধান দ্রব্য আমি জানি, তুমি মুড়ি। গুড়ের মধ্যে পাক দিয়ে করে মুড়ি মোয়া, শত কুড়ি, নদী ধারে বসে খুকী খায় হেসে. হাতে তার লাল চুড়ি। ট্রেনের কামরা সরব হয় যে ছেলে বেচে ঝালমুড়ি 'যাত্রীরা' সব কেনে আনন্দে, খান দাদু, ছোঁড়া-ছুঁড়ি। বাঙালীরা আজ তব অবদানের খুঁজে নাহি পায় জুড়ি, পাস্তা, পিজ্জা, নুডুলস পেলেও মুড়ি খায় দিয়ে তুড়ি। ঘুঘনি ও মুড়ি বিক্রী করে যে পায় ভালো টাকাকড়ি জয় জয় গায়, মুখ ভরে খায় আহারে আমার মুড়ি।