চন্দনা সেনগুপ্ত
বিশ্বকবি মানব প্রেমিক মোদের রবীন্দ্রনাথ ছোট্ট হতে নিজ অজান্তে ধরিয়া তোমার হাত পথ চলিয়াছি নির্ভয়ে আমি প্রত্যেক 'পল' হইয়াছে দামী, তুমি গুরুদেব, কবিবর স্বামী - "জীবন দেবতা" সাক্ষাৎ।। মেঘের দেশে উঠলো হেসে বাদল টুটে রোদ, "মুকুল" মনে ভেলকি বুনে, জাগিয়ে দিলে বোধ দুই পা আমার ছুটির ছন্দে, নাচালে গো কোন আনন্দে 'আ-হা-হা-হা-হা' সুরে তালে গান করি দিন রাত।। কেয়াপাতার নৌকা সাজাই, বয়স হল সাত গলায় তখন ব্যাঙ ঢুকেছে গ্লান্ড টন্সিল বেশ পেকেছে, এক দুপুরে জ্বরের ঘোরে হলাম কুপোকাৎ।। মাথার কাছে বসলে এসে, 'সঞ্চয়িতা' রাখলে পাশে, নতুন জগৎ আমার সামনে খুললে তুমি হটাৎ।। শিশু 'বই'তে লিখলে পদ্য সেদিন "লুকোচুরি" - সকাল বিকেল তোমার সঙ্গে খেলার ছলে ঘুরি, চাঁপার গাছে কলি হলাম দুষ্টমি যে করি, "রবি কবির সঙ্গে যে আর রইল না মোর তফাৎ।। তারপরে আট বছরে সরস্বতী পুজোর ঘরে ছেলেরা সব নাটক করে "জোড়াদীঘির ডাকাত। বালিকা মন বীরের বেশে, কল্পনাতে লড়ছে কষে, হা রে রে রে করে মা'কে মারবে যে নির্ঘাত।। সেদিন থেকেই সাহসী মন ছুটছে তেপান্তরে- মোদের কথা এমন করে কে আর ব্যক্ত করে ! মাকে শুধাই, কোন খানে তুই, কুড়িয়ে পেলি মোরে? হৃদয় দ্বারে বারে বারে করলে তুমি আঘাত।। মা যদি হন কখনো নিঠুর, দূর দূর দূর তাড়ান কুকুর, কিম্বা যদি টিয়ার পায়ে, পরাতে চান, শেকল নুপূর। তখন তুমি আমার মত, "সমব্যাথী" কাঁদলে কত, বললে রেগে তোমার হাতে খাব না আর ভাত।। কত ভাবে শিখিয়ে ছিলে, নতুন জ্ঞানের পাঠ, মেখেছি গায়ে ফুলের রেণু, রাখাল ছেলের সঙ্গে ধেনু চরিয়ে ছিলে, যে কী ধন খোঁজে, পার হয়ে বন মাঠ - বুঝিয়ে ছিলে ঐ বয়সটা মানে না জাত পাত।। দশ বছরে চিকেন পক্সে বন্দি ঘরে একা, "সুধার" ডাক যে শুনতে পেলাম, খাইনি মোটেই ধোকা। ডাকঘরের ঐ অমল হয়ে, বিছানাটায় শুয়ে শুয়ে - রাজার চিঠির আশা লয়ে, কাটল রাত্রি প্রভাত।। ছয়টি ঋতু চিনিয়ে দিলে, কোথায় রঙ্গে মন ভোলালে, 'কবিরাজের' মতন এসে টিপলে নাড়ির ধাত, তাই স্বপ্ন ঘুড়ি লাটাই ও ডোর, যেই হাতে ধরালে, কৌশলেতে কিশোরী মন, আকাশে ওড়ালে ! আমার রাজার বাড়ি কোথায়, গোপনে জানালে, কল্পনাতে রঙ লাগাতে ধন্য হল ছাত। 'বড়'রা কেউ জানল না যে, কোন কোটরে পাথর খাঁজে, তোমার লেখন বাগান মাঝে, আমার যাতায়াত।। একদিন এক গুহার আগল, ভাঙলো অকস্মাৎ, সূর্য কিরণ প্রবেশিল, ঝর্ণা ধারা বাহির হল, ভাসল মুকুল হাসল বকুল, নির্ঝর বেগ হল ব্যাকুল, যেমন জলপ্রপাত। তোমার কাব্য নদীর স্রোতে, চললো ভেসে আনন্দেতে সার্থক তাই হল যে আজ, জীবন ধারাপাত। "রবি-ঠাকুর", জানাই, তোমায় আমার প্রণিপাত।।
