চন্দনা সেনগুপ্ত

নৈঃশব্দের গান (Noishobder Gaan)
             "স্বর্গীয় মিঠুর উদ্দেশ্যে"
               চন্দনা সেনগুপ্ত
 
জীবনটাকে রসিয়ে রসিয়ে
          তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করা নয়,
শুধু স্থির এক প্রদীপ শিখার মতন
          নিঃশব্দে প্রজ্জ্বলিত রাখা -
অভিনব ধৈর্য্য, সাহস ও অসীম আশায়
          প্রিয়জনের মুখপানে
                 ফিরে ফিরে দেখা
তোমার চোখের তারায়
          আজ অনেক কথাই আছে লেখা।
 
স্বামীর ভালোবাসায় সিক্ত
                 সন্তানের শ্রদ্ধা, গুরুজনের স্নেহচ্ছায়ায়
      সর্বদা এইভাবে আপ্লুত হয়ে থাকা -
অতল মহাসাগরের গভীরে -

                 মুক্তসম ঝিনুক মনে,
          নির্লিপ্তভাবে, আপনাকে এই ঢাকা
আশ্চর্য এক অহেতুকী কৃপারই পরিচায়ক
          যা শুধু ঈশ্বরের আশীর্বাদ মাখা।।
 
দখিনা হওয়ার ঝোঁকায়
          আপন মনে উড়ে এল
                 সবুজ রঙের পাখী চন্দনা
তোমার জানলা দিয়ে ঢুকল সেদিন একা
          বিছানার পিছনে আছে যেখানে
                 রকমারি যন্ত্রপাতি সব
শরীরের প্রতিটি অঙ্গে লাগানো
          নল আর পাইপগুলি ঝুলছে সব এঁকা ব্যাঁকা।
 
মনে হল,
          ভীষ্মের শর শয্যায়
                 "মা লক্ষ্মী" শুয়ে আছেন যেন
"মনসা দেবীর" সাপেদের হাতে পায়ে
          জড়িয়ে ধরে -
                 চারিদিকে ইলেকট্রিক তারে
          বহু বিচিত্র আলপনা আঁকা।।
 
"মিঠুরে" - "চন্দনাটা" বলে,
          ভালোবেসে ফিসফিসিয়ে হেসে হেসে -
"দে ভাই, আমাকেও একটু ধার দে,
          তোর অসাধারণ স্মরণশক্তি,
          বুদ্ধি, বিশ্বাস ও ভক্তি
মুখর হয়ে নয়, নিঃশব্দের সাধনায়
          আমি এবার মেলব আমার অবুঝ পাখা।।
 
এখানে -
          পাখির মতন, কলকাকলি নয় -
                 ভ্রমরের গুনগুন ধুন, তাল লয়,
সব ভুলে তোমার ঐ পদ্মফুলের মতন চোখে
                 মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকা -
বন্ধুত্বের উত্তাপ আনন্দ সুগন্ধ
          ছড়িয়ে দিতে দিতে, শুধু জানাই -
নতুন বছরের শুভেচ্ছা নিয়ে
          ধীরে ধীরে এগিয়ে যাক -
                 সময়ের চাকা।।

Leave a comment