চন্দনা সেনগুপ্ত
হে ঈশ্বর! তোমার সৃষ্ট আমাদের মানব দেহ, এক বিশাল, জটিল যন্ত্র। তুমি যে কী ভাবে, কী উদ্দেশ্যে বানালে, - কারো জানা নেই। কিন্তু কত রকম উপায়ে তুমি সতত এর রক্ষনাবেক্ষন করে চলেছো স্বতন্ত্র। তার কোন তুলনা হয় না। অপূর্ব তোমার গরিমা ,তাই এই পৃথিবীর দেহধারী প্রাণীদের তুমি পাহারা দিযে চলেছো অতন্দ্র। এতোটুকু ময়লা জমতে পায়না সেখানে। খাদ্যবস্তুর নির্যাস টেনে নিয়ে বানাও সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, লাল তরল রক্ত - তাই কর্ম করে চলেছো, অহরহ, দিবারাত্র। সব আবর্জনা শরীর হতে আপনা আপনি বের করার জন্য বানিয়ে দিলে শত শত দ্বার দেহের সর্বত্র। কখনো ঘাম, শ্বেদ বিন্দু ঝরে পড়ে লোমকূপের মধ্যে দিয়ে যত্র তত্র। ব্যবস্থা তোমার অতি সুন্দর, সুনির্দিষ্ট। ক্লেদাক্ত জল, আগ্রহন যোগ্য বস্তু বাহির হয় অন্য দুই পথে যত ময়লা মলমূত্র। হে ভগবান ! মনের অভ্যন্তরে জমিয়ে রাখা অখাদ্য পশুত্বের বীজ, মানব যে জমিয়ে রাখে, লুকিয়ে রাখে স্তরে স্তরে, গোপন কোন গহবরে ! সেগুলি বহিষ্কারের উপায় নেই কি কোনো? তখন কেন শোনে না সে তোমার দেওয়া কোনই সুমন্ত্র? ধর্মের নামে হানাহানি, হত্যার লীলা খেলায় মত্ত, মস্তিষ্কে জল্পনা কল্পনা করে সর্বদা অহরাত্র। তাহার বিহিত হয় না কেন বলো? নারীর শরীরের প্রতি কামনাতুর লোলুপ দৃষ্টিতে তারা দূষিত অপবিত্র। সেই সমস্ত নোংরা কদর্য ভাবনা - কেন হয় না দেহের মলমূত্রের মত অনায়াসে নিষ্কাষিত? যখন কোন নিধনের -ধ্বংসের বা অত্যাচারের বীজ বপন হয় কারো মনে - তখনই কেন অন্যায় কার্যকরী করার পূর্বেই তুমি করে দাও না তারে , বর্জ্য শুকনো পত্র। হে ঠাকুর ! এসো, - রচনা করো, অভিনব তব কৌশল তন্ত্র। তোমার নতুন নিয়মে নিষ্ঠূরতার হোক বিনাশ; প্রতিজ্ঞা করেছিলে, তুমি মনে করে দেখো, "সম্ভবামী যুগে যুগে" - অতএব বিনীত মিনতি এই শোনো - নিয়ে এসো, অভিনব আর এক অবতার, শুনাও নব জাগরনের বানী, নিযে এসো, নতুন উদ্ধার সূত্র।