চন্দনা সেনগুপ্ত
আমি চলে যাই, হয়ে "মীরাবাঈ", শুধু গান গাই, "গিরিধারীর" কৃষ্ণের প্রেমে - মাতোয়ারা হয়ে - ছাড়ি তনু - মন - ধন ও শরীর। "পাঞ্জাব" পথে "মারদানা" সাথে "রাবাব বাজিয়ে নানক" পন্থী, হরি নাম গাই, অমৃতসরে "হরমন্দিরে" হবো যে গ্রন্থি। "আজমীরের ঐ শরীফে" পৌঁছে - চাদর চড়াই আল্লাহ কে স্মরি - "সুফী" ফকির হবার নেশায় বন-অরণ্যে বেড়াই ঘুরি। 'বারাণসীর' 'গঙ্গার' তীরে আবার আমার নৌকা ভিড়ে 'কবীরে'র দোহা গানে, এ মন আনন্দেতে যায় যে ভরে। নবদ্বীপের "শ্রী চৈতন্য" পুরী ধামে গিয়ে করেন লীলা ভক্তি প্রেমে - আকুল হয়ে - সাগর কূলে, কাটাই বেলা। "বৌদ্ধ গয়া"- তে "বুদ্ধদেবের" স্তুপে গিয়ে যবে ঠেকাই মাথা, অহিংসা ও সত্যের বাণী - ভুলিয়ে দিল যে সব শোক ব্যথা। "সব তীর্থ" পার হয়ে শেষে এলাম মায়ের স্নেহচ্ছায়। ধন্য জীবন হেথায় এসে - "জয়রামবাটি আঙিনায়"। "রামকৃষ্ণ" লীলা প্রসঙ্গ জুড়িয়ে দিল, প্রাণ ও অঙ্গ ভুল ভ্রান্তি হইল ভঙ্গ - "কামার পুকুর বাটিকায়"। তীর্থ ঘোরার নেশা হল শেষ আসল সাধক পাগল দেখে 'মা' ও ঠাকুর, মর্ত্তে এলেন গৃহী যাতে সাধন শেখে। তাঁদের মতে সরল পথে - সঙ্গে রেখে সত্য - মাথে, - কাম কাঞ্চন ত্যাগী হয়ে - চলব নিয়ে কৃপা সাথে। ঘুচিয়ে দিও, সব পাগলামি - তোমার নাম-ই 'সবচেয়ে দামী'। সুরক্ষিত দুর্গ-মাঝে, ব্যস্ত থাকি, গৃহ কাজে লোভ, ক্রোধ-এলে মরি লাজে, ভুল করিলে দুঃখ বাজে - তাই তো কৃপা মাগি স্বামী "ঘুচাও আমি'র সব পাগলামি"।।