(ঠাকুর ভগবান শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কে)

চন্দনা সেনগুপ্ত

ঠাকুর!

তোমার চোখের দিকে চাই বারে বারে।

পাই যদি দেখিবারে, সেই সমাহিত - দৃষ্টি।

যার মধ্য দিয়ে করে চলো তুমি

ভক্তকে কৃপা বৃষ্টি।

একটি আঁখির পলক পড়ে না,

আমার হৃদয় ঝাঁকে,

 দীপ্ত আলোকে দূর করে দেয় -

মনের অন্ধকার কে।

জমা যত ভয়, করে দেয় ক্ষয়

উজ্জ্বল করে রাখে।

প্রচন্ড তার উত্তাপ এসে

অন্তরগ্লানি মেলায় ভস্যে

শুদ্ধ করিতে থাকে।

আর এক নয়ন সদাই মগন,

ডুবে আছে সমাধিতে,

আধো খোলা আর আধো আধো বোঁজা,

লীন হয়ে আপনাতে।

তোমার চরণে মিনতী আমার -

মতি থাকে তব পথে,

দাঁড়াও জীবন পথে, রোহো যেন মম সাথে।

অন্তিম ক্ষণে দেখা যেন পাই. -

কাঁদি আমি দিন রাতে,

তব নয়নের সম্মুখে মোর

আনন্দে মন মাতে।

শত কর্মেও ভুলিও না কভু হে, -

নাম জপে শুধু স্মরি,

হৃদয় মধ্যে পদ শতদল,

জীবনে যে সুখ ভরি।

কাম, ক্রোধ, লোভ সকল ছাড়িয়া 

তোমারেই থাকি ধরি।

শ্রীরামকৃষ্ণ ক্ষমো অবগুণ

অপরাধ মোর হরি।

দুই আঁখি হতে ঝরে কৃপা বারি

সদা প্রমান পাই।

জগতের মাঝে ঘুরি নানা কাজে -

তোমাকেই শুধু চাই।

জীবে প্রেম আর সেবার মন্ত্রে 

আপনারে তাই জাগাই।

তুমি খুশী হলে জন্ম ধন্য

আর তো চিন্তা নাই।

বারে বারে যদি যেতে চাই দূরে -

ছেড়ো নাহে তুমি মোরে,

'বেড়াল ছানার' মত ধরে থেকো 

ভীষণ শক্ত করে।

তুমি তো আমার পিতা, গুরু, সখা

ভার দেবো তোমা পরে

হে ঠাকুর, আমি অধম অবুঝ 

ভালোবেসো দয়া করে।

কাঁদি সদা তব তরে।

Leave a comment