চন্দনা সেনগুপ্ত

কেঁদে কেঁদে বেড়াই যত, আমরা জোনাক দল,
কেমন করে বাঁচবো মোরা, জায়গা কোথায় বল?
অন্ধকারের স্নিগ্ধ নরম কালো,
আমাদের যে লাগতো ভীষণ ভালো।
ইলেক্ট্রিকের উজালাতে লুকায় রাতের তারা,
ভয়ে ভয়ে থাকতে যে হয়, তাই তো দিশাহারা।
গ্রাম থেকে গ্রাম ঘুরে বেড়াই, নগর বনের ধারে -
বড় বড় গাছ খুঁজে যাই, সরোবরের পারে।
একটু খোলা জায়গা পেলেই,
মানুষ বানায় রাস্তা বাড়ি, -
চোখ ধাঁধানো আলো জ্বালায়, তীব্র বেগে চলা গাড়ি।
একদিন এক বাবুই পাখি খেজুর গাছের উঁচু মাথায়
উল্টো কলসী বাসা বাঁধে, সরু সরু বুনে পাতায়।
ঝুলন্ত সেই বাসা দেখি, নির্জনেতে বসে,
লুকিয়ে থাকি ঝোপে ঝাড়ে, আঁধার হবার আশে।
হটাৎ তাদের পড়লো চোখে মোদের ছোট্ট দেহ,
সন্ধ্যে হতেই জ্বালায় আলো, নেই তাতে সন্দেহ।
মা বাবুই আর বাবা বাবুই খপখপিয়ে ধরে,
একেক করে মুখে নিয়ে চললো তাদের ঘরে।
বসিয়ে দিল মোদের সেথায়, তাদের দেওয়াল পরে
খেতে দিল গুবরে পোকা, অনেক আদর করে।
রাতের বেলা পাখির বাসা আলোতে ঝলমল
নতুন করে বাঁচতে পেরে জোনাকি চঞ্চল।
পরের উপকারে লেগে, জীবন হল ধন্য
আপন আলোর গর্ব করি, পোকা তুচ্ছ বন্য।