চন্দনা সেনগুপ্ত

ঠাকুর তোমার মূর্ত্তিতে আমার শরীর মন
আত্মাকে এক মুখী করে যখন বসে যাই চোখ বুজে,
তোমার ওই চুল, কপাল
সুন্দর স্মিত হাসি -
দুই খোলা ঠোঁটের মাঝে দাঁত
আর তার মধ্যে একটুখানি ফাঁক,
আমাকে তখন কে যেন দেয় ডাক।
শুধু তোমার কথা একাগ্র মনে
ভাবতে আমি ভালোবাসি।
তবে চঞ্চল হৃদয় কখনও কখনও
উন্মনা হয়।
লোহার মত শক্ত সে তাকে কিছুতেই
নোওয়ানো যায় না।
তখন একদৃষ্টে তোমার চোখের
দিকে তাকাই সাহস করে।
দেখি তোমার খোলা চোখ যেন
চুম্বক হয়ে যায়।
আমি তার মধ্যে আটকে থাকি।
তোমার আকর্ষণ আমাকে
নমনীয় রমনীয় করে দেয়।
অন্য চোখের পাতা দুটি
তখন তোমার অর্ধনির্মিলিত।
কারন তুমি ভাবে বিভোর
সমাধিস্থ, পরমাত্মার সঙ্গে লীন।
ধ্যানের মধ্যে তোমার ঐ রূপ
আমাকে স্তব্ধ স্নিগ্ধ ও
মোহিত করে দেয় -
আমি ভুলে যাই, কে আমি,
কথা হতে এসেছি যে।
ধীরে ধীরে সম্বিৎ ফিরে আসে আমার।
এবার দৃষ্টি নামিয়ে আনি -
তোমার 'গলায়'।
নয়ন মুদে দেখতে পাই সেই
পরম "তীর্থ ক্ষেত্র" কে।
আমাদের মত শত শত
পাপী তাপীর রোগ নিয়ে
বিষ পান করেছিলে তুমি,
জমিয়ে রেখেছিলে নিজের জন্য -
পুঁজ রক্ত ক্যান্সারের কোষে।
তাই তোমায় আমি বলি -
"নীলকণ্ঠ অবতার"।
তোমার অহেতুকী কৃপায়
কত দুঃখী জনকে করলে
পঙ্ক থেকে উদ্ধার।
কত যন্ত্রনা তুমি সহ্য করেছিলে
অক্লেশে -
তারমধ্যেও বলেছিলে কত কথা
হেসে হেসে।
উপদেশ দিতে নয়, ভক্তকে পান
করতে অমৃতের সুধা,
আন্তরিকভাবে আপন পিতার মতন
ভালোবেসে।
চোখ আর একটু নামলে দেখতে পাই
তোমার গলার নিচে উঁচু হয়ে থাকা
হাড়টির ওপরে এসে।
তোমার নরলীলা উপভোগ করতে করতে
নয়নের তারা নেমে আসে -
সুঠাম দুই বহু, কাঁধ ও বক্ষদেশে,
তারপর পেয়ে যায় সেই চরণ কমল দুটি।
সেখানে মাথা ঠেকিয়ে, আমার জন্ম স্বার্থক হয় শেষে।