চন্দনা সেনগুপ্ত

"বুদু-মামা"
স্বর্গীয় চিত্তরঞ্জন দাশগুপ্তের
প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি
চন্দনা সেনগুপ্ত

ছোটবেলায় চিনাকুড়ির বাড়ীতে
বসতো চাঁদের হাট ।
সেই আনন্দমেলায় মেজ জ্যাঠামশাই
দিতেন মোদের মূল্যবোধের পাঠ ।
মেজ জ্যেঠিমার সারল্যে মাখা -
ছিল সেথায় বাগান ঘেরা -
অপূর্ব এক বাট ।
সেই খানেতে আসতে যেতে -
দেখেছিলেম তাঁরে -
গভীর বোদ্ধা জ্ঞানের ভারে, অবনত -
বিনয়ী এক ঋষি ।
নেই কোন তাঁর অহংকার -
নকল বাবুর ঠাঁট ।।
 
জ্যেঠিমারই ভাই যে তিনি,
মোদের বুদু মামা, -
বিষ্ণুপুরের শিক্ষক এক -
গবেষক খ্যাতনামা ।
শিশুসুলভ মুখে তাঁহার -
সদাই থাকতো হাসি,
প্রাচীন গ্রন্থ পেলেই যেন,
আনন্দেতে ভাসি, -
মোহিত হয়ে টেরাকোটা মন্দিরেরই কথা, -
বলতে বলতে ভুলে যেতেন,
নিজের দুঃখ ব্যাথা ।
খুঁজে বেড়ান, পুরাণ পুঁথি, -
ছোটেন হেথা - হোথা, -
দিন রাত্তির সে সব তথ্যে -
ঘামিয়ে যেতেন মাথা।।
 
পঞ্চাশটি বছর পরে আবার গেলাম বিষ্ণুপুরে -
তাঁর দর্শন পেলাম আমি, -
পুস্তকেতে ঠাসা ঘরে ।
মামা মামীর যুগল মূর্ত্তি, দেখতে পেলাম -
খাটের পরে ।
মনে হল, জীবন্ত দুই দেব দেবীর রূপ ধরে
বসে আছেন, দুইটি শিশু
শান্তি সুখে হৃদয় ভরে ।
এমন মানুষ বিরল অতি -
এই জগতে একেবারে ।
হৃদয় সেদিন ধন্য হল, যুগল মূর্ত্তি
প্রণাম করে ।।
 
"মল্লভূমের" চিত্তজয়ী চিত্ত করেন রঞ্জন,
তাঁহার মতন "স্থিতপ্রজ্ঞ" ব্যক্তি
আজি মেলে ক'জন?
সবার প্রতি স্নেহের সুধা নিত্য করিয়া বর্ষণ
মুগ্ধ করে রেখেছিলেন -
আছেন যত প্রিয়জন ।
রত্ন-তুল্য-সন্তান তাঁর, "বাপ্পা"
প্রবাসে, - করে ক্রন্দন, -
সমবেদনার পুষ্প পাঠায় -
শোকাচ্ছন্ন সব পরিজন ।
গৃহলক্ষ্মী বড় মামীমার
হারিয়ে গেল যে নারায়ণ, -
স্বামীর স্মৃতি - শোনায় গীতি -
'আত্মা অমর নেই তো মরণ' ।
নশ্বর এই দেহ ছাড়ি - অন্যলোকে বিচরণ,
পঁচানব্বই পরে তিনি -
পেলেন ঈশ্বর দর্শন ।।

Leave a comment