চন্দনা সেনগুপ্ত
মুকুল নামে একটি ছোট্ট মেয়ে লাল মাটিভরা বাঁকুড়ায়- দ্বারকেশ্বর নদীর ঢেলান বেয়ে "বোবাদুলুর" হাতটি ধরে নামলো বালুর চড়ায়,- সূর্যাস্তের আলো দেখতে পেয়ে- রইলো চেয়ে অবাক হয়ে কে তাকে আজ ভোলায়! ভাবলো বসে বড় হয়ে সে, থাকবে কাব্য লয়ে,- দিন কাটাবে নির্জনে তার কবির স্বপন দোলায় ।। অক্ষর রা শব্দ হবে শব্দ জুড়ে বাক্য- প্রকৃতি ও মানব মনে- আনবে তারা ঐক্য, লেখন তখন পেখম তুলে নাচবে আঙিনায় থাকবে মুকুল আপন মনে ভাবের সাধনায় ।। পাখিদের কে ভালোবেসে উড়তে সে চাই তাদের সঙ্গে- দূরের আকাশে । তাইতো 'বাবা' মুকুল থেকে নাম দেন তার 'চন্দনা'- কোলকাতাতে বেথুন স্কুলে, বাঁকুড়া হতে এলো চলে স্কুল পত্রিকায় ছাপলো লেখা, করলো বাণীর বন্দনা । কিশোরী সেই স্বভাব কবি নানান ভাবে আঁকলো ছবি- ব্যক্ত করলো সরল ভাষায়, শিল্পী মনের যন্ত্রনা ।। বন্ধুরা সব বললো, তারে- লেখার অভ্যাস ছাড়িস নারে, অন্য কিছু হবার তরে- যে যত দিক মন্ত্রনা ।। আরো একটু বড় হয়ে, শান্তিনিকেতনকে ছুঁয়ে- একেবারে মুকুল হাজির দিল্লী শহর মাঝে । রাজধানীটার কোলাহলে কাব্য করা গেলো ভুলে ঝাঁপিয়ে পড়লো, জীবন যুদ্ধে কর্ত্যব্য ও কাজে । স্বামী পুত্র ঘর সংসার সামলে রাখল, বড় পরিবার শিক্ষকতার জীবিকাতে সাজলো নতুন সাজে । দায়-দায়িত্বে সপিল প্রাণ অন্যের তরে তার শ্রম দান, কবিতা তাই মুখ লুকালো- বুকের তলায় লাজে । কিন্তু তাহার হৃদয় জুড়ে- কাহার বাঁশি বাজে সে নিজেও জানে না যে ।। যৌবন ধায় তীব্র বেগে- সময় ছোটে কামান দেগে প্রৌঢ়ত্বের সীমায় এলো নদীর কিনারায় বইছে হাওয়া মন্দ মন্দ এবার তাহার চলার ছন্দ- অজানা এক মোড়ে এসে- হঠাৎ থামলো হায়! পিছন পানে তাকিয়ে দেখে পথ গিয়েছে, এঁকে বেঁকে- ছুটিস না আর, স্থির হ এবার- ডাক দিলো কে আয় । কবিতা সখি দিচ্ছে উঁকি- তাহার কথা দাও না লিখি হৃদয় হতে মুক্ত করে রাখো খাতার পাতায় । তাই এবারে বার্দ্ধক্যের দোর গোড়াতে বসে- যা পারে তাই লিখতে হবে,- আপন আবেগ বশে কান্না ভোলা স্তব্ধ দুপুর- কাঁচা আমের অম্ল মধুর গন্ধ ছড়ায় - কুসুম কলি, অন্যের মন মাতায় । লেখার একটা আধার পেয়ে চন্দনা তাই মুকুল হয়ে, ব্যাথার কথায় গদ্যে পদ্যে এখন লিপি সাজায় ।। এখন কাগজ ভরায় ।।