চন্দনা সেনগুপ্ত
ফুটফুটে সেই লাবণ্যময়ী সবার প্রিয় কণ্যা। তুষার শুভ্র বরণ তাহার রূপের যেন বন্যা রাঙা ধুলোর পথে পথে, কালু দাদুর সাথে সাথে, কখনো বা কাঁধে পিঠে, চড়ে বেড়ায় সোহাগ রথে, নয় তো সে মেয়ে নগন্যা। কুমড়ো সেদ্ধ আলু ভাতে পোস্ত হলে রান্না, সরস্বতীর মতন সাত্ত্বিক অন্য কিছু-ই খান না। দামী দামী খেলনা পুতুল, ঐশ্বর্য্য আছে অতুল, কখনও তিনি আবেগ বশে, অসার বস্তু চান না। ছোট্ট থেকেই "দময়ন্তী" তাইতো অসামান্যা। "ঠাকুমার" ঐ কোণের ঘরে, চুপটি করে উঁকি মারে - জপ, ধ্যান আর পুজো দেখলে, বসে থাকে দু পা মেলে, সাধিকা সেই মেয়ে তখন কোথাও যেতে চান না। সবাই তারে ভালোবাসে, খলখলিয়ে সদায় হাসে, - দেবলীনা শিশুকন্যা, শুনিনি তার কান্না। সবার সঙ্গে একাত্ম হয়, কিশোরীটির নেই লোভ ভয়, মিষ্টি সুরে কথা সে কয়, হতাশ প্রাণে দেয় যে অভয়, বড় হয়ে "বুদ্ধদেবের" স্তুপে দিলেন ধর্ণা। অপূর্ব কোন অনুভূতি, হৃদয় বীণায় ভক্তিগীতি, স্বর্ণোজ্বল সেই সে স্মৃতি, বইতো প্রেমের ঝর্ণা। মাত্র অর্ধ-শতাব্দীতে কঠিন রোগের জীবাণুতে, - আক্রমিলো দেহ যে তার, পেলো "কেমোর" যন্ত্রনা। যদিও তার অপার আনন্দ নষ্ট করতে পারলো না। "স্বর্গ দুয়ার" খুলে নিজে, প্রভু এলেন তাহার খোঁজে 'মুক্ত' আত্মা চললো সেথায়, কারো অপেক্ষা করলো না। ভিক্ষু কাঁদেন বৌদ্ধ-বিহারে, স্বজন মিত্র বহু দূরে - অশ্রুনদী বাঁধ মানে না, জানায় সবে সমবেদনা, অশুড়িয়া, আমেরিকা, নেপালি বন্ধু বসে একা - স্মরণচিহ্ন পটে আঁকা - হৃদয় তাদের মেঘে ঢাকা। ভারাক্রান্ত অন্তরেতে দুঃখ বরফ গললো না। 'এলিজাবেথ' মাতা তাঁহার, স্তব্ধ শান্ত - পাথর মূর্ত্তি, তাঁকে দেখে সবার মনেই জাগে প্রবল প্রীতি ভক্তি, পুত্র এবং পুত্রবধূ সদায় থাকেন তাঁহার পাশে, পিতা গণপতির মৃত্যু - দৃশ্য তাদের চক্ষে ভাসে - বিষন্নতার বাদল হতে বৃষ্টি বারি ঝরলো না। মিটিয়ে দিলে সকল শ্রান্তি, ঘুচিয়ে দিলে ভুল ও ভ্রান্তি করিল জীবাত্মা কত সুকৃতি, পেলে আজ তাই চরম শান্তি। এই জগতে বিরল যে অতি, তোমার তুল্য তুলনা। ধন্য তুমি দময়ন্তী, বুদ্ধপন্থী পয়মন্তী, ঈস্বরে ছিল তব সদা মতি, - প্রিয় জনের পরান হতে, পাষান প্রাচীর সরলো না।