চন্দনা সেনগুপ্ত

স্বামী অক্ষয়ানন্দের প্রতি চন্দনা সেনগুপ্তের শ্রদ্ধাঞ্জলি

মহাপ্রয়াণ

হে মহাপ্রাণ, –

তব মহা প্রয়াণ, –

আমাদের মনে এনে দেয় , –

অসামান্য গভীর মূল্যদান।

জীবনভর করে গেছো তপস্যা –

চেয়েছো অপরের কল্যাণ,

সত্যাদর্শী, স্থিতপ্রজ্ঞ,

পেয়েছো সকলের সম্মান।

তোমার সাধন বার্তা করিতেছে –

ব্যাকুল আহ্বান,

মহামারী দেখাচ্ছে যে ভয়,

তবু অচঞ্চল, তোমার সন্তান।

আপন পুণ্যফলে, হরিপদে

দেবলোকে পেলে, তুমি স্থান l

দোষ ত্রুটী মার্জনা করে দিয়ে তুমি

কত দয়াবান – করিলে প্রমান।

মোহমুক্ত ছিলে চিরদিন, –

আত্মলীন, সাধক মহান।

এ জগতে, অবক্ষয়ের যুগে, রেখে গেলে তাই

গৃহ সন্যাসীর অনুপম অবদান।

শ্রীমৎ স্বামী অক্ষয়ানন্দের মহাপ্রয়াণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

চন্দনা সেনগুপ্ত

১৯৭১ এর পূর্বে যার নাম ছিল ‘পূর্ববঙ্গ’ সেখানে চট্টগ্রামের সুন্দর এক সুজলা সুফলা সবুজ গ্রাম “আনোয়ারায়” ১৯৩৪ সালের ১০ই নভেম্বর (বাংলা ২৪শে কার্ত্তিক, ১৩৪১) শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে ‘ধর’ পরিবারের চতুর্থ সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তার নাম রাখা হয় অক্ষয় কুমার। শৈশব কাল থেকেই তিনি ছিলেন উদার সরল সত্যবাদী, অদ্ভুত ধর্মগত প্রাণ। চার বছর বয়সে তার বাবা-মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের গুটি বসন্ত হয়। সেই সময় খুব ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল না। ধীরে ধীরে দুজনারই অবস্থা খুব খারাপ হতে থাকে। সব থেকে খারাপ হয়ে যায় মায়ের শরীর। তাঁকে কলাপাতায় শোয়াতে হত। কিছুদিন পরে মা সুস্থ হলেও বাবাকে হারাতে হল। এরপরে তাঁদের বাকি সব ভাইয়েরা সমস্ত বিষয় আশয় ভাগ করে নেয় এবং তাদের কে এক দিকে রেখে দেয়। তাদের মাথার উপর সে সময় দেখাশোনার করার মতন কেউ ছিল না। বড় দাদা আর কিছু না করতে পেরে লোকের দোকানে কাজ করতে শুরু করে দেন, ছোট ভাই বোনদের মানুষ করবার জন্য। ১৬ বছর বয়সে বড় ভাই বিয়ে করেন এবং সেই বিয়েতে যা পন পান, সেই টাকা দিয়ে নিজের ব্যবসা শুরু করেন।

অক্ষয় কুমার দেখতে দেখতে ১৪ বছরে পা রাখেন। একটা জিনিস সে লক্ষ্য করতো আর খুব কষ্ট পেত যে, তাদের লেখাপড়া শেখাতে গিয়ে দাদা ধীরে ধীরে সমস্ত চাষের জমি বিক্রি করে ফেলছেন। তাই তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন, যে আর দাদার উপরে বেশি চাপ দেওয়া যাবে না, নিজেকেই কিছু করতে হবে। তাঁর এক সমবয়সী ভাইপো ছিল, তাকে সাথে করে তিনি একদিন সমস্ত কিছু বিসর্জন দিয়ে চলে আসেন তৎকালীন ভারতে অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে। শিয়ালদহ স্টেশন এর প্লাটফর্ম হয় তাদের বাসস্থান। খুব ইচ্ছা ছিল ‘রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে’র ছাত্রাবাসে থেকে সে আরও পড়াশোনা করবে কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারে সমস্ত স্থান ভর্তি হয়ে গেছে, একটি মাত্র স্থান খালি থাকায় স্বার্থশূন্য কাকা অক্ষয় কুমার তার সেই ভাইপোকে সেখানে রেখে নিজে বেরিয়ে পড়েন – জীবিকার খোঁজে।

এসে পৌঁছান জামশেদপুরে, সেখানে তার গ্রামের পরিচিত এক দাদার সাথে তার দেখা হয়ে যায়। সেই দাদার সুপারিশের ফলে টাটা স্টিল প্লান্ট এ তাঁর চাকরী হয়। দাদার কাছেই থাকতে শুরু করেন, এবং সেই সময় ব্যাঙ্ক এর সুবিধা ছিল না। সেই দাদার কাছেই মাইনের টাকা থেকে নিজে অল্প খেয়ে, অল্প খরচ করে অত্যন্ত সাধারণ দারিদ্রতার মধ্যে কাটিয়ে বাড়ির পরিবারের জন্য তিল তিল করে জমাতেন। হটাৎ একদিন বাড়ি থেকে মায়ের অসুস্থতার খবর আসে, সেই সময় তিনি  সিদ্ধান্ত নেন, বাড়ি যাবেন, কিন্তু দাদার কাছে গচ্ছিত টাকা চাইতে গেলে, একেবারে হতবুদ্ধি করে দেন তিনি তাঁকে, কোন টাকা ফেরত দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। মানুষের নীচতায় বড় দুঃখ ও আঘাত লাগে তাঁর মনে। সেই দেশ থেকে চলে আসার এতো বছর পরে বাড়ি ফিরবে, কিন্তু খালি হাতে কিভাবে বাড়ি ফিরবে? ছোট ছোট ভাইপো ভাইঝি আছে, মা আছেন, কোনোরকমে ধার দেনা করে কিছু অর্থের ব্যবস্থা করে, দেশের বাড়ি রওনা হয়ে পড়েন। বাড়ি যেতেই মা তাঁর বিবাহ দেন, মনকে বন্ধনে বাঁধবার জন্য। কিন্তু তিনি ছিলেন চির উদাসীন, ঈশ্বরাভিমুখী নিরাসক্ত মানুষ। গৃহী সন্যাসীর মতন জীবন যাপনের সরলতায় নিজের নিকটজনও তাঁর প্রতি বিরক্ত হত। জটিল সংসারের নির্ভেজাল এইসব ভাল মানুষেরা  চিরটাকাল এমনিভাবেই সকলের অকারণ সমালোচনার পাত্র হন।

দেশ থেকে ফিরে এসে তিনি আর ঐ জামশেদপুরে ফিরে যাননি। সেই সময় দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট এর কোকোভ্যান-এ তখন শ্রমিক নেওয়া হচ্ছিল, সেখানেই তিনি ১৯৬০ সালে চাকরী পান। পরিশ্রমী সৎ কর্মীরূপে নাম, যশ ও উচ্চপদস্থ অফিসার এর স্নেহের পাত্র হন, অতি অল্প সময়ের মধ্যে। এর মধ্যে তাঁর দুই কন্যা ও এক পুত্র জন্মায়।

অফিসে প্রোমোশনের সময় আসে, কিন্তু তিনি সেই পদের লোভ ছেড়ে নিজের উচ্চপদস্থ অফিসারকে অনুরোধ ক’রে অদ্ভুত এক প্রস্তাব দেন, – তাঁর প্রমোশন মাইনে বৃদ্ধির বদলে, তাঁরা যদি তাঁর দুই শ্যালককে চাকরী দেন তাহলে খুব উপকার হয়। বাংলাদেশ থেকে আগত সেই দুই তরুণদের কাজের বড় দরকার। অফিসার এই প্রস্তাবে আশ্চর্য্য হয়ে যান, কিন্তু তাঁর একান্ত অনুরোধ ফেলতেও পারেন না। কাজ পান তারা সেখানে জামাইবাবুর বদান্যতায়l এই রকম ই পরোপকারী ছিলেন তিনি l অক্ষয়বাবুর জীবনযাত্রা এতো সাধারণ, বিলাসিতাহীন সহজসরল ছিল, যে যাঁরা তাঁকে দেখতেন তাদেরই তিনি শ্রদ্ধাভাজন হতেন।

চট্টগ্রামের সিদ্ধ সাধক ‘মুনিবাবা’ “মহর্ষি শ্রীমৎ স্বামী হরিকৃপানন্দ” মহারাজ ছিলেন তাঁর জীবনের কান্ডারী, তাঁরই এক আশ্রম তৈরী হয় আমাদের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় ব্যান্ডেলের মানসপুরে, নাম মানসপুর যোগাশ্রম। সরস্বতী নদীর কাছে এই অপূর্ব পরিবেশটিতে এসে ঈশ্বর আরাধনায় জীবন কাটাবার জন্য তিনি উন্মুখ হয়ে যান এবং মুনিবাবার শিষ্য শ্রদ্ধেয় “শ্রীমৎ স্বামী সূতেজানন্দ মহারাজ” এর কাছে দীক্ষা গ্রহণ করেন।

সারাজীবন সংসারের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন ও কর্ত্তব্য করে গেছেন তিনি, কিন্তু তাঁর ধ্যান জ্ঞান ও ঐকান্তিক নিষ্ঠা ছিল, ধর্মানুরাগের প্রতি। ছেলে মেয়েদের ও তিনি সর্বদা সৎপথে সদ্ভাবনায় ভাবিত হয়ে পরপোকারে উদ্বুদ্ধ হয়ে চলার জন্য অনুপ্রাণিত করতেন। চিরন্তন শ্বাশত সত্যকে ধরে জীবনে এগিয়ে যেতে সর্বদা মূল্যবোধের পাঠ পড়াতেন। সংসার সমুদ্রের উথাল পাথালে ধৈর্য ধরে গুরুর শরণাগত হয়ে থাকতে উৎসাহ দিতেন। ছোট্ট শিশু পুত্রকে মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে কোলে বসিয়ে তিনি তার দীক্ষা গ্রহণ করান। সাধারণ লোকেদের কাছে সেটি আশ্চর্য জনক ব্যবহার বলে মনে হত, বহুমানুষ তাঁর এই ভক্তি প্রনোদিত ভাবে জীবন কাটানো, নিরহংকার হয়ে, নিঃস্বার্থ লোভশূন্য থাকার মানে বুঝতে পারতো না। সমালোচকদের দল তাঁর মতন শুদ্ধাত্মাকে হয়তো চিনতে ভুল করতো।

দীর্ঘ সময় ধরে ‘জনক রাজার’ মতো এক হাতে সংসার ও অন্য হাতে গুরু প্রেম ,আধ্যাত্মিকতাকে ধরে রেখে, গৃহী সন্ন্যাসী হয়ে জীবিকা অর্জনের জন্য চাকরী করে যেতে থাকেন অক্ষয়  বাবু। দুই কন্যাকে পাত্রস্থ করা, পুত্রকে গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত পড়া লেখা শেখানো, স্ত্রীর ভরণ পোষণের জন্য অর্থ সঞ্চয় করে দেওয়া – সব কর্ত্তব্য এবং দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করে গেছেন তিনি। কিন্তু আন্তরিকভাবে আপন হৃদয়ের অন্তঃস্থলে পোষণ করে চলতেন অন্য এক ভাবনা l জাগতিক সুখ বিসর্জন দিয়ে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, ভয় ও মাৎসর্য – এই ছয় রিপুকে সম্পূর্ণ ভাবে জয় করে, তিনি গুরু চরণে আশ্রয় গ্রহণ করেন, এবং গেরুয়া ধারী সন্ন্যাসী রূপে জীবন যাপন শুরু করেন l এর পূর্বের একটি ঘটনা উল্লেখনিয়, এর মধ্যে দিয়েও সেই মহান মানুষ টির মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় l

কোকোভ্যানের কর্মরত এক শ্রমিকের জীবন বাঁচাতে গিয়ে একবার তাঁর ডান হাতের চারটি আঙুলের মাথা কেটে যায়। কিন্তু শারীরিক দুঃখ কষ্ট তাঁকে কখনো বিচলিত করতে পারেনি। অত্যন্ত কর্মঠ ও পরিশ্রমী এই মানুষটি ছেলেমেয়েদের খুব সুন্দর সাবলীলভাবে জীবনের প্র্যাকটিক্যাল ব্যাপারেও উপদেশ দিতেন। অতি সরল ভাষায় ও সহজ উদাহরণের মধ্য দিয়ে।

তিনি বলতেন যে – “যারা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তাদের থেকে নিজেকে দূরে রাখবে, কিন্তু যারা খুব স্পষ্ট কথা বলে এবং মুখের ওপর সত্যি বলার সাহস রাখে ,তাদের থেকে তোমার কোন ক্ষতি হবে না জানবে। – কখনো অলসতা করবে না, মানুষের উপকার করতে যতটা সম্ভব আপ্রাণ চেষ্টা করবে।

আধুনিকতার নামে আজকাল যে কৃত্রিমতা, ভনিতা, বিলাসিতা তথা অকাজের মাতলামী – টাকার মোহে ছুটে চলা, মানুষের প্রতি নির্দয় ব্যবহার করা, বিভিন্ন কুঅভ্যাস ও নেশায় লিপ্ত হওয়া অর্থাৎ মানবিকতার ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় চলছে, এবং স্বার্থন্বেষীদের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা দেখে তাঁর দয়ালু মন অত্যন্ত ব্যথিত হত।

এই প্রজন্মের উন্নাসিকতার সঙ্গে, পার্থিব সম্পদের আতিশয্য আড়ম্বরপূর্ণ সমাজের চিন্তাধারার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে তিনি সাত বছর চাকরী থাকা সত্ত্বেও নিজে আধ্যাত্মিক জীবনের, আসল উদ্দেশ্যকে ‘বাস্তবায়িত’ করবার জন্য জীবিকা উপার্জন ও মোহময় সংসার – পরিবার থেকে অব্যহতি নিয়ে আশ্রমবাসী হয়ে যান। সেখানে উনি যোগদান করেন ১৯৯০ সালে।

গুরুদেব শ্রীমৎ স্বামীজী সূতেজানন্দ মহারাজ – এর তিনি অতি প্রিয় পাত্র ও সমস্ত আশ্রমিকের অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন তিনি l

আমাদের ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের একটি উক্তি আছে – “গৃহের দুর্গে বাস করে ভগবানের সাধনা করে যাও, কর্ম যোগী হয়ে। সন্ন্যাস গ্রহনের পর গুরুদত্ত নাম পান তিনি – ‘শ্রীমৎ স্বামী অক্ষয়ানন্দ ব্রহ্মচারী।

কিন্তু আজকের দিনে সবচেয়ে অসাধারণ একটি ঘটনা ঘটল তাঁর অন্তিম যাত্রা কালে, হয়ত স্বর্গ হতে গুরুর এটাই নির্দেশ ছিল, তাঁর প্রতি পরোক্ষভাবে। –

তিনি সংসার ছেড়েছিলেন সব জাগতিক পাশ মুক্ত করে – কিন্তু সংসার তাঁকে ছাড়েনি। তাঁর পিতৃভক্ত পুত্র, লক্ষীমন্ত সেবাপরায়ণ সুগৃহিনী – ভক্তিমতী পুত্রবধূ ও তরুণী (বিমান বলাকা – Air hostess) নাতনি এবং সর্বোপরি কিশোর প্রেমিক দয়ালু ও তাদের সন্ন্যাসী দাদুর প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল নাতি কিন্তু এই সাধু মহাপুরুষকে কোনোদিন ছাড়তে পারেনি। আজকালকার দিনে এ এক অতি বিরল এবং অসামান্য দৃষ্টান্ত।

সন্ন্যাসী অক্ষয়ানন্দের দেহ যন্ত্রটি ক্রমশঃ বিকল হতে দেখে, তার পুত্র আশিস, পুত্রবধূ জয়া, নাতনি অরুনিশা ও নাতি অভ্রনীল তাঁকে ঐ আশ্রম থেকে তুলে নিয়ে আসে ছোট্ট শিশুর মতন। এই কোভিড-এর ভয় উপেক্ষা করে, নিজেদের সামান্য পুঁজির দিকে না তাকিয়ে, লকডাউন-এর বাধা অতিক্রম করে নিজেদের বাড়ি দিল্লী শহরে রাজধানীর এক ক্ষুদ্র গৃহে নিয়ে আসে। আয়তনে ঘরটি হয়ত তাদের ছোট, কিন্তু সেবার আদর্শে উজ্জ্বল – উদ্ভাসিত। যেদিন উনি ঘরে প্রবেশ করছিলেন সেদিন নাতিকে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে বলছিলেন যে এটা তো আমার স্বর্গের সিঁড়ি, এরপরে সোজা উপরে যাবো, আর নিচে নামবো না। সত্যিই আর তিনি নিচে নামেন নি। সেদিন উনি কত সত্যি কথাটা কত সহজ ভাবে বলেছিলেন।

বৃদ্ধ সন্ন্যাসী এই চারজনের শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায় ও যত্নে একেবারে আপ্লুত ও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁর মনে হয়, সন্তান সন্ততি বিশেষতঃ নাতি নাতনিদের এই স্নেহের মধ্যে দিয়ে তিনি ঈশ্বরের পরশ ও কৃপালাভে ধন্য হয়েছেন।

জীবনের শেষ সময়ে জাগতিক সব সুখ, মোহ মুক্ত হয়েও তাঁর মন প্রাণ অদ্ভুত এক আনন্দে স্নিগ্ধ হয়ে গেল। নাতনির মুখে হরিনাম ও পুত্র – পুত্রবধূর গীতা পাঠে তাঁর কর্ণ কুহরে সুধা বর্ষণ হতে লাগল এবং নাতির হাতের গঙ্গাজল তাঁর সব পিপাসা মিটিয়ে দিল এক অদ্ভুত অনাবিল রসে।

সজ্ঞানে গুরুর নাম জপ করতে করতে ২৪শে এপ্রিল ২০২১ (বাংলা ১০ই বৈশাখ ১৪২৯) শুক্লা দ্বাদশী তিথিতে তিনি তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন পরম শান্তিতে। সেই পুণ্যাত্মার পাদপদ্মে তাই আমাদের শতকোটি প্রণাম নিবেদন করি। আমার লেখনীর প্রতিটি শব্দপুষ্প শ্রীমৎ স্বামী অক্ষয়ানন্দের মতন কর্মযোগীর জীবনকে যদি স্পর্শ করতে পারে, তাহলে এই লেখিকা ধন্য হবেন।

পুনঃ দেহাবসানের কিছুদিন আগে তাঁর সঙ্গে ফোনে “সৎসঙ্গ” করে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ  হয়েছি।

Leave a comment