চন্দনা সেনগুপ্ত

 
'মাতৃ হৃদয়' তো করুণাসিক্ত কোমল,
একটুতেই গলে যায় -
দয়া, মায়া, ক্ষমা দিয়ে গড়া,
কিন্তু আজ কি হল !
খবরের কাগজের নিত্য বিবরণ
প্রতিদিন মর্মান্তিক যত
নারী নির্যাতন, -
তার ভেতরে জ্বালানো আগুন।
মনের গহ্বরে চলছে যেন
গলিত লাভার দহন।
আগ্নেয় গিরি হয়ে উঠল আমার
ক্রুদ্ধ বিক্ষুব্ধ ব্যথিত মন।
ভারতবর্ষের প্রতিটি মা, - শুধু আমি না -
দিদি, বৌদি, মাসী, কাকীরাও
এখন রাগে ফুঁসছে।
ব্রহ্মপুত্র থেকে গঙ্গা -
কৃষ্ণা-কাবেরী থেকে বিপাশা
ঝিলাম -
ভরে গেল যে এদেশের কন্যাদের
চোখের জলে, -
অসম্ভব আক্ষেপে, হতাশা মনে পুষছে।
উত্তর প্রদেশ থেকে রাজস্থান
হাত্রাস কিংবা কোন মরুদ্যানে -
নিরীহ অসহায় অচ্ছুৎ কন্যার দেহ
লালসার ঘৃণ্য জিহ্বায় কারা
চুষছে।
ওদের নির্লজ্য চেহারা দেখে
কোভিড উনিশ
হার মানছে আজ
তাদের দাঁতের বিষ
তাই আমাদের ক্ষমতার
প্রবৃত্তিকে সব শুষছে।
সেই ভাগ্যহীন কন্যারা বারে বারে
করে আর্তনাদ
কার কানে যায় সেই কান্না
পিতা মাতার হাতে
তাদের মৃতদেহও তুলে দেয় না তারা
অন্তিম ক্রিয়াতেও সাধে বাদ।
রক্ষাকর্ত্তা নীরব,
রাজনীতি - দুর্নীতি - গদি - প্রীতি
ভুলিয়ে দেয় আদর্শ সব।
বিচারকও ঘুমন্ত
বুদ্ধিমানেরা বধির অন্ধ
সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ
বিবস-নিত্য - ভয় ভীত।
তাই এবার আসুক প্রলয়
মায়েদের মনে।
আগ্নেয়গিরি হতে ছুটে যাক
ক্রোধের অগ্নি বলয়।
গলিত লাভায় ভস্ম করে দিক
ঐ দানব মানবের
নিশ্চিন্ত আলোয়।
আমাদের মুখনিঃসৃত অভিশাপ
পুড়িয়ে দিক ওদের এই সাহস পাপ,
করোনা ভাইরাসের আক্রমণে
বাকরুদ্ধ করে দিক ওদের প্রতাপ।
বিচারের বাণী আর নিভৃতে নির্জনে
করে না যে অশ্রুপাত,
দুর্গার ত্রিশূলে ছেদন করা দেহ
হয়ে যাক শরীরের
রক্তের উত্তাপ।
নিজেদের কন্যাকে হারিয়ে করুক
হাহাকার সন্তাপ।

Leave a comment