চন্দনা সেনগুপ্ত

উই পোকা, পোকাদের মধ্যে যেন
ধবধবে শ্বেতাঙ্গ সাহেব।
খুবই ক্ষুদ্র, খুবই লাজুক।
লুকিয়ে থাকে ভিজে কাঠে।
কী ভাবে কখন যে ওদের
শারীরিক মিলন ঘটে
কেউ টের পায় না।
কিন্তু হাজার হাজার ডিম
অণুপরমাণুর মতন, খালি চোখে
দেখাই যায় না তাদের।
তারপর লক্ষ্ লক্ষ্ জীর্ণ শীর্ণ
মোটা তাজা, ব্যাঁকা সোজা
পোকার দল জন্ম নেয়।
তারা ক্ষুদার্ত থাকে সর্বদা।
কাঠের গুঁড়ো থেকে
শুকনো গাছের লুকিয়ে থাকা
জমিয়ে রাখা প্রোটিন ভিটামিন
পুষ্ট করে তাদের।
উইপোকারা বংশ বিস্তার করে
নিশ্চিন্তে।
ধীরে ধীরে বুদ্ধি বেড়ে যায় ওদের।
হজম শক্তির সঙ্গে সঙ্গে
ধী শক্তিও বৃদ্ধি পায়,
তাদের প্রাণ আছে,
আর প্রাণ থাকলেই
মন ও মান দুই এসে যায়।
উইপোকারা অগ্রসর হয় -
জ্ঞানের খোঁজে।
মা-বাবা শিক্ষক-শিক্ষিকা -
অধ্যাপক পোকারা
দল দল ছাত্র নিয়ে
ঢুকে পড়ে বইয়ের
আলমারিতে।
সেখানে থরে থরে সাজানো -
কত জ্ঞানী গুণী লেখক
লেখিকা প্রবন্ধাকারের -
জীবন নিঙড়ানো বাণী
এক এক তাকে তারা আশ্রয় নেয়।
'রবীন্দ্রনাথের' রচনাবলীর মধ্যে
প্রবেশ করে শুনতে পায়
মধুর গানের সুর।
বড় শব্দকোষের অর্থ কেটে কুটে
হজম করে তারা সবাই,
চালায় তাদের পেটে।
'বিবেকানন্দ বাণী' গুলোর
নির্যাস নেয় চেটে -
'কথামৃতের' আসল রসের
সন্ধান পায় খেটে।
যাদের বাড়ির মানুষগুলো
পড়ে না আর বই,
সাজিয়ে রাখে থরে থরে
তাদের মাথা কেটে -
'উইপোকারা' আনন্দ পায়
অজানাকে ঘেটে।
ইংরেজি বা সংস্কৃত পুস্তক সব ছেঁটে -
শ্রেষ্ঠ পোকার মর্যাদা পায়
অক্ষরদের বেঁটে।
"গীনিজ বুকে" করল রেকর্ড তারা
দেখতে পাবে গুগল সার্চে নেটে
উইপোকাদের মিছিল করে চলা,
কেমন করে বেড়াই তারা হেঁটে।