চান্দনা সেনগুপ্ত
বুদ্ধি, পরিশ্রম ও লোকবল, এই তিন গুণ সম্বল আপন গরিমায় উজ্জ্বল - প্রসিদ্ধ দেশ চীন। সভ্যতার শিখরে পৌঁছানো বহু প্রাচীন। কিন্তু আজ কিভাবে তার বিশাল প্রাচীর ডিঙিয়ে সেখানে প্রবেশ করেছে সাংঘাতিক এক রাক্ষস অর্বাচিন। সেই শক্তিশালী চৈনিক নাগরিক তার কাছে হয়েছে পরাধীন। সকলের অগোচরে সে বংশ বিস্তারে হাজারে হাজারে ঘোরে ফেরে, হানা দেয় তারা প্রতি ঘরে ঘরে। নিশ্চিন্তে কর্মরত শত শত শ্রমিক, কর্মী, যুবক, ছাত্র, শিশু ও বৃদ্ধ, পাত্রী - পাত্র, কাউকে ছাড়ে না, করে আচমকা আক্রমণ। নাম তার করোনা ভাইরাস, যার ত্রাস - সমগ্র বিশ্বে তুলেছে এবার মহা আলোড়ন। জ্ঞানী, বিজ্ঞানী, ধনী, নির্ধন, সবাইকে করলো সেই জীবাণু সংক্রামন, - বিপন্ন করে তুললো, মানব জাতির সুস্থ জীবন। কে করে করবে রক্ষণাবেক্ষণ? দেশে দেশে বানানো হলো গবেষণাগার হাজার হাজার - হাসপাতাল ভবনের উন্মোচন। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ কর্মীর দল প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে - রোগীদের যত্নে ব্যস্ত সারাক্ষন। কাশি, জ্বর ও শ্বাস রোধ সজীব প্রাণের সঙ্গে বিরোধ, 'করোনা ভাইরাস' কে করতে দমন কত সহস্র মানুষ দিলেন তাঁদের শ্রমদান ও প্রাণ বিসর্জন। মানুষের কাছে চির নমস্য তাঁরা, ব্যর্থ যাবে কি তাঁদের এই মৃত্যু বরণ? পৃথিবীর ইতিহাসে, অট্টহাসি হাসে, - এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে অসাধারণ। পেয়েছি আমরা যুগে যুগে এমন অনেক উদাহরণ। জেনেছি, এমনিভাবে লোভে, পাপে, অত্যাচারে, ক্ষমতার অহংকারে - উদ্ধত রাজারা ছুঁয়েছে, আকাশ গগন, বিকাশের ধারা রুদ্ধ হয়েছে, চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছে মুকুট, ধুলায় লুটিয়ে পড়েছে তখন তাদের সোনার সিংহাসন। ভেঙে পড়ে গেছে, সভ্যতার তোরণ।। "করোনা কোভেড-(১৯) উনিশ" দু হাজার বিষ (২০২০) কে - করে দিলো পজেটিভ এখন। জাগিয়ে দিলো, নাড়িয়ে দিলো, - ঝাঁকিয়ে দিলো, সমস্ত মানব সত্তা - তাদের অবচেতন মন। "দানব দমন করো, দানব দমন" দেহের শক্তি আসুক ফিরে - চিৎকারে, হুঙ্কারে ভয় দেখাও তারে - গুহার গর্তে, নিজের আবর্তে বসে যুদ্ধ করে যাও সারাক্ষণ। সচকিত সজাগ হোক তাই, সমগ্র ভুবন। সবাই এক হয়ে জাত-পাত ধর্ম বা বর্ণ বিদ্বেষ ভুলে করো ঐ ভাইরাসের নিধন, ঘুচাও তার সকল আস্ফালন সকারাত্মক উদ্যোম নিয়ে এ জগতে এতদিন পর এলো যে নব জাগরণ।