চন্দনা সেনগুপ্ত

কোথ থেকে কে আনলো ডেকে
দানবটা এই কোভিড উনিশ?
কে জানতো তার মুখে, বুকে, দাঁতে
আছে মৃত্যু বিষ।
 
পুরাকালের মহিষাসুর, বাইবেলের ঐ
শয়তান,
করোনা রূপে পেল কি প্রাণ?
রক্ত বীজের মতন যে তার
অযুত নিযুত শত হাজার।
লক্ষ লক্ষ কীটাণুতে -
মানব জাতিকে করে প্রহার।
 
ধনী নির্ধন, সুখী দুঃখী জন,
তরুণ, বৃদ্ধ, যুবক, সুজন,
মালিক, শ্রমিক, দার্শনিক -
সবাই তাহার শিকার হন।
কোন দেবতার বর পেয়ে সে
ভস্মাসুরের মতন ধায় -
কোনো দেশের নর নারী কোনও ভাবেই
ছাড়া না পায়।
সূক্ষ্ম রূপে চুপে চুপে, নিঃশ্বাসে সে
ঢুকে যে যায়,
ফুসফুসকে আঁকড়ে ধরে
বংশ বাড়ায় নীরবে হায়।।
 
পুরাকালের দানব যেমন
যার মাথাতে রাখতো হাত,
জ্বলে পুড়ে ছাই  হতো সে -
মাথার উপর বজ্রপাত।
নারায়ণকে তখন স্মরণ
করল ব্যাকুল জগৎ জন,
বিপদকালে এলেন 'হরি', -
আসার আলো দেখে ভুবন।
মোহিনী বেশ ধারণ করে
নারী রূপে ভোলান মন,
অসুর তাহার মোহে বিবস -
অদ্ভুত তাঁর আকর্ষণ।
কাছে এসে বলেন তিনি ,
কল্লোলিনী রমণী -
"দানব রাজা তোমায় দেখে
কাঁপছে শিরা ধমনী।
আমায় তুমি করতে বিয়া,
চাও যদি গো - বরণী,
নিজের মাথায় হাত দিয়ে আজ
শপথ করো এখ্খুনি"।
 
উল্লাসেতে নৃত্যরত, আবেশ বশে ভস্মাসুর,
যেই না দিল মস্তকে হাত
উত্তেজনায় ভরপুর -
অমনি তাহার বিশাল দেহ
দহন তাপে ভস্যচুর।
স্বর্গ মর্ত্ত হতে তখন
বিদায় নিল সে শত্তুর।।
 
মানব জীবন ত্রাহি ত্রাহি করছে
কোভিড এসে অবধি
পতন তাহার হবেই হবে,
এটাই কবির উপলব্ধি।
নতুন যুগে -
ঈশ্বর আজ আবার ফিরে
আসেন যদি,
নারায়ণের কৃপাবৃষ্টি সৃষ্টি করে
দয়ার নদী, -
 
তাহলে কি দমন হয় না -
ভীষণ দৈত্য করোনা
'ভ্যাকসিন' হয় 'ব্রহ্মাস্ত্র' -
মিথ্যা সে নয় কল্পনা, -
শুভবুদ্ধি সম্পন্ন বানিয়ে দেবেন যোজনা,
বিষে বিষে বিষক্ষয়ের
মানুষ শুনবে মন্ত্রণা।
 
স্নিগ্ধ শান্ত রোগমুক্ত হবে আবার এই জগৎ।
হানাহানি বন্ধ করে সকল মানব হবে মহৎ।
থাকবে না আর ভয়ে ভয়ে,
বন্দি থাকার নহবৎ,
কোভিড হবে পরাজিত
এটাই হবে হকীকৎ।

Leave a comment