চন্দনা সেনগুপ্ত

দিনের সূর্য প্রদীপ্ত, রাতের তারারা
করে ঝিকিমিকি।
"ঊনপঞ্চাশ"(৪৯) টি বৎসর হল পার, -
তোমাদের জীবন আধার চমৎকার,
মন হল বিস্মিত, উঠিলো চমকি !
এ কী !
এখনও পৃথিবীর প্রতি এতো মায়া -
এতো টান, অকারণ আকর্ষণ,
এখনও যখন তখন দপ দপ করে,
জ্বলে আর নেবে আলেয়া -
হঠাৎ হঠাৎ অন্ধকারে দেখতে পাও -
"ইচ্ছে-জোনাকি"।
স্বামীর স্নেহ, - সন্তানের শ্রদ্ধা -
বন্ধু স্বজনের ভালোবাসায়
বড় মোহময় - স্নিগ্ধ বাতাবরণ, -
আকাশ, বাতাস, ফুল, পাখী -
নিকট দূরের বন্ধু স্বজন সবাই করে -
ডাকাডাকি।
কোথাও নেই,- অসম্পূর্ণতা অতৃপ্তি,
সবই তো সুন্দর।
মায়ার জগতে তারা আজ কেমন - শক্ত হাতে
রয়েছে আঁকড়ি, আমরাও -
আকুল আবেগে যে যেমন তাকে, -
সব প্রতিবেশী - ছদ্মবেশী -
আসল, নকল - প্রত্যেক মানুষকেই
আপন করে ধরে - থাকি।
তবুও সব কিছুর মাঝে কি যেন
ব্যাথা বাজে !
প্রিয়জন হারানোর দুঃখ জমাট করে
ওরে, জমিয়ে রাখি -
চিন চিন করে বেদনার তারে, বারেবারে -
মৃদু ঝংকারে কে গান ধরে -?
টন-টনে কষ্ট হৃদয়ের তলা থেকে উঠে আসে
ঠিক বুকের মাঝে -
কান্নার বাঁধ এবার অকস্মাৎ -
ভাঙবে নাকি !
হতাশার পরশ, বার্ধক্যের অলস অবশ -
ভাবের ছোয়ায় - অন্তরে বিষাদ ভরে,
বিদায় - বিচ্ছেদের প্রস্তুতি চলে, -
সন্ধ্যার মেঘমালা দলে দলে -
দিগন্তে যায় ঢলে, -
বিয়ের পরদিনে - কনে শ্বশুরবাড়ি
যাবার সময় যেমন পিছন পানে চেয়ে -
একবার থমকে দাঁড়ায় - সুর শুনে -
সানাই এ ঠিক সেই মোচড় দেওয়া
ধূন টা বাজলো কি?
কি জানি কেন এখনও -
চাওয়া পাওয়ার দোলনা দোলায় -
প্রাণ কেন যে নিত্য ভোলায় !
একটুখানি মিষ্টি কথায়,
একটুখানি স্নিগ্ধ চোখের চাওয়ায় -
হই - সুখী।
অল্পেতে মন বিগলিত, -
আবেগের বশে বসে বসে - স্মৃতির পর্দা যবে তুলি,
দেখি কত পরিচিত মুখ - দেয় উঁকি।
প্রায় অর্ধ শতাব্দী আগে, -
দুইটি তরুণ তরুণী -
বসেছিল একাসনে, সাজানো সিংহাসনে,
সুসজ্জিত গৃহের আঙ্গনে তুলেছিল আলোড়ন,
এঁকেছিল স্বপ্নের আল্পনা
নানা রঙের কত আঁকি বুকি।
তাদের একত্রে বেঁধেছিল এক দৃঢ় বন্ধনে, -
উল্লসিত নতুন জীবনে।
তারপর থেকে প্রতিবার আসে -
আনন্দ অভিলাষে -
বিবাহ-বার্ষিকী। -
জানাতে চায় কতটা অটুট তাদের প্রেম।
বোঝাতে চায়, - 'নদীর স্রোতের প্রায়
সময় চলিয়া যায়' -
কেন করো এখনও হায়।
খুনসুটি, ঝগড়া বিরোধ কোষাকোষি
চেঁচামেচি, হাঁকাহাঁকি?
এতোদিন যখন সহ্য করে নিলে
একে অপরের দোষ ত্রুটি -
ছেড়ে দাও এবার সকল মান-অপমান
ছলনা - অভিমানের নকল -
মিথ্যে বুজরুকি।
অপার শান্তিতে কেটে যাক - আরও ক'টা দিন।
এ জীবনে যতটুকু রস আছে -
এখনও বাকি, -
আস্বাদন করে নাও, নিজেদের
দিও নাকো ফাঁকি।
এসো এখন শুধু - ঈশ্বরকে একসঙ্গে স্মরণ করি -
দুজন দুজনের হাত ধরি - প্রভু কে ডাকি, -
"আমারে তুমি অশেষ করেছো" - এ কথা জানিয়ে
জীবন - দেবতাকে যেন নমন করতে থাকি।