চন্দনা সেনগুপ্ত

 
বনের পাখীর সঙ্গ পেয়ে, উড়ে উড়ে চলল দূরে।
মন চায় না, ফিরতে যে তার ঘরে।
এখানে নয়, ওখানে নয়, অন্য কোথাও -
অন্য কোন সমৃদ্ধ শহরে।
বাঁধলো বাসা, সুপ্ত আশা জমিয়ে রাখে -
কত যে তার অন্তরে।
হঠাৎ এল, মহামারীর মার,
করোনা নামে দানবীটা
দেয় দুয়ারে, আঘাত যে বার বার।।
 
কেউ চেনে না তারে, -
না চাইলেও সাড়া দিল, হাজারে হাজারে -
অজুৎ, নিজুৎ, লক্ষ, কোটি
গুনতে কে আর পারে !
ধরল চেপে, মারল টিপে, উকুন যেমন মারে,
বোনের পাখী কাঁদছে যে তাই, ব্যর্থ হাহাকারে, -
তারা হেথায় লাগবে না আর কোনই দরকারে।
প্রবাস হতে চলে যেতে হবে আবার এবারে, -
উল্টো পানে, দেবে পাড়ি, - ভারত মহাসাগরে।।
 
মন কাঁদে আজ গ্রামের তরে, -
ফিরতে সে চায় নিজের ঘরে,
তাহার তরে আসন পাতা, হয়তো ধুলার, -
পথের পরে।
সেথায় নেইতো সুখের সজ্জা -
সাজিয়ে রাখা আড়ম্বরে, -
কিন্তু সেথায় পিতা মাতার স্নেহের সুধা সদাই ঝরে।
আছে অবাধ স্বাধীনতা,
ব্যক্ত করতে মনের কথা, -
মাথাটি সে নুইয়ে দেবে -
পুন্য দেশের মাটির পরে।
 
"বন্দে ভারত" উড়ো জাহাজ আনল তারে -
বুকে ধরে।
শুভ্র যেন - বলাকা সে, মায়ের মতন ভালোবেসে,
উড়লো, আকাশ পারে।
চোখের জলে বিদায় নিল, কর্মভূমি ছেড়ে -
শুনতে পেল মধুর স্বরে -
কে যেন আজ ডাকছে তারে -!
আনন্দেতে হৃদয় উঠল ভরে।
ভাঙ্গাচোরা মরচেধরা - লোহার খাঁচার পরে,
প্রবাস হতে বনের পাখী
আজকে এল ফিরে।
পথভোলা সেই হারানো ভাই
স্বজন বন্ধু প্রতিবেশীর আনন্দাশ্রু ঝরে।
পুরানো সেই ফেলে যাওয়া -
খড়ের কুঁড়ে ঘরে -
ধন্য হ'ল, জীবন যে তার মায়ের চরণ ধরে।।

Leave a comment