চন্দনা সেনগুপ্ত

কোভিড-১৯ সারা বছর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে,
হয়ত ছিল ঘুমন্ত কিছুক্ষন।
যে কোন সময়েই আবার করতে পারে
পেছন হতে সে কাউকে আক্রমণ;
কেউ তো করে নি এই নাগরিক কে সে বিষয়ে
সতর্ক বা সচেতন !
রাজনীতিবিদদের - ক্ষমতা - লিপ্সা -
শিল্পপতি ব্যবসাদারের অর্থ পিপাসা,
ভুলিয়ে রেখেছিল মিথ্যা স্তোকে কিছুক্ষন।
'মাস্ক' না পরে আবার নির্ভয়ে পথে বেড়িয়েছেন,
সাহসী অবোধ জনসাধারণ।
আহম্মক - নির্বোধের অদূরদর্শিতা, না
অযোগ্য রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসন?
ভুল করে চলল একের পরে এক যখন তখন;
সাবধানতার বদলে তারা শুনিয়ে গেল
বৃথা অহমিকার আস্ফালন।
বিশ্বের সমস্ত বিজ্ঞানী ডাক্তার, যে যেখানে ছিলেন
জগতের শ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
হলেন হতবাক বিস্মিত
সাবধান করতে চাইলেন, যত মনীষী বিচক্ষণ।
হাসপাতালে হাসপাতালে আবার রুগীর ভিড়,
শয্যা নেই, ওষুধ নেই, নেই কোন ভ্যাকসিন।



নার্স ডাক্তার সবাই খাচ্ছেন হিমসিম,
প্রাণহীন দেহ হল শীতল,
অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর কবলিত
শরীর নিথর হিম।
হাজার হাজার মানুষের মৃতদেহে
ঢেকে গেল শ্মশানের ভূমি,
প্রিয়জনের ক্রন্দনে, আর্তনাদে
ফেটে গেল ভারতের সকল প্রদেশের
রক্তাক্ত জমি।
কে এর জন্যে দায়ী?
কিছু মানুষের দায়িত্ব জ্ঞানের অভাব !
মৃত্যু নিয়েও কারচুপি, কালোবাজারির দল -
উঠিয়ে নিল লাভ।
রাজা প্রজা সবাই কিন্তু পাবে একদিন সাজা !
যারা দলে দলে করেছিল ভোটের র়্যালি,
তারা আজ ডেকে আনলো বিপর্যয় -
কোভিড এর পায়ে দিল অকারণে -
শত শত নিরীহ মানুষের নরবলি।
দেশের এই চরম দুর্দিনেও শিক্ষা হল না কারও।
ঈশ্বর আরাধনার মুখোশ পরে যারা ধর্মের
নামে  অপপ্রচার করে ,- অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে বাহবা দিয়ে
মঠ মন্দিরে ধ্বজা ওড়ায়, মন্ত্র উচ্চারণ করে উচ্চস্বরে -
তারা নামলো শাহী স্নানের নামে, -
হরিদ্বারের গঙ্গা জলে, হাজারে হাজারে
পুন্য় লাভের  তরে !