চন্দনা সেনগুপ্ত

মলিনাদেবীর ছোট ছেলের বিয়ে, আত্মীয় স্বজনে বাড়ি ভরে গেছে, বিরাট ধুমধাম। কাঠের বড় সিন্দুক থেকে পিতলের সব পুরোনো আমলের পিলসুজ, প্রদীপ, তামার কোষাকুষি বের হয়েছে। সেগুলি তেঁতুল দিয়ে ঘষে মেজে পরিষ্কার করা হচ্ছে। নান্দীমুখ, পৈতে তে ভট্টাচার্য্য মশাই নারায়ণ আনবেন। দশকর্মা ভান্ডার থেকে নানারকম সামগ্রী আনা হয়েছে। আর সেগুলি প্যাকেট খুলে সুন্দর করে থালায় সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘মলিনাদেবীর’ পিসতুতো জা ‘রমাকে’। বাঁকুড়া শহরের পাশেই রাজগ্রাম থেকে যে কোন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানেই তিনি এসে কোমর কোষে কাজে লেগে যান, বিন্দুমাত্র বিরক্তি প্রকাশ না করে। পৈতের পর আইবুড়ো ভাত, গায়ে হলুদ, বিয়ে এবং বিয়েতে কখন কি দরকার লাগে, সব তাঁর নখদর্পনে। বরণ ডালায় কি কি জিনিষ সাজাতে হবে কতগুলি পান সুপারী লাগবে, পিঁড়ি গুলোয় কেমন নক্সা আঁকা হবে, পুরুতমশাইয়ের কাছে কখন মধু, ঘি, দুধ, দই, গোমূত্র, কলা বা হোমের কাঠ, ইঁট সব গুছিয়ে রাখতে হবে, – এ সব ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত পারদর্শী।

মলিনাদেবীর বড় ছেলের ও মেয়ের বিয়েতেও ‘রমা’ এসেই পায়েস রান্না থেকে বিয়ের যাবতীয় খুঁটিনাটি কাজে তাঁকে সাহায্য করেছেন। এই ছোট ছেলের বিয়েটা হয়ে গেলে এখন আর শুভ কাজ নেই তাঁর বাড়িতে। তাই এবার আয়োজন ও আড়ম্বর একটু বেশিই মনে হচ্ছে। মলিনাদেবীর বয়স হয়েছে, শরীরও ভারী হয়ে যাওয়ায় হাঁটু ব্যাথা ইত্যাদিতে কষ্ট পাচ্ছেন। তাই রমাকেই যত ঝামেলা সামলাতে হচ্ছে। বসে বসে পান খাচ্ছিলেন আর নিজের বোনেদের সঙ্গে গল্প করছিলেন মলিনাদেবী। হঠাৎ মনে হল, আরে বৌমা এলে এ বাড়ির রীতি অনুযায়ী বৌভাতের দিন যে ‘রূপোর থালায়’ খাবার দেওয়া হবে, সেটি তো বের করা হয়নি। কাঠের আলমারিতে তো নেই সেটি, তাহলে কোথায় রেখেছেন, তিনি। ডাকলেন রমাকে।

-“তোমার মনে আছে রমা সেই সাবেকী আমলের রূপোর বড় থালাটার কথা?”

– হ্যাঁ, যেটা মন্টির বিয়ের সময় ‘কোলগেট’ দিয়ে ঘষে নতুনের মতন করে দিয়েছিলাম, আমি? – ওটা তো এই পুজোর বাসনের সঙ্গে তোলা হয়নি, – আপনি আপনার গোদরেজ আলমারীর নীচের তাকে রাখিয়েছিলেন।

– ‘আলমারী তে?’ চলো তো দেখি। সত্যিই কাপড়ের নীচের থেকে বেরিয়ে এল সেই অপূর্ব কারুকার্য খচিত বিরাট বড় সুন্দর থালাটি। খুব খুশি হলেন মলিনা। ওটি হাতে নিয়ে বললেন, “বাঃ রমার স্মরণ শক্তি তো খুব তীক্ষ্ণ। ছয় বছর আগেকার কথা মনে রেখেছে।”

রমা মিষ্টি হাসি হেসে বললেন, “দিন আমাকে ভালো করে চকচকে করে আনি।”

মসৃন সুন্দর ফুলপাতা খোদাই করা ১০০ ভরি রূপোয় বানানো থালাটি হাতে করে মলিনাদেবী প্রতিবারের মতন এবারেও একটু ভাবুক হয়ে পড়লেন।

রমা যদিও এই দুষ্প্রাপ্য অমূল্য থালার ইতিহাস জানেন তবুও আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে মলিনা তাঁকে ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজনকে বললেন –

এটি প্রায় দুশো বছর আগের তৈরী। আমার দিদিমা স্বর্গীয়া রাধারানী দেবীর বিয়েতে বর্ধমানের রাজবাড়ী থেকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। থালায় রাখাছিল আসল সোনার জরির কাজ করা শাড়ী, সিঁদুর কৌটো ও একটি চাবির গোছা। মা একমাত্র কন্যা হওয়ায় সেগুলি তাঁর কাছে আসে এবং মলিনাদেবীর ভাই লন্ডনে পড়তে গিয়ে আর ফেরত না আসায় তাঁর সিন্দুকেই স্থান পায় ঐসব রূপোর বাসন ও অন্যান্য দ্রব্য।

বৌভাতের দিন বিরাট এক শতরঞ্জির ওপর বসলেন বাড়ির মেয়েরা। রূপোর থালায় পঞ্চব্যঞ্জন সাজিয়ে বৌকে খেতে দেওয়া হল। পায়েস রাঁধলেন অন্য বারের মতন এবারেও রমা কাকীমা।

খাওয়া শেষ হলে বৌমাকে নিয়ে দেওর ননদেরা হাসি মস্করা করছে, ছবি তোলা হচ্ছে নানান কায়দায় এমন সময় বাইরে বেশ বড় বড় দুটি গাড়ি এসে দাঁড়ালো। কেউ একজন ভেতরে এসে চেঁচিয়ে বলে গেল – “ফুলশয্যার তত্ত্ব নিয়ে এসেছে বৌমার বাপের বাড়ি থেকে। সঙ্গে সঙ্গে হৈ হৈ করে ঢুকলো একদল ছেলে মেয়ে ফল ও ফুলের টুকরী নিয়ে। তাদের পেছনে লাইন দিয়ে নানান শৈল্পিক কুশলতায় বানানো অনেক রকমের দ্রব্য সামগ্রী। ট্রে তে করে নমস্কারীর শাড়ী, বরের শার্ট – প্যান্ট, পাঞ্জাবী – পাজামা, শাল ইত্যাদিতে ভরা চোখ ধাঁধানো সব সম্ভার।

মলিনাদেবী মধুকাকুকে ডেকে বললেন – “চাকর বাকরদের ডেকে তাড়াতাড়ি এই শতরঞ্জীটা উঠিয়ে ফেলো। চারজন মিলে ওটি গুটিয়ে নিয়ে আবার সেই কাঠের সিন্দুকে রাখতে নিয়ে গেল। মাটিতে মাছ, ফুল, মিষ্টি ফুলশয্যার তত্ত্বগুলি রেখে কনের বাড়ির লোকেরা ড্রয়িং রুমে গিয়ে বসলেন।

সন্ধ্যেবেলায় সবাই সাজ গোজ করতে ব্যস্ত মলিনাদেবী রমাকে ডেকে বললেন, – রমা রূপোর থালাটা ধুয়ে নিয়ে এসেছে কি খ্যান্তমনি? তাহলে ওটি এখন ঠাকুরঘরে রেখে ঘরটা চাবি দিয়ে দাও।”

রমা ঠাকুরঘরে রূপোর থালাটির খোঁজ করতে গিয়ে সেটি দেখতে পেলেন না। খ্যান্তমনি ঝি বললেন, – “বৌমনির খাওয়ার পর ওটা ধুয়ে এখানেই তো রেখে দিয়ে গেনু। গেল কোথা”?

রমা এবার ঘাবড়ে গেলেন। পার্টিতে যাওয়া মাথায় উঠলো তাঁর। তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখতে লাগলেন বারান্দায় – যেখানে বাসন মাজা হয় – পুজোর বাসন, তত্ত্বের ট্ৰে, ফুল সব সরিয়ে। কিন্তু কোথাও সেটির চিহ্ন নেই। চাকর বাকরেরা বলছেন – “দেখিনি তো। অতজন লোক তত্ত্ব নিয়ে ঢুকলেন হুড়মুড় করে – আমরা তো বাইরে পালালাম সবাই। কোন বিষয়ে হটাৎ উত্তেজিত হওয়া তাঁর স্বভাব নয়, তাই মনিলাদেবীকে ওই অতিথিদের মধ্যে গিয়ে কিছু না বলে কাজের লোকগুলির কাছে গেলেন। একে একে সবাইকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন। পুরোনো মাসী – খ্যান্তদিদি সবাই মিলে খোঁজা শুরু হল এদিকে ওদিকে – কাপড় চোপড় ফুলের ঝুড়ি খাটের তলা কিন্তু কোথাও তার হদিস মিললো না।

রমাকাকীমা দেখেছেন বৌমার খাওয়ার অনুষ্ঠানের পরে ওটি ধুয়ে আনা হয়েছে এবং এই শতরঞ্চির ওপরে যেখানে মেয়েরা বসে হাসি ঠাট্টা করছিল সেখানে রাখাও ছিল। তারপর হুড়মুড় করে মেয়ের বাড়ির লোকেরা এসে পড়ায় কেউ আর খেয়াল করেননি, রমাও ঠিক তখনিই ঠাকুরঘরে গিয়েছিলেন; ভট্টাচার্য মশাই নিজের থলি, গামছা, দক্ষিণার টাকা সব ভুলে ফেলে যাওয়াতে রমা সেগুলি নিয়ে বৃদ্ধ পন্ডিতমশাইকে দেওয়ার জন্যে ছুটেছিলেন গেটের দিকে। সেখানে দাঁড়িয়ে তাঁর সাথে কথা বলছিলেন পাঁচ মিনিটের জন্যে। পন্ডিতমশাই তাঁর ওপর খুব খুশী। প্রতিবারই রমা এতো সুন্দরভাবে সকলের অজান্তে কারো প্রশংসার অপেক্ষা না করে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে নিষ্ঠা ভরে সাহায্য করেন তা লক্ষ্য করে তিনি তাঁকে মন প্রাণ দিয়ে আশীর্বাদ করেন। আজও তাঁর থলি তুলে দিয়ে রমা দেবী তাঁকে প্রণাম করে ফিরে এলেন ঐ বড় ঘরে, তখন সেখানে বাসনপত্র বা শতরঞ্চি কিছুই ছিল না শুধু ফুল, ফল, মাছ ইত্যাদি – – – –  তাহলে ঐ সাবেকী কালের কারুকার্য খচিত “রূপোর থালাটি” গেল কোথায়? চিন্তা ভাবনায় অস্থির রইলেন তিনি।

বাড়ির সবাই বৌভাতের ভোজের অনুষ্ঠানে ব্যস্ত। হৈ চৈ আনন্দে নানা কোলাহলে, নাচ, গান, হাসি মস্করায় – আসর জমজমাট। শুধু রমা কাকীমা, খ্যান্তমাসী, বাসন মাজার বাউরী বৌ সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজে বেড়াচ্ছে, সেই রূপোর থালাটি।

পরের দিন সকালে কথাটা কানে গেল মলিনাদেবীর। চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় তুললেন তিনি। সব চাকর বাকর এবং আত্মীয় স্বজন তটস্থ। হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াতে সেই পুরোনো আমলের অমূল্য থালা। নতুন বউও ঘাবড়ে গিয়ে একদিকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। খ্যান্তমাসী তার ঘরে ঢুকে এবার ফুলের মালা সাজানো খাটের চারপাশে ঘুরে এলেন একবার যদি কেউ নিয়ে গিয়ে থাকে।

বাউরী বৌ কাঁদতে লাগল। রমাকাকীমা বললেন, ‘তুই কেঁদে মরছিস কেন? তোকে তো আমি এইখানে এনে রাখতে দেখেছি। তারপর তত্ত্ব এলো – – -‘।

একজন আত্মীয়া বলে উঠলেন যে ছোঁড়া গুলো ফুলের টুকরী, মাছ, ফলের ঝুড়ি এনেছিল তাদের কারো কাজ হতে পারে।

“ওরা সবাই তো বৌমার ভাই, বোন, বন্ধু ছিল। তারা তো ঐ সব জিনিষগুলি রাখার পর গিন্নিমা ওদের ড্রয়িং রুমে নিয়ে গিয়ে বসালেন, মিষ্টি, শরবত খাওয়ানো হল। যাওয়ার সময় সবাই তো খালি হাতেই চলে গেল”। – বললেন মধু কাকা, তিনি ওদের আপ্যায়নে নিযুক্ত ছিলেন।

“তাহলে কি অতবড় থালাটা কর্পূরের মতন উবে যাবে”? গিন্নিমার ধ্যৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। হটাৎ বললেন – মধু তুমি যাও তো পন্ডিতমশাইয়ের বাড়ি, যদি ওনার সঙ্গে চলে গেছে।

রমা কাকীমা বললেন – “না না ওনার কাছে যেও না, উনি তো নিজের গামছা ধুতি ফল গুলোও না নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন, আমিই তো ওনার থলেটা গেটে গিয়ে ওনার হাতে ধরালাম”।

মলিনাদেবী বললেন – “তুমি চুপকর রমা, যাক মধু একবার ওনার বাড়ি, বুড়োমানুষের ভীমরতি ধরতে পারে, সকালেও তো একবার বাড়ি গিয়েছিলেন”।

মধু কাকা তখুনি গাড়ি নিয়ে হাজির হলেন, ভট্টাচার্য্য মশাইয়ের বাড়ি।

পন্ডিতমশাই খুব শান্ত জ্ঞানী মানুষ। তিনি শুধু বললেন, – “সেকি কথা, ওটা তো শতরঞ্চি ওপরেই রাখা ছিল, কোথায় হারালো”?

– ভট্টাচার্য্য মশাইয়ের মুখরা স্ত্রী কিন্তু চুপ করে ঐ অপমানটা হজম করলেন না। তিনি মুখ ঝামটা দিয়ে বলে উঠলেন, – “পন্ডিতমশাইয়ের বাড়ি রূপোর থালা খুঁজতে এসেছেন? এতো বড় আস্পর্দ্ধা আপনাদের। বড় লোক বলে নিজেদের কি মনে করেন আপনারা? একজন সৎ ব্রাহ্মণ পূজারীকে এইভাবে অসম্মান করলেন, আর কোনোদিন কোন কাজে ওনাকে ডাকতে আসবেন না। অভদ্র ছোটোলোক সব”।

মধু কাকাও বুঝলেন মলিনা বৌদির কথায় এরকমভাবে চলে আসা তাঁর উচিত হয়নি।

আশ্চর্য্য রূপোর থালা হাওয়া। হটাৎ রমা কাকীমার দিকে নজর পড়ল ধনী বড় যা মলিনাদেবীর। যে ঘরে রমাদেবী নিজের স্যুটকেসটি রেখেছিলেন সেখানে ঢুকে ঐদিকে এগিয়ে গেলেন। তাঁর পেছনে পেছনে বাড়ি সুদ্ধ লোক। বললেন – “রমা স্যুটকেসটা খোলো তো একবার”।

রমা কাকীমা একেবারে হতভম্ব। তাঁকে যে কেউ সন্দেহ করতে পারে এ কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেন না তিনি। অঞ্চল থেকে স্যুটকেসের চাবিটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে তিনি বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে হন হন করে। মলিনাদেবী সেদিকে বিন্দুমাত্র গ্রাহ্য না করে খুললেন সেই স্যুটকেস। কাপড়-জামা সামান্য ছিল। ব্লাউজ, নিচের জামা, গায়ের চাদর সব ঘাঁটতে লাগলেন তিনি। রমা কাকীমা ততক্ষনে নিজের পরনের কাপড়টা একটু ঠিকঠাক করে, পায়ে চপ্পল গলিয়ে একেবারে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। পেছনে কে বা কারা তাকে ডাকছে সে দিকে কান না দিয়ে একটা অটো রিকশায় চেপে বসেছেন। লজ্জা, ঘেন্নায় বা রাগে দুঃখে নয় অদ্ভুত একটা জ্বালায় তাঁর সারা শরীর জ্বলছে। আর কোনদিন তিনি যে আগ্রহ করে বিয়ের কাজ করতে যাবেন না – সে বিষয়ে যেমন প্রতিজ্ঞা দৃঢ় হ’ল, তাঁর মনে তেমনি অভিমান হল ভগবানের ওপর। “ঠাকুর কী বিচার তোমার? যে তোমাকে ভালোবাসে বিয়ে, পৈতেতে মানুষের বাড়ি গিয়ে সাহায্য করে, শুভকার্য্যে পন্ডিতমশাইয়ের হাতে হাতে তোমার পূজোর ফুল সামগ্রী অর্চনার বস্তু এগিয়ে দিয়ে আনন্দ লাভ করে, তাঁকে আজ সবাইকার সামনে তুমি এতো ছোট করলে”! চোখ দিয়ে জল নয় যেন আগুন বেরুতে লাগল।

প্রায় দশ বছর পরে মলিনাদেবীর স্বামীর মৃত্যুর পর শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে আবার আত্মীয় স্বজনেরা উপস্থিত হয়েছেন সেই বাড়িতে। রমা দেবী, মধু কাকা ও পুরোনো ভট্টাচার্য্য মশাই সেখানে নেই। কাঠের সিন্দুক খুলে আবার তামা পিতলের বাসন বেরুলো এবং সেই শতরঞ্জিটি যা এই দশ বছর ধরে গোটানো ছিল সেটিকে খুলে ধুলো ঝেড়ে আবার পাতবার নির্দেশ দেওয়া হল। আর তখনি অবাক হয়ে সবাই দেখলো তারমধ্যে সেই রূপোর থালাটি এতদিন লুকিয়ে ছিল।

ফুলশয্যের তত্ত্ব আসায় না দেখে চাকর বাকরেরা ঐ শতরঞ্জিটি গোটানোর সময় “থালাটিও” ওর মধ্যে ঢুকে যায়।

“রূপোর থালা” খুঁজে পাওয়ার আনন্দে নাকি রমার মতন ভালো বোনকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলার জন্যে জানেন না – অনুশোচনায়, দুঃখে মলিনাদেবী ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন। সবাই ভাবলো স্বামীর শোকে বোধহয় কাঁদছেন তিনি।

Leave a comment